রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে পাল্ল দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম ও হামের উপসর্গে এবং এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে কেউ না কেউ নতুন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। প্রনিনিয়তই হাম ও হামের উপসর্গের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছে প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই প্রাণঘাতী এ দুটি রোগে বাড়ছে প্রাণহানি। দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গু কাড়ল ৮ শিশুসহ ১৬ জনের প্রাণ। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮ শিশু ও ডেঙ্গুজ্বরে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের সবাই শিশু। গত ২৪ ঘন্টায় প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১২৩২ জন। অপরদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গেুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭৩৩ জন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৩০ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ২৩২ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকা বিভাগে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট বিভাগেও হামের উপসর্গে ৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৯৩০ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ১৭৭ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ২০ হাজার ১২৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ১৫৭ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গুতে ৩ জন করে মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে আরও ২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৩৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়াও উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৩০২ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১, বরিশাল বিভাগে ১৯১, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭০, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রংপুর বিভাগে ৮৬ ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশে ডেঙ্গুতে ৩৬ জন মারা গেছেন। এর পরের মাস আগস্টে ৪৩ জন এবং চলতি সেপ্টেম্বরের ১৪ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৭৯ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ২৭ জন ছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫, বরিশাল বিভাগে ১২, রাজশাহী বিভাগে ৬ জন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে মোট ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।