০৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০০ কূপ খনন করবে পেট্রোবাংলা

❖দেশীয় গ্যাসে চার টাকা, আমদানিতে ৬০ টাকা প্রতিইউনিট
❖জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে দেড় হাজার এমএফসিএফ গ্যাস
❖তিন শতাধিক সম্ভাবনাময় এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে

 

চলমান ডলার সংকট ও ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে নিজস্ব অনুসন্ধান ও কূপ খননে মনযোগী হচ্ছে সরকার। অস্থির ডলার বাজারে উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি থেকে সরে আসার চিন্তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরবরাহ ঠিক রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে পেট্রোবাংলা স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের কাজে ব্যয় ধরা হয় ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা। চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় এছাড়া আরও ৩ হাজার ৭৭২ কোটি টাকায় টুডি ও থ্রিডি সাইসমিক সার্ভে (ভূকম্পন জরিপ) করা হবে। অর্থাৎ আগামী চার বছরে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ২২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

 

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৮ সালের মধ্যে প্রস্তাবিত ৬৯টি কূপ খনন কার্যক্রমের সফল সমাপ্তি হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৯৮৫ এমএফসিএফ হারে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাপেক্স, বিজএফসিএল এবং এসজিএফসিএল কর্তৃক প্রস্তাবিত মোট ৩১টি ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

 

এদিকে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা উচ্চভিলাষী পরিকল্পনা। এই সময়ের মধ্যে অর্ধেক কূপ খনন করাও সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন এক বিশেষজ্ঞ। কারণ পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের অপ্রতুল লোকবল দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা দূরূহ ব্যাপার হবে।

 

খননকাজের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জনবল স্বল্পতার কথা জানা যায়।

 

সূত্র জানায়, চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০টি নতুন এবং পুরোনো কূপ খনন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। পেট্রোবাংলা বর্তমানে দৈনিক অতিরিক্ত ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৪৮টি অনুসন্ধানমূলক, উন্নয়ন ও সংস্কারপূর্ণ কূপ খননের জন্য আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব কূপের মধ্যে ২৩টির খননকাজ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাপেক্স পরিচালনা করবে। বাকি ২৫টির কাজ আউটসোর্সের মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানি দিয়ে করা হবে।

 

পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু আমদানি করা ৬৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ দৈনিক গড় সরবরাহ মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের দৈনিক ঘাটতি রয়েছে দেশে।

 

আমদানি নির্ভর জ্বালানি খাত এভাবে টানা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও ধারণা অনেকের। সম্প্রতি এক আলোচনায় জ্বালানি সচিব মন্তব্য করেন, নিজস্ব উৎপাদন না বাড়িয়ে এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ওপর নির্ভরতা বাড়লে গ্যাসের দাম কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে, সেটি ভাবার সময় এসেছে।

 

এছাড়া অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রতিদিন আরো এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। দেশীয় গ্যাস ফিল্ড থেকে এ গ্যাস পেলে প্রতি ইউনিটে চার টাকা খরচ হয়। একই পরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে ৬০ টাকা খরচ হয়। তাই এই খরচ বাঁচাতে পারলে তা হবে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

 

 

২০২৯-৩০ সালের মধ্যে দেশের গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৬ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট হবে বলে অনুমান করছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার একটি নথির বিবরণ অনুযায়ী, এ ব্যবধান পূরণ করতে সরকার অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অনশোর এবং অফশোর প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি এরই মধ্যে দুটি অফশোর ব্লকে নতুন মজুদ অনুসন্ধানে কাজ করছে। অফশোর তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আরো বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

 

পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, ১০০টি কূপের মধ্যে বাপেক্স ৫২টি নতুন কূপ খনন করবে এবং বিদ্যমান ১৬টি কূপের সংস্কার করবে। এছাড়া বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড ৯টি নতুন কূপ খনন করবে এবং পুরোনো সংস্কারপূর্ণ ১২টিতে খননকাজ চালাবে এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ৮টি নতুন কূপ খনন করবে এবং পুরোনো ৩টিতে সংস্কারকাজ চালাবে। এজন্য তিন শতাধিক সম্ভাবনাময় এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে ১০০টি কূপ চূড়ান্ত করা হবে। আমাদের বর্তমান এবং সাবেক প্রকৌশলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

 

নতুন পরিকল্পনার বিষয় জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ৪৬টি কূপ খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের একসঙ্গে ছয়টি রিগ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বাপেক্সের রয়েছে মাত্র চারটি রিগ। নতুন আরো ১০০টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা নিয়েছি, সেখানে আরো ছয়টি রিগ লাগবে। সে কারণেই বাপেক্সের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি কম্পানিকে দিয়ে কূপ খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ৪৮ কূপ খননের চলমান প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবে। দেশ এরই মধ্যে এ গ্যাস অনুসন্ধান কর্মসূচির সুফল পেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ১০টি কূপ সফলভাবে খননের মাধ্যমে দৈনিক ১৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা বেড়েছে বাংলাদেশে। যদিও আমরা দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট উৎপাদন বৃদ্ধির আশা করেছিলাম। চলমান প্রকল্পে সফল হলে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।

 

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়েব জানান, দেশে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস দরকার। বাপেক্সের সব খননযন্ত্র কাজে আছে, কোনোটি বসে নেই। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে কিছু বিদেশি কোম্পানিও কাজ করছে।

 

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম জানান, দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। উদ্যোগটি আরো আগে নিলে এখন গ্যাসসংকটের মধ্যে পড়তে হতো না। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানের জোরাল উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

১০০ কূপ খনন করবে পেট্রোবাংলা

আপডেট সময় : ০৭:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

❖দেশীয় গ্যাসে চার টাকা, আমদানিতে ৬০ টাকা প্রতিইউনিট
❖জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে দেড় হাজার এমএফসিএফ গ্যাস
❖তিন শতাধিক সম্ভাবনাময় এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে

 

চলমান ডলার সংকট ও ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে নিজস্ব অনুসন্ধান ও কূপ খননে মনযোগী হচ্ছে সরকার। অস্থির ডলার বাজারে উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি থেকে সরে আসার চিন্তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরবরাহ ঠিক রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে পেট্রোবাংলা স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রকল্পের কাজে ব্যয় ধরা হয় ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা। চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় এছাড়া আরও ৩ হাজার ৭৭২ কোটি টাকায় টুডি ও থ্রিডি সাইসমিক সার্ভে (ভূকম্পন জরিপ) করা হবে। অর্থাৎ আগামী চার বছরে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ২২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

 

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৮ সালের মধ্যে প্রস্তাবিত ৬৯টি কূপ খনন কার্যক্রমের সফল সমাপ্তি হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৯৮৫ এমএফসিএফ হারে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাপেক্স, বিজএফসিএল এবং এসজিএফসিএল কর্তৃক প্রস্তাবিত মোট ৩১টি ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

 

এদিকে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা উচ্চভিলাষী পরিকল্পনা। এই সময়ের মধ্যে অর্ধেক কূপ খনন করাও সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন এক বিশেষজ্ঞ। কারণ পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের অপ্রতুল লোকবল দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা দূরূহ ব্যাপার হবে।

 

খননকাজের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জনবল স্বল্পতার কথা জানা যায়।

 

সূত্র জানায়, চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০টি নতুন এবং পুরোনো কূপ খনন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। পেট্রোবাংলা বর্তমানে দৈনিক অতিরিক্ত ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৪৮টি অনুসন্ধানমূলক, উন্নয়ন ও সংস্কারপূর্ণ কূপ খননের জন্য আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব কূপের মধ্যে ২৩টির খননকাজ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাপেক্স পরিচালনা করবে। বাকি ২৫টির কাজ আউটসোর্সের মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানি দিয়ে করা হবে।

 

পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী, দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু আমদানি করা ৬৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ দৈনিক গড় সরবরাহ মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের দৈনিক ঘাটতি রয়েছে দেশে।

 

আমদানি নির্ভর জ্বালানি খাত এভাবে টানা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও ধারণা অনেকের। সম্প্রতি এক আলোচনায় জ্বালানি সচিব মন্তব্য করেন, নিজস্ব উৎপাদন না বাড়িয়ে এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ওপর নির্ভরতা বাড়লে গ্যাসের দাম কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকবে, সেটি ভাবার সময় এসেছে।

 

এছাড়া অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রতিদিন আরো এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। দেশীয় গ্যাস ফিল্ড থেকে এ গ্যাস পেলে প্রতি ইউনিটে চার টাকা খরচ হয়। একই পরিমাণ গ্যাস আমদানি করতে ৬০ টাকা খরচ হয়। তাই এই খরচ বাঁচাতে পারলে তা হবে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

 

 

২০২৯-৩০ সালের মধ্যে দেশের গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৬ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট হবে বলে অনুমান করছে পেট্রোবাংলা। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার একটি নথির বিবরণ অনুযায়ী, এ ব্যবধান পূরণ করতে সরকার অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অনশোর এবং অফশোর প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি এরই মধ্যে দুটি অফশোর ব্লকে নতুন মজুদ অনুসন্ধানে কাজ করছে। অফশোর তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আরো বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

 

পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, ১০০টি কূপের মধ্যে বাপেক্স ৫২টি নতুন কূপ খনন করবে এবং বিদ্যমান ১৬টি কূপের সংস্কার করবে। এছাড়া বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড ৯টি নতুন কূপ খনন করবে এবং পুরোনো সংস্কারপূর্ণ ১২টিতে খননকাজ চালাবে এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ৮টি নতুন কূপ খনন করবে এবং পুরোনো ৩টিতে সংস্কারকাজ চালাবে। এজন্য তিন শতাধিক সম্ভাবনাময় এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে ১০০টি কূপ চূড়ান্ত করা হবে। আমাদের বর্তমান এবং সাবেক প্রকৌশলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

 

নতুন পরিকল্পনার বিষয় জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ৪৬টি কূপ খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের একসঙ্গে ছয়টি রিগ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বাপেক্সের রয়েছে মাত্র চারটি রিগ। নতুন আরো ১০০টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা নিয়েছি, সেখানে আরো ছয়টি রিগ লাগবে। সে কারণেই বাপেক্সের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি কম্পানিকে দিয়ে কূপ খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ৪৮ কূপ খননের চলমান প্রকল্প দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হবে। দেশ এরই মধ্যে এ গ্যাস অনুসন্ধান কর্মসূচির সুফল পেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ১০টি কূপ সফলভাবে খননের মাধ্যমে দৈনিক ১৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা বেড়েছে বাংলাদেশে। যদিও আমরা দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট উৎপাদন বৃদ্ধির আশা করেছিলাম। চলমান প্রকল্পে সফল হলে আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।

 

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়েব জানান, দেশে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস দরকার। বাপেক্সের সব খননযন্ত্র কাজে আছে, কোনোটি বসে নেই। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে কিছু বিদেশি কোম্পানিও কাজ করছে।

 

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম জানান, দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। উদ্যোগটি আরো আগে নিলে এখন গ্যাসসংকটের মধ্যে পড়তে হতো না। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধানের জোরাল উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।