০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক সংকট কাটছে না বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

◉নিয়োগ দিতে এনটিআরসিএর ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সাড়া মেলেনি
◉৯৬ হাজার ৭৩৬ পদের বিপরীতে আবেদন ২৩ হাজার
◉অবসরের কারণে শিক্ষক সংকট বাড়ছেই
◉বিপাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। একদিকে শিক্ষক নিয়োগ ধীরগতি, অন্যদিকে পর্যায়ক্রমে অবসরে যাওয়ার কারণে এ সংকট কাটছে না। উদ্ভূত সংকট কাটাতে সম্প্রতি ৯৬ হাজার ৭৩৬টি পদ শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের তেমন সাড়া পড়েনি। শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ২৪ হাজারেরও কম। আবার এই আবেদন থেকেও বাদ পড়বেন অনেকেই। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় ৭৫ শতাংশের বেশি শিক্ষকের পদই ফাঁকা থাকছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষক নেতা ও ঢাকা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দিন গতকাল সবুজ বাংলাকে বলেন, আমার কলেজে গত তিন বছর ধরে সাতটি পোস্ট খালি। বারবার চাহিদা দিয়েও শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকে আবার অবসরে যাচ্ছেন। তাই সংকট আরও বাড়বে।

শিক্ষক সংকটের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিবন্ধনধারীদের বয়সের যে সীমা নির্ধারণ করেছে তা অযৌক্তিক। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাও বাড়ে। অথচ ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর করা হয়। প্রায় ৯৭ হাজার শূন্যপদের বিপরীতে নিবন্ধনধারীর সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া নিবন্ধনধারীদের অনেকে অন্য চাকরিতে ঢুকেছেন। আবার বয়সসীমার কারণে অনেকে আবেদন করতে পারেননি। তাছাড়া নিবন্ধন সনদের মেয়াদ কখনো ৫ বছর, কখনো আজীবন, বর্তমানে তিন বছর করা হয়েছে। এতেও জলিটতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বয়সসীমা কমানো এবং দ্রুত নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজন ও নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠা দরকার।

এনটিআরসিএ‘র সচিব ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ২৩ হাজার ৯৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। আমরা আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করছি। প্রাথমিক সুপারিশ থেকে কিছু প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন।

জানা গেছে, ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে কেবলমাত্র ১৬তম ও ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পেরেছেন। তবে ১৬তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ অধিকাংশ প্রার্থী চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছেন। ফলে আবেদন আরও কমেছে। এছাড়া ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হলেও বয়স শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই আবেদন করতে পারেননি। এটিও আবেদন কম হওয়ার কারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএ’র এক কর্মকর্তা জানান, নিবন্ধন সনদের মেয়াদ তিন বছর। এটি ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বয়স ৩৫ বছর না হলেও অসংখ্য প্রার্থী আবেদন করতে পারেননি।

এদিকে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের আবেদনের সুযোগ না থাকলেও তারা তথ্য গোপন করে আবেদন করেছেন। সেই আবেদনগুলো খুঁজে বের করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবেদনগুলো খুঁজে বের করার ওপর প্রাথমিক সুপারিশের সময় নির্ভর করছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক সুপারিশের বিষয়ে এনটিআরসিএ সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত প্রাথমিক সুপারিশের ফল প্রকাশ করতে। ইনডেক্সধারীরা গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কবে সুপারিশ করা হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে কোরবানি ঈদের আগেই প্রাথমিক সুপারিশের ফল প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ৩১ মার্চ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯৬ হাজার ৭৩৬টি পদে শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজে পদ সংখ্যা ৪৩ হাজার ২৮৬, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৫৩ হাজার ৪৫০টি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১৭ এপ্রিল থেকে আবেদনগ্রহণ শুরু হয়, যা ১৬ মে শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই প্রাথমিক সুপারিশ করা হতে পারে।

এর আগে ১৬ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ১৮,৫৫০ জন উত্তীর্ণ হন। সার্বিক পাসের হার ছিল ৯২.১৫। আর ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২৩ হাজার ৯৮৫ জন।

শিক্ষক সংকট কাটছে না বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

◉নিয়োগ দিতে এনটিআরসিএর ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সাড়া মেলেনি
◉৯৬ হাজার ৭৩৬ পদের বিপরীতে আবেদন ২৩ হাজার
◉অবসরের কারণে শিক্ষক সংকট বাড়ছেই
◉বিপাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। একদিকে শিক্ষক নিয়োগ ধীরগতি, অন্যদিকে পর্যায়ক্রমে অবসরে যাওয়ার কারণে এ সংকট কাটছে না। উদ্ভূত সংকট কাটাতে সম্প্রতি ৯৬ হাজার ৭৩৬টি পদ শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের তেমন সাড়া পড়েনি। শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ২৪ হাজারেরও কম। আবার এই আবেদন থেকেও বাদ পড়বেন অনেকেই। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় ৭৫ শতাংশের বেশি শিক্ষকের পদই ফাঁকা থাকছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষক নেতা ও ঢাকা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দিন গতকাল সবুজ বাংলাকে বলেন, আমার কলেজে গত তিন বছর ধরে সাতটি পোস্ট খালি। বারবার চাহিদা দিয়েও শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকে আবার অবসরে যাচ্ছেন। তাই সংকট আরও বাড়বে।

শিক্ষক সংকটের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিবন্ধনধারীদের বয়সের যে সীমা নির্ধারণ করেছে তা অযৌক্তিক। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাও বাড়ে। অথচ ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর করা হয়। প্রায় ৯৭ হাজার শূন্যপদের বিপরীতে নিবন্ধনধারীর সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া নিবন্ধনধারীদের অনেকে অন্য চাকরিতে ঢুকেছেন। আবার বয়সসীমার কারণে অনেকে আবেদন করতে পারেননি। তাছাড়া নিবন্ধন সনদের মেয়াদ কখনো ৫ বছর, কখনো আজীবন, বর্তমানে তিন বছর করা হয়েছে। এতেও জলিটতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বয়সসীমা কমানো এবং দ্রুত নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজন ও নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠা দরকার।

এনটিআরসিএ‘র সচিব ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ২৩ হাজার ৯৩২ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। আমরা আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করছি। প্রাথমিক সুপারিশ থেকে কিছু প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন।

জানা গেছে, ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে কেবলমাত্র ১৬তম ও ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পেরেছেন। তবে ১৬তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ অধিকাংশ প্রার্থী চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছেন। ফলে আবেদন আরও কমেছে। এছাড়া ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হলেও বয়স শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই আবেদন করতে পারেননি। এটিও আবেদন কম হওয়ার কারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএ’র এক কর্মকর্তা জানান, নিবন্ধন সনদের মেয়াদ তিন বছর। এটি ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে বয়স ৩৫ বছর না হলেও অসংখ্য প্রার্থী আবেদন করতে পারেননি।

এদিকে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের আবেদনের সুযোগ না থাকলেও তারা তথ্য গোপন করে আবেদন করেছেন। সেই আবেদনগুলো খুঁজে বের করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আবেদনগুলো খুঁজে বের করার ওপর প্রাথমিক সুপারিশের সময় নির্ভর করছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক সুপারিশের বিষয়ে এনটিআরসিএ সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত প্রাথমিক সুপারিশের ফল প্রকাশ করতে। ইনডেক্সধারীরা গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। কবে সুপারিশ করা হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে কোরবানি ঈদের আগেই প্রাথমিক সুপারিশের ফল প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ৩১ মার্চ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯৬ হাজার ৭৩৬টি পদে শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজে পদ সংখ্যা ৪৩ হাজার ২৮৬, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৫৩ হাজার ৪৫০টি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১৭ এপ্রিল থেকে আবেদনগ্রহণ শুরু হয়, যা ১৬ মে শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই প্রাথমিক সুপারিশ করা হতে পারে।

এর আগে ১৬ তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় ১৮,৫৫০ জন উত্তীর্ণ হন। সার্বিক পাসের হার ছিল ৯২.১৫। আর ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২৩ হাজার ৯৮৫ জন।