* চলছে ৭ পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

এনবিআর’র হাতে সামিট গ্রুপের কর ফাঁকির তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গ্রুপ সামিটের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খানসহ ৭ পরিচালকের নামে ফৌজদারি মামলা করতে যাচ্ছে এনবিআর। গ্রুপটির বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকির টাকা আদায়ে এমন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মামলায় অভিযুক্ত করা হতে পারে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান, আঞ্জুমান আজিজ খান, আদিবা আজিজ খান, মোহাম্মদ ফয়সাল করিম খান, মোহাম্মদ লতিফ খান, মোহাম্মদ ফরিদ খান ও জাফর উমেদ খানকে।

এনবিআরের আনা করফাঁকির অভিযোগের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে উচ্চ আদালতে ২০টি রিট মামলা করেছে সামিট গ্রুপ। এগুলো সামলাতে নাকাল হয়ে আজিজ খানসহ সামিট গ্রুপের সাত পরিচালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

এদিকে, বাংলাদেশে ব্যবসা করেও গ্রুপটির প্রধান উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান আজিজ খান দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনী ও বিলিয়নিয়ার। অভিযোগ রয়েছে, গেল দেড় দশকে রাজনৈতিক মদদে গ্রুপটির সার্বিক কার্যক্রম থেকে যায় সরকারি সংস্থার নজরদারির বাইরে। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। এনবিআরের দুই বছরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সামিটের রেকর্ড দুই হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির তথ্য। তবে এসব দাবির জবাব দিতে এনবিআরের নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখেনি সামিট। ন্যায় বিচার পেতে তারা দ্বারস্থ হয় উচ্চ আদালতের। একে একে দায়ের করে ২০টি রিট। যার সাতটিতে আয়কর আইনের ১৪৩(৫) ধারায় করা জরিমানা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বাকি ১৩টিতে ২১২ ধারায় পুনঃউন্মোচন চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এসব রিটের তিনভাগের এক ভাগ নিষ্পপ্তি হলেও বাকিগুলো বিচারাধীন। যা নিয়ে হিমশিম অবস্থায় এনবিআর কর্মকর্তারা।

সামিটের এমন পদক্ষেপ ভালোভাবে নেয়নি এনবিআর। তাই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে কড়া পদক্ষেপের। আইন অনুযায়ী নথি জাল করে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ আছে। সেটিই এবার সামিটের সাত পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে যাচ্ছে এনবিআর।

এনবিআরের সাবেক সদস্য খাইরুল ইসলাম জানান, ফৌজদারি আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচ বছর তবে ছয় মাসের কম না ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। তবে আমরা মনে করি ফাঁকি দেওয়া করের টাকা আদায়ের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ এবং চলতি মাসের মধ্যেই সেটি করা হতে পারে জানিয়েছেন এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL