০৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইবিতে আড়াই ঘন্টা ফটক অবরোধ করে আন্দোলন 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রধান ফটক অবরোধ করে আড়াই ঘন্টা আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) ছাত্র শৃঙ্খলা সভা শেষে র‍্যাগিং কাণ্ডে দুই শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও তিন শিক্ষার্থীকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কারের বিষয় জানাজানি হলে প্রতিবাদে দুপুর সাড়ে ৩ টা থেকে প্রায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ আন্দোলন হয়। এতে ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো আটকা পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন করেন।
এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ‘ইবির আবিষ্কার কিছু হলেই বহিষ্কার, আমার ভাই বহিষ্কার কেন প্রশাসন জবাব চাই, প্রশাসনের সিধান্ত মানিনা মানছিনা’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের  সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের সাথে  আধা ঘন্টার বেশি সময় কথা বলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে অনুরোধ করে ব্যর্থ হন।
পরে বিকেল ৫ টা  বিকেল আবারও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি জানান, তাঁদেরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়নি। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে কেন বহিষ্কার করা হবেনা সেই মর্মে আত্মপক্ষ সমর্থন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করার সিধান্ত গৃহিত হয়েছে। সেসময় তার সাথে ছিলেন সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক কাজী মওদুদ , প্রভাষক ইয়ামিন মাসুম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহাদাৎ হোসেন আজাদকে অফিসিয়ালভাবে বিষয়টি জানাতে বলা হয়। এছাড়াও নতুন কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও তুচ্ছ ঘটনা দাবি করে শিক্ষার্থীদের যেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা না হয় সে দাবি জানিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এসময় দাবি মানা না হলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবারও আন্দোলন করার হুশিয়ারী দেন আন্দোলনকারীরা।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরে মাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় সেখানে বলা হয়,  ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাগিং এর বিষয়ে এবং চিকিৎসা কেন্দ্রে ভাংচুরের বিষয়ে পৃথক ২ টি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তা গ্রহন করা হয়। উক্ত রিপোর্টের আলোকে র‌্যাগিং এ সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় ৫ জনকে এবং মেডিকেল সেন্টারে ভাংচুর করার সংশ্লিটতা পাওয়ায় ১ জনকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।  কেন স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হবে না সেই মর্মে আত্মপক্ষ  সমর্থন  করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) ছাত্র-শৃঙ্খলা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমানকে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের হিশাম নাজির শুভ ও মিজানুর রহমান ইমনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। অন্য তিন অভিযুক্ত শাহরিয়ার পুলক, শেখ সালাউদ্দীন সাকিব ও সাদমান সাকিব আকিবকে এক বছরের জন্য জন্য বহিষ্কার করা হয়। এছাড়ার মেডিকল ভাংচুরের ঘটনায় আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ান সিদ্দীকি কাব্যকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। সভা শেষে এমনটিই গনমাধ্যমকর্মীদের জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ। এর পরে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক অবরোধ করে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমানকে র‍্যাগিং ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার একপাক্ষিক কথা শুনে আমাদের সহপাঠীদের বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বহিষ্কার আদেশ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। ওখানে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেনি এই মর্মে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর দিয়েছে সেটা তদন্ত কমিটি আমলে নেয়নি। প্রহসনের বিচার মানিনা আমরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহপাঠী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছোটখাটো বিষয়ে স্থায়ী বহিষ্কারের মত একটি বড় সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ছোটখাটো বিষয়ে স্থায়ী বহিষ্কার অন্তত মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
এ বিষয়ে ছাত্র শৃঙ্খলার সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, তদন্ত কমিটি র‍্যাগিং কান্ডের সত্যতা পাওয়ার পর ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনায় বসে ওদের কেনো বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিবে। তার পর আবার ছাত্র শৃঙ্খলা সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ইবিতে আড়াই ঘন্টা ফটক অবরোধ করে আন্দোলন 

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রধান ফটক অবরোধ করে আড়াই ঘন্টা আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) ছাত্র শৃঙ্খলা সভা শেষে র‍্যাগিং কাণ্ডে দুই শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার ও তিন শিক্ষার্থীকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কারের বিষয় জানাজানি হলে প্রতিবাদে দুপুর সাড়ে ৩ টা থেকে প্রায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ আন্দোলন হয়। এতে ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো আটকা পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন করেন।
এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ‘ইবির আবিষ্কার কিছু হলেই বহিষ্কার, আমার ভাই বহিষ্কার কেন প্রশাসন জবাব চাই, প্রশাসনের সিধান্ত মানিনা মানছিনা’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের  সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের সাথে  আধা ঘন্টার বেশি সময় কথা বলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে অনুরোধ করে ব্যর্থ হন।
পরে বিকেল ৫ টা  বিকেল আবারও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি জানান, তাঁদেরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়নি। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে কেন বহিষ্কার করা হবেনা সেই মর্মে আত্মপক্ষ সমর্থন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করার সিধান্ত গৃহিত হয়েছে। সেসময় তার সাথে ছিলেন সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক কাজী মওদুদ , প্রভাষক ইয়ামিন মাসুম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহাদাৎ হোসেন আজাদকে অফিসিয়ালভাবে বিষয়টি জানাতে বলা হয়। এছাড়াও নতুন কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত ও তুচ্ছ ঘটনা দাবি করে শিক্ষার্থীদের যেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা না হয় সে দাবি জানিয়ে আন্দোলন স্থগিত করা হয়। এসময় দাবি মানা না হলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবারও আন্দোলন করার হুশিয়ারী দেন আন্দোলনকারীরা।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরে মাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় সেখানে বলা হয়,  ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাগিং এর বিষয়ে এবং চিকিৎসা কেন্দ্রে ভাংচুরের বিষয়ে পৃথক ২ টি তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তা গ্রহন করা হয়। উক্ত রিপোর্টের আলোকে র‌্যাগিং এ সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় ৫ জনকে এবং মেডিকেল সেন্টারে ভাংচুর করার সংশ্লিটতা পাওয়ায় ১ জনকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।  কেন স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হবে না সেই মর্মে আত্মপক্ষ  সমর্থন  করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) ছাত্র-শৃঙ্খলা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমানকে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের হিশাম নাজির শুভ ও মিজানুর রহমান ইমনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। অন্য তিন অভিযুক্ত শাহরিয়ার পুলক, শেখ সালাউদ্দীন সাকিব ও সাদমান সাকিব আকিবকে এক বছরের জন্য জন্য বহিষ্কার করা হয়। এছাড়ার মেডিকল ভাংচুরের ঘটনায় আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ান সিদ্দীকি কাব্যকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। সভা শেষে এমনটিই গনমাধ্যমকর্মীদের জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ। এর পরে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক অবরোধ করে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থী তাহমিন ওসমানকে র‍্যাগিং ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার একপাক্ষিক কথা শুনে আমাদের সহপাঠীদের বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বহিষ্কার আদেশ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। ওখানে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেনি এই মর্মে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর দিয়েছে সেটা তদন্ত কমিটি আমলে নেয়নি। প্রহসনের বিচার মানিনা আমরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহপাঠী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছোটখাটো বিষয়ে স্থায়ী বহিষ্কারের মত একটি বড় সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ছোটখাটো বিষয়ে স্থায়ী বহিষ্কার অন্তত মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
এ বিষয়ে ছাত্র শৃঙ্খলার সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, তদন্ত কমিটি র‍্যাগিং কান্ডের সত্যতা পাওয়ার পর ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনায় বসে ওদের কেনো বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিবে। তার পর আবার ছাত্র শৃঙ্খলা সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে।