সমাজে বিশেষ অবদান ও মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘গ্রীন গার্ডিয়ান অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেয়েছেন তাহেরা শারমিন। অক্সিজেন ব্যাংক অব বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগের আয়োজনে শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক মিলনায়তনে এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অক্সিজেন ব্যাংক অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আনোয়ার উল্লাহ। উদ্বোধনী ঘোষণা দেন পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মো. কামারুল কায়েস চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেওয়ারিশ সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মানবিক শওকত। প্রধান বক্তা ছিলেন গ্রিন লিফ ম্যাগাজিনের অর্গানাইজার ও সম্পাদক তসলিম হাসান হৃদয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি, এএসকে ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি এবং সিআরবি ভোক্তা সুরক্ষার চট্টগ্রাম সভাপতি তাহেরা শারমিন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এম এ সবুর, লেখক এস এম সারোয়ার, জিনাত আরা, কবি ও লেখক সাইদুল হক, ইমরান কায়েস এবং লায়না হালিমা চৌধুরী।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রায়হান চৌধুরী, আবু সৈয়দ রিয়াদ, বৃক্ষরোপণ সমিতির সভাপতি ও বৃক্ষপ্রেমী মো. নুরুল হক বাবুল, ইব্রাহিম খানসহ নারী উদ্যোক্তারা। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় গুণীজনদের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও বনভূমি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, নির্বিচারে গাছ কাটা ও বনভূমি ধ্বংসের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বাড়ছে দূষণ, তাপমাত্রা ও বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, গাছ মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন সরবরাহ করে। মহান আল্লাহর দেওয়া এই অমূল্য নিয়ামতের গুরুত্ব করোনাকালে মানুষ নতুন করে উপলব্ধি করেছে। তাই শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে গাছকে বাঁচিয়ে রাখাও জরুরি। একটি শিশুকে যেভাবে যত্ন নিয়ে বড় করতে হয়, তেমনি একটি চারাকে পরিচর্যা করে পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষে পরিণত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় রেজাউল হকের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা। পেশায় রিকশাচালক হলেও পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি চট্টগ্রামে পরিচিত মুখ। নিজের সামর্থ্য ও অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
রেজাউল হক বলেন, “পানি ছাড়া যেমন মানুষ বাঁচতে পারে না, তেমনি অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকাও অসম্ভব। তাই একটি গাছ লাগানোর পর তার সঠিক পরিচর্যা করতে হবে। শুধু মানুষের জন্য নয়, সমগ্র প্রাণিজগতের অস্তিত্ব রক্ষায়ও বৃক্ষরোপণ জরুরি। পৃথিবীকে সবুজ বাগানে পরিণত করতে পারলে বৈরী আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে।”
বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কের পাশসহ প্রতিটি উপযুক্ত খালি জায়গায় অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বনভূমি রক্ষা এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।