উচ্চতা মাত্র তিন ফুট। তবে স্বপ্নের উচ্চতা আকাশছোঁয়া। শারীরিক উচ্চতা তার এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হতে পারেনি। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে এখন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান বাগেরহাটের রফিকুল ইসলাম। তার চোখেমুখে আত্মনির্ভর হওয়ার প্রত্যয়।
রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদে ১০ম গ্রেডের চাকরির জন্য আবেদন করেছেন। ইতোমধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম ধাপেও অংশ নিয়েছেন। এখন তার একটাই প্রত্যাশা- যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ পাওয়া। রফিকুলের বাবা মৃত আইয়ুব আলী খান। তিনি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তেন, তখনই তার বাবা মারা যান। এরপর মা রেহেনা বেগম অনেক কষ্টে তিন সন্তানকে বড় করেছেন। বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ছোট বোন এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মা। রফিকুলের মা রেহেনা বেগম ব্র্যাক এনজিওতে দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। অভাবের কারণে রফিকুলের পক্ষে ডিপ্লোমা শেষ করার পর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াও সম্ভব হয়নি। তাই এখন একটি চাকরিই তার কাছে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার সবচেয়ে বড় অবলম্বন।
রফিকুল বলেন, আমার উচ্চতা মাত্র তিন ফুট। কিন্তু আমার স্বপ্ন অনেক বড়। পাশের দেশ ভারতের তিন ফুট উচ্চতার চিকিৎসক গণেশ বারইয়া যদি মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে পারেন, তাহলে আমি কেন পারব না? আমি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা শেষ করেছি। আমি কাজ করতে চাই, নিজের যোগ্যতায় দাঁড়াতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমি কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। একটি চাকরি পেলে মায়ের পাশে দাঁড়াতে পারব। ছোট বোনকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। আমার মায়ের কষ্ট কিছুটা হলেও দূর করতে চাই।
রফিকুলের পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তার উচ্চতা নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কখনো পিছপা হননি। এসএসসি পাস করার পর ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। এখন তার অপেক্ষা কর্মজীবনে প্রবেশের।
রফিকুলের স্বপ্ন শুধু একটি চাকরি পাওয়া নয়; নিজের যোগ্যতা দিয়ে মায়ের দায়িত্ব নেওয়া, ছোট বোনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং সমাজে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা। তার প্রত্যাশা, নিয়োগের ক্ষেত্রে শারীরিক উচ্চতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদের কাজ করার সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতাকেও যেন গুরুত্ব দেওয়া হয়।