এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্বে বাড়বে চ্যালেঞ্জ: ডিসিসিআই

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:



স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যে মেধাস্বত্ব অধিকার (আইপিআর) সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে ওষুধশিল্পে নতুন পেটেন্ট, ওষুধের দাম, প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার এবং বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ট্রিপসের (ঞজওচঝ) চেয়েও কঠোর শর্ত বা ‘ট্রিপস-প্লাস’ বাধ্যবাধকতা আসতে পারে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে থাকা শীর্ষ ওষুধগুলোর বড় অংশের ক্ষেত্রে এলডিসি উত্তরণের কারণে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
এলডিসি উত্তরণের পর মেধাস্বত্বকে শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা বা কমপ্লায়েন্সের বিষয় হিসেবে না দেখে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও পণ্যে মূল্য সংযোজনের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইপিআর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, পৃথক আইপি ট্রাইব্যুনাল বা বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা, পেটেন্ট পরীক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল পাইরেসি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে ওহফঁংঃৎরধষ ঝযরভঃ রহ ঃযব চড়ংঃ-খউঈ ঊৎধ: ঝঃৎধঃবমরবং ভড়ৎ ওচজ ওংংঁবং ড়ভ কবু ওহফঁংঃৎরবং শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে এসব বিষয় উঠে আসে। সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট (এসএসজিপি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ডিসিসিআই যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের গবেষক মোহাম্মদ আতাউল করিম।
মূল উপস্থাপনায় বলা হয়, এলডিসি দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ট্রিপস চুক্তির বিভিন্ন সুবিধা ও নমনীয়তা পেয়ে আসছে। বাংলাদেশ ১৯৮৯ সালে এলডিসিগুলোর পক্ষে ট্রিপসের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কারিগরি সহায়তার দাবি জানিয়েছিল। পরে ট্রিপস চুক্তির ৬৬.১ ও ৬৬.২ ধারায় এলডিসিগুলোর জন্য বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে ট্রিপসের ন্যূনতম মানদণ্ড অনুযায়ী মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক, শিল্প নকশা, ট্রেড সিক্রেট ও কপিরাইটসহ বিভিন্ন ধরনের মেধাস্বত্ব রয়েছে। তবে ট্রিপসের আওতায় সদস্য দেশগুলোর জন্য কিছু নমনীয়তার সুযোগও রয়েছে।
উপস্থাপনায় ওষুধশিল্পের সম্ভাব্য প্রভাবকে তিন ভাগে দেখা হয়েছে। এর একটি হলো এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে তৈরি হওয়া পেটেন্ট-সংক্রান্ত বিষয়, দ্বিতীয়টি উত্তরণের পর নতুন পেটেন্টের আওতায় আসা উদ্ভাবন এবং তৃতীয়টি মুক্ত বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে ট্রিপসের চেয়েও কঠোর মেধাস্বত্ব সুরক্ষার বিধান।
বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধের ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম বলে উপস্থাপনায় বলা হয়েছে। বাংলাদেশের ওষুধবাজারের প্রায় ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এমন শীর্ষ ৫০টি মলিকিউল বর্তমানে পেটেন্টমুক্ত। বাজারের শীর্ষ ২০টি ব্র্যান্ডও পেটেন্টমুক্ত। ফলে এলডিসি উত্তরণের পর এসব মলিকিউল ও ব্র্যান্ডের ব্যবহার অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়।
তবে কোনো মলিকিউলের নতুন কম্পোজিশন, নতুন ডোজ বা নতুন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন পেটেন্ট নেওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ২০২৩ সালের পেটেন্ট আইনে নতুন ব্যবহারসহ কিছু বিষয় পেটেন্টযোগ্যতার বাইরে রাখার বিধানের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে পেটেন্ট বিধিমালা ও পরীক্ষার নির্দেশিকা কার্যকর করা এবং পেটেন্ট পরীক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL