* স্বপ্ন পূরণে অদম্য ফুটবল জাদুকরের ‘মহাকাব্যিক যাত্রার’ ইতি!

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিলেন মহাতারকা লিওনেল মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

ফুটবল ঈশ্বর যার পায়ে লিখেছেন, সেই ১০ নম্বর নীল-সাদা জার্সিটি আজ থেকে শুধুই এক অমর ইতিহাস। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আক্ষেপের ছাই ভস্ম থেকে উঠে এসে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বমঞ্চের সর্বোচ্চ চূড়ায় বসানো এই ফুটবল জাদুকর বিদায় নেয়ার আগে দেশের ঝুলিতে দিয়ে গেছেন বহু কাক্সিক্ষত অর্জন।
আর্জেন্টাইন নীল-সাদা জার্সিতে দুই দশকের এক অবিশ্বাস্য রূপকথার শেষ পাতাটি আজ আঁকা হলো। ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবুজ গালিচাকে চিরতরে বিদায় বললেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তবে রেখে গেলেন অগনিত স্বপ্নপূরণের গল্প।

দেশের হয়ে ২০০৫ সালে পথচলা শুরু করা সেই তরুণটি আজ যখন থামছেন, তখন তার নামের পাশে ৩৯ আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২০৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আর রেকর্ড ১২৫টি গোল, যা কি না আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে একজন খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

একটি আন্তর্জাতিক শিরোপার জন্য বহুকাল কত বিরহ, কত কান্না আর কত রক্ত-ঘাম ঝরেছে এই জাদুকরের। ক্যারিয়ারের দেড় দশক পরে ভাগ্যের নির্মমতাকে জয় করে দেশকে তিনি শেষ পর্যন্ত এনে দিয়েছেন ফুটবলের সম্ভাব্য সব সাফল্য। ২০২১ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছিলেন অধিনায়ক মেসি। মেসির পালকে যুক্ত হয়েছিলো প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা।

এরপর ২০২২ সালে ইউরোপ সেরা ইতালিকে ধুলিসাৎ করে ফিনালিসিমা জয় এবং একই বছর কাতারের মরুদ্যানে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মহিমান্বিত বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে তিনি পূর্ণ করেন নিজের ক্যারিয়ার ও কোটি কোটি ভক্তের দীর্ঘদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন। সেই বছরের পারফর্ম্যান্সের জেরে জিতেছিলেন ব্যক্তগিত সবচেয়ে বড় পুরস্কার অষ্টম ব্যালন ডি’অর। এমনকি ২০২৪ সালেও আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে নিজের অর্জনের পাল¬া ভারী করেছেন। একের পর এক ট্রফি আর অনন্য সব অর্জনে জাতীয় দলকে দিয়ে গেছেন তার সবটুকু।

নীল-সাদা জার্সিতে ১০ নম্বর জাদুকরকে হয়তো আর কখনো ফাউল আদায়ের পর উঠে দাঁড়াতে দেখা যাবে না, কিন্তু তার রেখে যাওয়া অমর সাফল্যগুলো আলবিসেলেস্তেদের হৃদয়ে হয়তো খোদাই করা থাকবে অনন্তকাল।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL