- আজ নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের
- দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি
- ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তিনি প্রথম ভাষণ দেবেন
- ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল রোববার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বক্তব্য দেবেন বলে জানান তিনি।
বরাবরের মতো বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান বাংলায় ভাষণ দেবেন জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
কয়েকটি কারণে এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে মন্তব্য করে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার সকালে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। নিউ ইয়র্কে পৌঁছে তিনি আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। ওইদিন সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। একই দিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এসব সভায় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন। বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের তথ্য দিয়ে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরে তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরে তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করবেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক চূড়ান্ত হওয়ার কথা জানান আসাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, এর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ আরো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও প্রধানমন্ত্রীর সূচিতে থাকার কথা জানান পররাষ্ট্র সচিব।
এবার জাতিসংঘ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ জন হওয়ার তথ্য দেন পররাষ্ট্র সচিব। তাদের মধ্যে থাকছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আসাদ আলম সিয়াম বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন ইকরামও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সামগ্রিকভাবে, এই সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চাই। নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গার সংকট নিয়ে বিশেষ কী থাকছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি চলমান সমস্যা। সুতরাং আমরা যেহেতু জাতিসংঘে যাচ্ছি, লিডার্স সামিট পর্বে, আমরা এবারও প্রত্যেকবারের মতো রোহিঙ্গা সমস্যার বিশালত্ব, এর চ্যালেঞ্জগুলো এবং বৈশ্বিকভাবে যে সহযোগিতাগুলো, সাহায্যগুলো, সমর্থনগুলো বাংলাদেশের পাওয়া দরকার, সেটা বৈশ্বিক সভায় সকলের কাছে চাইব।
বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে পৃথক প্রশ্নে একই উত্তর দেন পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, যখন বহুপাক্ষিক সম্মেলনগুলো রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধানরা যান, তখন যে কর্মসূচিটা তৈরি করা হয়, এটা একটা চলমান কর্মসূচি, এটা এই রকম না যে, যা কিছু আমরা নির্ধারণ করে দিলাম সেগুলাই হবে, কোনো কিছু বাদ পড়বে না; আবার যা কিছু আমরা নির্ধারণ করে যাইনি, তার কোনোটা অন্তর্ভূক্ত হবে না। সুতরাং এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। দেখি, এটা কীভাবে সামনে এগোয়।
কূটনৈতিক ব্যস্ততা ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে উঠবেন। সফরকালে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ভাষণ দেওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।
জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক: সফরের শুরুতেই জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বৈঠকে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিশেষ অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হবে।
সাইডলাইন সম্মেলন: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর সাইডলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ স্থান পাবে।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চারনভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-সাবাহ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। সফরকালে ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
উচ্চপর্যায়ের ইভেন্ট: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পর্যালোচনা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং বিশ্বজুড়ে দেখা দেওয়া খাদ্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জবিষয়ক আলোচনায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করার রূপরেখা ঘোষণা করবেন। ২০০০ সালে অনুস্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির (আইসিসিপিআর) আলোকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের গৃহীত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো তিনি জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি: প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে জেএফকে বিমানবন্দরে জমায়েত এবং নিউইয়র্ক শহরজুড়ে ব্যানার ও পোস্টার টাঙিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অপ্রীতিকর কোন কিছু ঠেকাতে বিভিন্ন স্তরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা: বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তাঁর বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, ১৯৮০ সালের আগস্টে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলায় ঐতিহাসিক বক্তব্য প্রদান করেছিলেন। সেই ভাষণে তিনি অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক মুক্তি ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জোর দেন। তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয় ২০০৫ সালের বিশ্ব সম্মেলনসহ (ওয়ার্ল্ড সামিট) জাতিসংঘের একাধিক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং গণতন্ত্র ও সার্বজনীন মানবাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্ব দরবারে সোচ্চারভাবে তুলে ধরেন। বাবা ও মায়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিএনপির জাতীয় নেতৃত্বের উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান এবার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবেন।