০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

❖ দেশের ১৬ ভাগ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত- কিডনি ফাউন্ডেশন
❖ বেড়েছে শিশুমৃত্যুর হার এবং কমেছে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু
❖ বিদেশে চিকিৎসা বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা-বিডা

তীব্র গরমে সারাদেশে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক অধিকার খাদ্য। তবে সে খাবার অবশ্যই হতে হয় বিশুদ্ধ বা স্বাস্থ্যসম্মত। দূষিত বা ভেজালমিশ্রিত খাদ্য মানুষের জন্য স্বাস্থ্যহানির কারণ হয়ে থাকে। কিন্তু বিশুদ্ধ খাবার খুঁজে পাওয়া যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজার থেকে কেনা কোনো খাদ্যই যেন আর বিশুদ্ধ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে হলুদ, মরিচ, ধনিয়াগুঁড়া, জিরা ও মশলায় মিশ্রিত হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ। কাপড়ের বিষাক্ত রং, ধানের তুঁস, ইট, কাঠেরগুঁড়া, মটর ডাল ও সুজি মেশানো হয় খাবারের মশলায়। ভোজ্যতেল, আটা, চিনি, কেক, বিস্কুট কিছুই আজ ভেজালমুক্ত নয়।

 

 

শাকসবজি-ফলমূলে ফরমালিনসহ শত শত প্রাণঘাতী পন্থা আমাদের সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থাকে চরম হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ কারণে ক্যানসার, লিভার সিরোসিসসহ নানা রকম অসংক্রামক রোগে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ১৬ ভাগ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত, যার মূল কারণ রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত খাদ্যগ্রহণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রতিবেদন (২০২৩) বলছে, দেশে শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে এবং কমেছে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু। এই পরিস্থিতির পেছনে ভেজাল খাদ্যেরও দায় অনেক। এটা তো গেল স্বাস্থ্যগত দিক। এটার আর্থিক দিক যদি নিরূপণ করা হয়, তবে সেটি হবে ভয়াবহ। যারা দেশের ভেতরে চিকিৎসা নিচ্ছে, তাদের আর্থিক ব্যয়ের তথ্য পাওয়া কঠিন।

 

 

বিডার সর্বশেষ (২০২১ সাল) তথ্যমতে, এখন বছরে চিকিৎসার জন্য ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে ৭ লাখ রোগী। এর মধ্যে ভারতেই যাচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার, যা মোট রোগীর ৩৪ শতাংশ। এতে রোগীর পরিবারের ব্যয় হচ্ছে ৪০০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

 

 

জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারে ৮২টি খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা হয়। এতে গড়ে ৪০ শতাংশ খাদ্যেই মানবদেহের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ২০ গুণ বেশি নিষিদ্ধ ডিডিটি, এলড্রিন, ক্লোরডেন, হেপ্টাক্লোর এবং অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যায়। এসব রাসায়নিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। ৩৫ শতাংশ ফল ও ৫০ শতাংশ শাকসবজির নমুনাতেই বিষাক্ত বিভিন্ন কীটনাশকের উপস্থিতি রয়েছে। চালের ১৩টি নমুনায় মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত বিষক্রিয়া সম্পন্ন আর্সেনিক, পাঁচটি নমুনায় পাওয়া গেছে ক্রোমিয়াম। হলুদের গুঁড়ার ৩০টি নমুনায় ছিল সিসা ও অন্যান্য ধাতু। লবণেও সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০-৫০ গুণ বেশি সিসা পাওয়া গেছে। মুরগির মাংস ও মাছে পাওয়া গেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব। হলুদ ও লবণে সিসাসহ আরো কিছু ধাতব উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে এগুলো চকচকে ও ভারি করা হয়।

 

 

বিএসটিআই ও ক্যাবের অনুসন্ধানে এমন চিত্র বেরিয়ে আসে। বাজারের ৮৫ শতাংশ মাছে ফরমালিন মিশিয়ে পচন রোধ করা হয়। শাক-সবজিতে বিষাক্ত স্প্রে, সব ধরনের ফলমূল দ্রুত পাকিয়ে রঙিন বানাতে সর্বত্র কার্বাইড, ইথোফেন আর পচন রোধে ফরমালিন প্রয়োগ করা হচ্ছে।

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ ভেজাল ও দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয়। এর মধ্যে মারা যায় চার লাখ ৪২ হাজার। এছাড়া দূষিত খাদ্য গ্রহণজনিত কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সের আক্রান্ত হওয়া ৪৩ শতাংশ শিশুর মধ্যে মৃত্যুবরণ করে এক লাখ ২৫ হাজার।

 

 

পরিবেশ বাঁচাও অন্দোলনের (পবা) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে প্রতি বছর দেশে তিন লাখ ক্যান্সারে, দুই লাখ কিডনি রোগে, দেড় লাখ লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া গর্ভবতী মা ১৫ লাখ বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মদান করেন। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে হেপাটাইটিস, কিডনি, লিভার ও ফুসফুস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে চলেছে।

 

 

 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় গড়ে তোলা দেশের সর্বাধিক খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেশের ৪০ শতাংশ খাদ্যেই ভয়ংকর সব ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সমীক্ষা মতে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

 

 

 

ভোক্তাদের অভিযোগ, লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। প্রভাবশালী কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। ভেজালের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি। ভেজাল প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে অতি মুনাফালোভী, অসাধু খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে পারলে এ ক্ষেত্রে সুফল মিলতে পারে বলে মনে করেন সাধারণ ভোক্তারা।

 

 

 

 

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন সবুজ বাংলাকে বলেন, ভেজালের দৌরাত্ম বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় পার পেয়ে যাচ্ছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকার কারণে তার পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

 

খাদ্যের ভেজাল দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম জানতে চাইলে, আবু নূর মো. শামসুজ্জামান সদস্য (খাদ্যভোগ ও ভোক্তা অধিকার) দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রমজান মাসে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমানে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য যৌথ উদ্যোগে কাজ পরিচালনা আরও জোরদার করা হবে। আশাকরি, সামনে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হবে।

 

 

খাদ্যের এই ভোজাল উপাদান মানুষের স্থাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট পরিচালক ডা. খালেদা ইসলাম সবুজ বাংলাকে বলেন, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এভাবে যদি হয় তাহলে দিন দিন এটির পরিমাণ বাড়বে। সুতরাং এটি মানবদেহের জন্য কখনো মঙ্গলজনক না। এই বিষয়গুলো প্রতিরোধে সঠিক পদক্ষেপ জরুরি।

 

 

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ নামে একটি আইন আছে। সেই আইনের তেমন কোনো কার্যকর বা প্রয়োগ না থাকায় ভেজালের মতো অপরাধ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে জয় কানাডা-ওমান ও নামিবিয়ার

খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

❖ দেশের ১৬ ভাগ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত- কিডনি ফাউন্ডেশন
❖ বেড়েছে শিশুমৃত্যুর হার এবং কমেছে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু
❖ বিদেশে চিকিৎসা বাবদ বছরে ব্যয় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা-বিডা

তীব্র গরমে সারাদেশে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক অধিকার খাদ্য। তবে সে খাবার অবশ্যই হতে হয় বিশুদ্ধ বা স্বাস্থ্যসম্মত। দূষিত বা ভেজালমিশ্রিত খাদ্য মানুষের জন্য স্বাস্থ্যহানির কারণ হয়ে থাকে। কিন্তু বিশুদ্ধ খাবার খুঁজে পাওয়া যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজার থেকে কেনা কোনো খাদ্যই যেন আর বিশুদ্ধ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে হলুদ, মরিচ, ধনিয়াগুঁড়া, জিরা ও মশলায় মিশ্রিত হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ। কাপড়ের বিষাক্ত রং, ধানের তুঁস, ইট, কাঠেরগুঁড়া, মটর ডাল ও সুজি মেশানো হয় খাবারের মশলায়। ভোজ্যতেল, আটা, চিনি, কেক, বিস্কুট কিছুই আজ ভেজালমুক্ত নয়।

 

 

শাকসবজি-ফলমূলে ফরমালিনসহ শত শত প্রাণঘাতী পন্থা আমাদের সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থাকে চরম হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ কারণে ক্যানসার, লিভার সিরোসিসসহ নানা রকম অসংক্রামক রোগে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ১৬ ভাগ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত, যার মূল কারণ রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত খাদ্যগ্রহণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রতিবেদন (২০২৩) বলছে, দেশে শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে এবং কমেছে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু। এই পরিস্থিতির পেছনে ভেজাল খাদ্যেরও দায় অনেক। এটা তো গেল স্বাস্থ্যগত দিক। এটার আর্থিক দিক যদি নিরূপণ করা হয়, তবে সেটি হবে ভয়াবহ। যারা দেশের ভেতরে চিকিৎসা নিচ্ছে, তাদের আর্থিক ব্যয়ের তথ্য পাওয়া কঠিন।

 

 

বিডার সর্বশেষ (২০২১ সাল) তথ্যমতে, এখন বছরে চিকিৎসার জন্য ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যাচ্ছে ৭ লাখ রোগী। এর মধ্যে ভারতেই যাচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার, যা মোট রোগীর ৩৪ শতাংশ। এতে রোগীর পরিবারের ব্যয় হচ্ছে ৪০০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

 

 

জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারে ৮২টি খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা হয়। এতে গড়ে ৪০ শতাংশ খাদ্যেই মানবদেহের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ২০ গুণ বেশি নিষিদ্ধ ডিডিটি, এলড্রিন, ক্লোরডেন, হেপ্টাক্লোর এবং অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যায়। এসব রাসায়নিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। ৩৫ শতাংশ ফল ও ৫০ শতাংশ শাকসবজির নমুনাতেই বিষাক্ত বিভিন্ন কীটনাশকের উপস্থিতি রয়েছে। চালের ১৩টি নমুনায় মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত বিষক্রিয়া সম্পন্ন আর্সেনিক, পাঁচটি নমুনায় পাওয়া গেছে ক্রোমিয়াম। হলুদের গুঁড়ার ৩০টি নমুনায় ছিল সিসা ও অন্যান্য ধাতু। লবণেও সহনীয় মাত্রার চেয়ে ২০-৫০ গুণ বেশি সিসা পাওয়া গেছে। মুরগির মাংস ও মাছে পাওয়া গেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব। হলুদ ও লবণে সিসাসহ আরো কিছু ধাতব উপাদান প্রয়োগের মাধ্যমে এগুলো চকচকে ও ভারি করা হয়।

 

 

বিএসটিআই ও ক্যাবের অনুসন্ধানে এমন চিত্র বেরিয়ে আসে। বাজারের ৮৫ শতাংশ মাছে ফরমালিন মিশিয়ে পচন রোধ করা হয়। শাক-সবজিতে বিষাক্ত স্প্রে, সব ধরনের ফলমূল দ্রুত পাকিয়ে রঙিন বানাতে সর্বত্র কার্বাইড, ইথোফেন আর পচন রোধে ফরমালিন প্রয়োগ করা হচ্ছে।

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৬০ কোটি মানুষ ভেজাল ও দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হয়। এর মধ্যে মারা যায় চার লাখ ৪২ হাজার। এছাড়া দূষিত খাদ্য গ্রহণজনিত কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সের আক্রান্ত হওয়া ৪৩ শতাংশ শিশুর মধ্যে মৃত্যুবরণ করে এক লাখ ২৫ হাজার।

 

 

পরিবেশ বাঁচাও অন্দোলনের (পবা) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে প্রতি বছর দেশে তিন লাখ ক্যান্সারে, দুই লাখ কিডনি রোগে, দেড় লাখ লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া গর্ভবতী মা ১৫ লাখ বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মদান করেন। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে হেপাটাইটিস, কিডনি, লিভার ও ফুসফুস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে চলেছে।

 

 

 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় গড়ে তোলা দেশের সর্বাধিক খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেশের ৪০ শতাংশ খাদ্যেই ভয়ংকর সব ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সমীক্ষা মতে, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

 

 

 

ভোক্তাদের অভিযোগ, লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। প্রভাবশালী কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। ভেজালের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি। ভেজাল প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে অতি মুনাফালোভী, অসাধু খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে পারলে এ ক্ষেত্রে সুফল মিলতে পারে বলে মনে করেন সাধারণ ভোক্তারা।

 

 

 

 

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন সবুজ বাংলাকে বলেন, ভেজালের দৌরাত্ম বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় পার পেয়ে যাচ্ছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকার কারণে তার পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

 

খাদ্যের ভেজাল দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম জানতে চাইলে, আবু নূর মো. শামসুজ্জামান সদস্য (খাদ্যভোগ ও ভোক্তা অধিকার) দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, রমজান মাসে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বর্তমানে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য যৌথ উদ্যোগে কাজ পরিচালনা আরও জোরদার করা হবে। আশাকরি, সামনে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হবে।

 

 

খাদ্যের এই ভোজাল উপাদান মানুষের স্থাস্থ্যের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর জানতে চাইলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট পরিচালক ডা. খালেদা ইসলাম সবুজ বাংলাকে বলেন, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এভাবে যদি হয় তাহলে দিন দিন এটির পরিমাণ বাড়বে। সুতরাং এটি মানবদেহের জন্য কখনো মঙ্গলজনক না। এই বিষয়গুলো প্রতিরোধে সঠিক পদক্ষেপ জরুরি।

 

 

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ নামে একটি আইন আছে। সেই আইনের তেমন কোনো কার্যকর বা প্রয়োগ না থাকায় ভেজালের মতো অপরাধ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।