সাভারের আমিনবাজারে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছেন। নিহত আলতাফ হোসেন (৫৮) ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আলতাফ হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি ওই এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে কারখানার কাছেই ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন আলতাফ। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন যুবক এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর করতে দেখেন তিনি। বিষয়টি দেখে আলতাফ এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ওই যুবকেরা তাঁর ওপরও হামলা চালায়।
প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দৌড়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে ওই যুবকেরা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে ডেকে আনে। তারা কারখানায় ঢুকে মেশিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে আলতাফ ও তাঁর ছেলে আরিফুলকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ছেলে আরিফুল বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।
আগেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা
একসময় অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত আমিনবাজারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরও হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২০০৭ সালের ৩ মার্চ আমিনবাজারের সালেহপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব-১১-এর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (ডিএডি) হুমায়ুন কবির ও কনস্টেবল ফুল মিয়া নিহত হন।
এ ছাড়া আমিনবাজার এলাকায় মতিউর রহমান নামে পুলিশের আরেক উপপরিদর্শককেও সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছিল। সাম্প্রতিক এ হত্যাকাণ্ডের পর আবারও আমিনবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।