০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাসে মাসে খামারে থেকে আয় ৪-৫ লাখ টাকা,বান্দরবানের সফল উদ্যেক্তা খামারী আবু ছালাম

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 46

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের দানুসর্দার পাড়ার বাসিন্দা মোঃ আবু ছালাম (৩৫)। তরুণ এই উদ্যোক্তা ছোট বেলায় থেকে স্বপ্ন ছিল গরুর খামার করে একদিন সফল উদ্যেক্তা হবেন। সেই স্বপ্ন এখন ছুঁয়েছে আলীকদমের সাধারণ মানুষের দরবারের। তার ভাগ্যে পাল্টিয়ে দিয়েছে বরত্তমানে একজন সফল খামারী উদ্যেক্তা। তিনি শুধু সফল উদ্যক্তা নন সাধারণ মানুষের সেবা পৌঁছে দিতে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের একজন মেম্বারও। বর্তমানে তার খামার থেকে মাসিক আয় হয় চার-পাঁচ লক্ষ টাকা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মৃত: আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মোজাফ্ফর আহম্মেদ ছেলে মোঃ আবু ছালাম (৩৫)। বিগত কয়েক মাস আগে থেকে নিজের প্রচেষ্টায় শখের বসে একটি উন্নত মানের গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। পরে দীর্ঘদিন সময় ধরে একটি আর্দশ গরুর খামার করার সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া খামার থেকেই লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে ৩টি গরু নিয়ে শুরু করেছিল খামার। পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আগামী কোরবানির ঈদে খামারের গরুগুলো বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আলীকদমের সড়ক ঘেষে বাড়ি পাশে ৩ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি গরুর ফার্ম। খামারটিতে নাম দেওয়া হয়েছে স্বদেশ ফ্যানেটিং ডেইরি ফার্ম। খামারটি ভিতরে গরুর পরিচর্যার করতে শ্রমিক রাখা হয়েছে ৪জন। শুধু গরুর নয় তার রয়েছে মাছের পুকুর চাষ, বিভিন্ন ধরনের পাখি, মুরগী ও হাঁস স্ফ আরো অনান্য। একই স্থানে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন পশু- পাখি খামার। তার খামারে বর্তমানে মোটাজাত করণে ২৭ টি গরু রয়েছে। খামারে রয়েছে ২০ টি ষাঁড়, ৭ টি গাভী। প্রতিদিন ৫ টি গাভী প্রায় ৮০ লিটার দুধ দেয়। তার প্রত্যেক মাসে আয় হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস তিনি তিনটি গরু ধার দিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। তার কঠোর পরিশ্রম ও সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে বর্তমানে সফল তরুণ খামারী হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন। বর্তমানে আলীকদমের বিভিন্ন ক্যান্টিন কিংবা বাজারের তার খামারের দুধ বিক্রি হয়। তাছাড়া তার এই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে চারজন। তিনি একজন সফল তরুণ খামারী পাশাপাশি একজন জনপ্রতিনিধিও। নিজের খামারের সময়ও দিচ্ছেন এবং এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা করিম বলেন, আমরা আগে দেখেছি তিনি গরু ধার নিয়ে ছোট খামার শুরু করেছিলেন। এখন তার খামার অনেক বড় হয়ে গেছে। তার এই খামার দেখে স্থানীয়রাও উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তাই সবাই চেষ্টা করছি সফল একজন উদ্যেক্তা হওয়ার।

স্বদেশ ফ্যানেটিং ডেইরি ফার্মের কর্মচারী হৃদয় মোল্লা বলেন, আগে চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কাজ করেছি। দূরে হওয়াতেই পরিবারের কাছে আসা- যাওয়া কিংবা সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হত। তাই এখন গার্মেন্টস চাকরি ছেড়ে খামারের কাজ করছি। এতে আমার পরিবারের পাশে পেয়েছি আর নিজেও কর্মসংস্থান হয়েছে।

খামারি উদ্যোক্তা আবু ছালাম বলেন, আমার মায়ের কিছু আর্থিক সহায়তায় ও আমার কাছে যে টাকা গুলো ছিল সে টাকা দিয়ে স্বপ্নের স্বদেশ ফ্যানেটিং ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলেছি। আমি সরকারি কোন ধরনের ঋণ বা আর্থিক সহযোগিতা পাইনি। যদি সরকারি কোন ধরনের ঋণ সহায়তা অথবা প্রণোদনা পাই তাহলে আমার খামার টি আরও বড় করতে পারবো।

আবু ছালাম বলেন, আমার গরুর খামার দেখে এলাকার মানুষ খামার করতে উৎসাহ যোগাচ্ছেন। অনেক বেকার যুবক আমার কাছে এসে পরামর্শ চাইত কিভাবে খামার শুরু করব। আমি সবাইকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি বেকার সময় না কেটে নিজের প্রচেষ্টায় একটি উন্নত মানের গরুর খামার করার উদ্যোগ নেই। যার কারণ হচ্ছে অত্র এলাকায় অনেক বেকার যুবক- যুবতী অযথা সময় নষ্ট করছে তারা যেন আমাকে দেখে উপকৃত হয়ে তারা যেন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে। খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু লালন পালন করে থাকি। আগামী কোরবানির ঈদে আমি গরুগুলো বিক্রি করে লাভবান হতে পারবো বলে আশা করছি।

আলীকদম উপজেলার প্রানী সম্পদের কর্মকর্তা ডা: কালীশংকর পাল বলেন, আলীকদমের সড়কের পাশে একটি স্বদেশ ফ্যানেটিং ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছে। সেইখানে খামারী আবুল ছালাম ফার্ম পরিদর্শন করা হয়েছে। আমরা তাকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি কিভাবে খামারকে আরো প্রসারিত করা যায় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে গরু গুলোকে কিভাবে খাবার ও যত্ন নিতে হয়। তবে বেকার যুবকরা বেকারভাবে না ঘুরে যদি আবুল ছালামের মতন প্রত্যেক এলাকায় খামার গড়ে তুলত তাহলে দেশে বেকারত্ব কমে গিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি হত। তাই আমাদের প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে চেষ্টা চালাচ্ছি প্রনোদনা আওতায় আনার জন্য।

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল

মাসে মাসে খামারে থেকে আয় ৪-৫ লাখ টাকা,বান্দরবানের সফল উদ্যেক্তা খামারী আবু ছালাম

আপডেট সময় : ০৬:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের দানুসর্দার পাড়ার বাসিন্দা মোঃ আবু ছালাম (৩৫)। তরুণ এই উদ্যোক্তা ছোট বেলায় থেকে স্বপ্ন ছিল গরুর খামার করে একদিন সফল উদ্যেক্তা হবেন। সেই স্বপ্ন এখন ছুঁয়েছে আলীকদমের সাধারণ মানুষের দরবারের। তার ভাগ্যে পাল্টিয়ে দিয়েছে বরত্তমানে একজন সফল খামারী উদ্যেক্তা। তিনি শুধু সফল উদ্যক্তা নন সাধারণ মানুষের সেবা পৌঁছে দিতে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের একজন মেম্বারও। বর্তমানে তার খামার থেকে মাসিক আয় হয় চার-পাঁচ লক্ষ টাকা।

খোজ নিয়ে জানা যায়, আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মৃত: আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক মোজাফ্ফর আহম্মেদ ছেলে মোঃ আবু ছালাম (৩৫)। বিগত কয়েক মাস আগে থেকে নিজের প্রচেষ্টায় শখের বসে একটি উন্নত মানের গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। পরে দীর্ঘদিন সময় ধরে একটি আর্দশ গরুর খামার করার সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া খামার থেকেই লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে ৩টি গরু নিয়ে শুরু করেছিল খামার। পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আগামী কোরবানির ঈদে খামারের গরুগুলো বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আলীকদমের সড়ক ঘেষে বাড়ি পাশে ৩ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে একটি গরুর ফার্ম। খামারটিতে নাম দেওয়া হয়েছে স্বদেশ ফ্যানেটিং ডেইরি ফার্ম। খামারটি ভিতরে গরুর পরিচর্যার করতে শ্রমিক রাখা হয়েছে ৪জন। শুধু গরুর নয় তার রয়েছে মাছের পুকুর চাষ, বিভিন্ন ধরনের পাখি, মুরগী ও হাঁস স্ফ আরো অনান্য। একই স্থানে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন পশু- পাখি খামার। তার খামারে বর্তমানে মোটাজাত করণে ২৭ টি গরু রয়েছে। খামারে রয়েছে ২০ টি ষাঁড়, ৭ টি গাভী। প্রতিদিন ৫ টি গাভী প্রায় ৮০ লিটার দুধ দেয়। তার প্রত্যেক মাসে আয় হয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস তিনি তিনটি গরু ধার দিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। তার কঠোর পরিশ্রম ও সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে বর্তমানে সফল তরুণ খামারী হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন। বর্তমানে আলীকদমের বিভিন্ন ক্যান্টিন কিংবা বাজারের তার খামারের দুধ বিক্রি হয়। তাছাড়া তার এই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে চারজন। তিনি একজন সফল তরুণ খামারী পাশাপাশি একজন জনপ্রতিনিধিও। নিজের খামারের সময়ও দিচ্ছেন এবং এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা করিম বলেন, আমরা আগে দেখেছি তিনি গরু ধার নিয়ে ছোট খামার শুরু করেছিলেন। এখন তার খামার অনেক বড় হয়ে গেছে। তার এই খামার দেখে স্থানীয়রাও উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তাই সবাই চেষ্টা করছি সফল একজন উদ্যেক্তা হওয়ার।

স্বদেশ ফ্যানেটিং ডেইরি ফার্মের কর্মচারী হৃদয় মোল্লা বলেন, আগে চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কাজ করেছি। দূরে হওয়াতেই পরিবারের কাছে আসা- যাওয়া কিংবা সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হত। তাই এখন গার্মেন্টস চাকরি ছেড়ে খামারের কাজ করছি। এতে আমার পরিবারের পাশে পেয়েছি আর নিজেও কর্মসংস্থান হয়েছে।

খামারি উদ্যোক্তা আবু ছালাম বলেন, আমার মায়ের কিছু আর্থিক সহায়তায় ও আমার কাছে যে টাকা গুলো ছিল সে টাকা দিয়ে স্বপ্নের স্বদেশ ফ্যানেটিং ডেইরি ফার্ম গড়ে তুলেছি। আমি সরকারি কোন ধরনের ঋণ বা আর্থিক সহযোগিতা পাইনি। যদি সরকারি কোন ধরনের ঋণ সহায়তা অথবা প্রণোদনা পাই তাহলে আমার খামার টি আরও বড় করতে পারবো।

আবু ছালাম বলেন, আমার গরুর খামার দেখে এলাকার মানুষ খামার করতে উৎসাহ যোগাচ্ছেন। অনেক বেকার যুবক আমার কাছে এসে পরামর্শ চাইত কিভাবে খামার শুরু করব। আমি সবাইকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি বেকার সময় না কেটে নিজের প্রচেষ্টায় একটি উন্নত মানের গরুর খামার করার উদ্যোগ নেই। যার কারণ হচ্ছে অত্র এলাকায় অনেক বেকার যুবক- যুবতী অযথা সময় নষ্ট করছে তারা যেন আমাকে দেখে উপকৃত হয়ে তারা যেন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে। খামারে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু লালন পালন করে থাকি। আগামী কোরবানির ঈদে আমি গরুগুলো বিক্রি করে লাভবান হতে পারবো বলে আশা করছি।

আলীকদম উপজেলার প্রানী সম্পদের কর্মকর্তা ডা: কালীশংকর পাল বলেন, আলীকদমের সড়কের পাশে একটি স্বদেশ ফ্যানেটিং ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছে। সেইখানে খামারী আবুল ছালাম ফার্ম পরিদর্শন করা হয়েছে। আমরা তাকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি কিভাবে খামারকে আরো প্রসারিত করা যায় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে গরু গুলোকে কিভাবে খাবার ও যত্ন নিতে হয়। তবে বেকার যুবকরা বেকারভাবে না ঘুরে যদি আবুল ছালামের মতন প্রত্যেক এলাকায় খামার গড়ে তুলত তাহলে দেশে বেকারত্ব কমে গিয়ে কর্মসংস্থান তৈরি হত। তাই আমাদের প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে চেষ্টা চালাচ্ছি প্রনোদনা আওতায় আনার জন্য।