* যুক্ত হচ্ছে বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ * বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ * অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩ মাস পরপর পরিদর্শন ও মহড়া চলবে

সংশোধন হচ্ছে বিমান খাতের বিধিমালা

এসএম দেলোয়ার হোসেন
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ বিধিমালায় যুক্ত হচ্ছে বিমান চলাচলে সুরক্ষা দেওয়া ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতেও নেওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদক্ষেপ। একই সঙ্গে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে ও বাইরে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতি ৩ মাস পর পর পরিদর্শন ও মহড়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ চার দশক পর চলতি বছর এ বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমান খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রসঙ্গে গত ১ সেপ্টেম্বর সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে 
এ তথ্য জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধন করে নতুন বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার বেসামরিক বিমান খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাই নতুন বিধিমালা অবশ্যই ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হতে হবে। তিনি বলেন, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধিমালায় প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করা হবে।

এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারাই আমাদের মূল অংশীজন। তাই বিনিয়োগ সহজীকরণের লক্ষ্যে বিধিমালা তৈরিতে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি এয়ারলাইন্সের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা-সংক্রান্ত বিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিমানের জটিল যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া কেপটাউন কনভেনশনের শর্ত অনুসরণ করে বিমান-সম্পর্কিত সম্পদের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও লিজিংয়ের অধিকার সুরক্ষায় বিধি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিমানবন্দরের ভৌত অবকাঠামোর অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর পরিদর্শন ও মহড়ার আয়োজনের নির্দেশনা দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে আমরা আন্তর্জাতিক মানের এমআরও ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এভিয়েশন হাব তৈরির লক্ষ্য পূরণ হবে বলে আশা রাখি। বেসরকারি উদ্যোগে বেসামরিক বিমানবন্দর স্থাপন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় নতুন বিধিমালা প্রণয়নে প্রস্তাবিত ধারাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার, বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL