‘সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা, অবৈধভাবে প্রবেশ বা বনদস্যুতার মতো যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ’
- মো. সাজমিনুল ইসলাম, সহকারী বন সংরক্ষক, খুলনা রেঞ্জ
দীর্ঘ তিন মাসের নীরবতা কেটে আবারও কোলাহল ও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরেছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে। গত এক জুন থেকে কার্যকর হওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবনে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন জেলে ও পর্যটকরা। শেষ প্রস্তুতি হিসেবে জেলেপল্লিগুলোতে এখন চলছে ট্রলার মেরামত, জাল বুনন ও রসদ সংগ্রহের চরম ব্যস্ততা। তবে বনের দরজা খোলার আনন্দের পাশাপাশি জল-বনদস্যুদের উৎপাত, অপহরণ চক্রের অপতৎপরতা এবং অসাধু চক্রের বিষ দিয়ে মাছ শিকারের আশঙ্কায় জেলেদের চিন্তায় ফেলছে। প্রতিবছর এক জুন থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের সব ধরনের জলজ ও বনজ সম্পদ আহরণ এবং পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। প্রজনন মৌসুমে বন্যপ্রাণী ও মাছের বংশবৃদ্ধি নির্বিঘ্ন করতে এবং বনের ইকোসিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই এ তিন মাসের অবরোধ জারি করা হয়। জেলেরা বলছেন, তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহে বনে প্রবেশের সাথে সাথে জেলেদের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সুন্দরবনের বিস্তির্ণ জল-স্থলপথে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক নৌ-বাহিনী ও বনরক্ষী মোতায়েন নিশ্চিত করতে হবে। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা, অবৈধভাবে প্রবেশ বা বনদস্যুতার মতো যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বনের ভেতর ও জলপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দিনব্যাপী সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন জেলেপল্লিতে সরেজমিন ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন জেলেপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, নদী ও খালের পাড়ে প্রস্তুতি পর্বের তুঙ্গ অবস্থা। দীর্ঘদিন পর প্রিয় পেশায় ফিরতে পেরে উপকূলীয় জলজীবী মানুষগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বনদস্যু ও মুক্তিপণ আদায়কারীদের পুরোনো ভীতি স্পষ্ট। সুন্দরবনসংলগ্ন খুড়িয়াখালী গ্রামের জেলে জলিল হাওলাদার, রুবেল খান, ইউনুস হাওলাদার ও তানজের বয়াতী বলেন, সুন্দরবন সম্পূর্ণ বনদস্যুমুক্ত না হলে নদী-খালে নিরাপদে টিকে থাকা কঠিন। জীবন আর জীবিকার তাগিদে বনে তো যেতেই হবে, তবে গভীর বণে অপহরণ ও মুক্তিপণের ভয় আমাদের তাড়া করে ফিরছে। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি অবমুক্ত বনের সামনে বড়ো হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে অসাধু চক্রের ‘বিষ দিয়ে মাছ শিকার’।
নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরে সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার জেলেরা প্রস্তুত। ঘাটে সারি সারি নৌকা। কোনোটি মেরামত করা হচ্ছে, কোনো নৌকায় লাগানো হচ্ছে নতুন কাঠ। পাশেই জাল সেলাইয়ে ব্যস্ত কয়েকজন জেলে। কেউ আবার নৌকায় তুলছেন জ্বালানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। দীর্ঘ তিন মাসের নিস্তব্ধতা ভেঙে সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদে আবারও শুরু হয়েছে কর্মচাঞ্চল্য। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নতুন করে জীবিকার আশায় বুক বাঁধছেন সুন্দরবননির্ভর হাজারো বনজীবী। কয়রার মহেশ্বরীপুর, কয়রা, উত্তর বেদকাশী ও দক্ষিণ বেদকাশীসহ সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার জেলেরা এখন বনে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা মানেই আয়ের একটি বড় পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া। মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে যেসব পরিবার বছরের বড় একটি সময় সংসার চালায়, তাদের অনেকেই এ সময়ে ধারদেনা করে দিন পার করেছেন।
কয়রার ৫ নম্বর গ্রামের জেলে মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই যুগ ধরে সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া ধরে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। বন বন্ধ থাকলে আয়ের আর কোনো পথ থাকে না। গত তিন মাস খুব কষ্টে দিন পার করেছেন। পর্যাপ্ত কোনো সহায়তাও পাননি। তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর বন খুললে আবার বনে নামতে হচ্ছে। সংসার চালাতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বনদস্যুদের আতঙ্কও রয়েছে। বনে গিয়ে নিরাপদে ফিরতে পারব কি না, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।
স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকা মেরামত, নতুন জাল কেনা বা পুরোনো জাল ঠিক করা, জ্বালানি, চাল-ডালসহ খাবার, দড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম এবং পাস-পারমিটসহ বিভিন্ন খাতে একটি নৌকা নিয়ে বনে নামতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। অধিকাংশ জেলের হাতে এই টাকা থাকে না। ফলে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ধার করে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হয়। অর্থাৎ বনে যাওয়ার আগেই মাথায় চাপে ঋণের বোঝা। জেলেদের ভাষ্য, বনে গিয়ে কাক্সিক্ষত পরিমাণ মাছ-কাঁকড়া না পেলে লোকসানের সঙ্গে বাড়ে ঋণও। কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কখনো মাছের সংকট কিংবা অন্য কোনো কারণে আহরণ ব্যর্থ হলে মহাজনের টাকা পরিশোধ করাই হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই সুন্দরবনে যেতে হয় তাদের।
বনজীবীরা জানান, সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া আহরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয় বনজীবীদের। নদী-খালে কুমির, বনের ভেতরে বাঘ, গাছপালায় বিষধর সাপ-প্রকৃতির এসব ঝুঁকি তাদের নিত্যসঙ্গী। তবে বনজীবীদের দাবি, এসব ভয়কে ছাপিয়ে এখন দস্যু আতঙ্কই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকায় সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় দস্যুদের তৎপরতা বাড়তে পারে। বনে প্রবেশের পর অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা। ফলে নৌকা ও জাল প্রস্তুতের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে জেলেদের। সুন্দরবন খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খালপথে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের নিয়মিত টহল এবং বনের ভেতর স্থলপথে বনরক্ষীদের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে পাস-পারমিট নিয়ে বিপুলসংখ্যক নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। এই সুযোগে কেউ যাতে দস্যুতা, অবৈধ মাছ শিকার কিংবা বনের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে নজরদারি করতে হবে। একই সঙ্গে বিষ দিয়ে মাছ ধরা, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারসহ বনের জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বনজীবীরা।
দেখা যায়, শ্যামনগরের দাতিনাখালী গ্রামের জেলে লতিফ গাজী বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে ট্রলার মেরামতের কাজ করছেন। নিষেধাজ্ঞাকালীন জীবনের কষ্ট প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় মহাজন ও এনজিওর কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ধারদেনা করে পরিবার চালাতে হয়েছে। সামনে বন খুলছে ঠিকই, কিন্তু মূল ভয় এখন বনদস্যুদের নিয়ে। বনে রওনা হওয়ার আগেই আতঙ্কে রাত কাটছে, না জানি কখন ডাকাতের কবলে পড়তে হয়! একই উদ্বেগের কথা জানান গাবুরা এলাকার জহিরুল ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে বনে ঢুকতে মূল ভয় ছিল বাঘের, আর এখন প্রধান আতঙ্ক জল ও বনদস্যু। গত ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে বন বিভাগের অফিশিয়াল পাস নেওয়ার পাশাপাশি দস্যু বাহিনীকেও মাসিক চাঁদা দিয়ে বিশেষ 'সিøপ' নিতে হয়। চাঁদা দিতে না পারলে জেলেদের জিম্মি করে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে দস্যু দমনে বিভিন্ন সময় নানা আশ্বাসের কথা বলা হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো উদ্ধার অভিযান বা যৌথ তৎপরতা দেখা যায় না। এর সুযোগ নিয়ে ডাকাত দলের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে অসাধু চক্র বনের অভয়ারণ্যে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের মতো মারাত্মক অপরাধে লিপ্ত ছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।
কেবল জেলেই নন, নিষেধাজ্ঞার কারণে চরম আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় পর্যটন খাতও। মুন্সিগঞ্জের পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক সমিতির কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিন মাস ট্রলার অলস বসে থাকায় নোনা জলে কাঠের কাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ট্রলার মেরামত ও আলকাতরা লাগাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। পাস চালুর পর উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করবেন, নাকি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করবেন, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবন খুলছে আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)। উপকূলের বনজীবীদের কাছে এটি যেন নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ। ঘাটে প্রস্তুত হচ্ছে নৌকা, সেলাই হচ্ছে জাল, গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে সরঞ্জাম। জীবিকার তাগিদে আবারও নদী-খালের পথে পাড়ি জমাবেন তারা। তবে তাদের প্রত্যাশা, মাছ-কাঁকড়া আহরণের এই যাত্রা যেন নিরাপদ হয়। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি বননির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নতুন মৌসুম শুরু হবে- এটাই এখন উপকূলবাসীর প্রত্যাশা। টানা তিন মাস আয় বন্ধ থাকায় জমানো ঋণের ভার এবং ১ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বনাঞ্চলে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বনদস্যুদের চাঁদা ও ডাকাত আতঙ্কে দিন কাটছে বনজীবীদের।
সুন্দরবন সুরক্ষা বিষয়ক সংগঠন ‘ওয়াইল্ড টিম’-এর শরণখোলা উপজেলা ফ্যাসিলেটেটর মো. আলম হাওলাদার জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে কিছু অসাধু লোক নালা ও খালে বিষ ঢেলে দ্রুত বেশি মাছ আহরণের চেষ্টা করে। এই বিষাক্ত জলে শুধু নির্দিষ্ট মাছই নয়, রেণু পোনা, কাঁকড়া থেকে শুরু করে পুরো জলজ প্রাণীসহ খাদ্যশৃঙ্খল ধ্বংস হয়ে যায়।
এদিকে দীর্ঘদিন পর বনের দরজা খোলায় উচ্ছ্বসিত পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন এলাকার টুরিস্ট গাইড মো. শুকুরুজ্জামান রাসেল বয়াতি জানান, তিন মাস ভ্রমণ বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনের সতেজ ও প্রাকৃতিকভাবে নব রূপ দেখতে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
খুলনার পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা, অবৈধভাবে প্রবেশ বা বনদস্যুতার মতো যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ। বনের ভেতরে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. সাজমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে সুন্দরবনে জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে বনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম ও বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে জেলে-বাওয়ালিরা মাছ-কাঁকড়া আহরণ এবং পর্যটকেরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে বনের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
অন্যদিকে, সুন্দরবন বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ইরফান হোসেন জানান, প্রজনন ও সংরক্ষণ মেয়াদের আইনি বাধ্যবাধকতা শেষে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়ম অনুযায়ী জেলে, বাওয়ালি ও পর্যটকদের বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বনাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বনজীবীদের সার্বিক সুরক্ষায় যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় প্রতিবছরের মতো জুন, জুলাই ও আগস্ট- এই তিন মাস সুন্দরবনে সর্বসাধারণের প্রবেশে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে বন বিভাগ। এই সময়টাতে সব ধরনের আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়ে। টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলে দেওয়া হলো সুন্দরবন। প্রজনন মৌসুমে মাছ ও বন্যপ্রাণীর নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ ও মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল বন বিভাগ।