“দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারের চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভর করতে হলে তা ইলিশের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে”
— মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, মৎস বিশেষজ্ঞ
“প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি করা মাছকে দেশি ইলিশ হিসেবে বিক্রির বিষয়টি সরাসরি মৎস্য আইনের আওতায় পড়ে না। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই”
— মনিরুল মামুন, মৎস্য কর্মকর্তা, যশোর
“কাস্টমসের ছাড়পত্র ও বন্দরের শুল্ক পরিশোধের পর বাংলাদেশি ট্রাকে করে আমদানি করা ইলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে”
— রুহুল আমিন, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, বেনাপোল স্থলবন্দর
প্রতিবছরই ইলিশের মৌসুম এলেই বাংলাদেশের ইলিশের জন্য অপেক্ষায় থাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। বিশেষ করে দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি হবে কি না, তা নিয়ে প্রতিবছরই তৈরি হয় আলোচনা। এবারও সেই আলোচনার কমতি নেই। ইতোমধ্যেই ইলিশ রপ্তানির আবেদন জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ বারতের পশ্চিমবঙ্গ। তবে এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ইলিশের দেশ বাংলাদেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে উল্টো ভারত থেকেই ইলিশ ঢুকছে দেশে। বাংলাদেশের বাজারে গত দুই মাসে সাড়ে ৩ লক্ষাধিক কেজি ইলিশ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেই আমদানি করা হয়েছে। বাংলাদেশের বাজারগুলোতে আমদানিকৃত সেই ইলিশগুলো পদ্মার রূপালী ইলিশ বলে বেশি দামে বিক্রি করছে মাছের আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। চড়া দামে ইলিশ কিনে পদ্মার সেই স্বাদ না পেয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন ভোক্তারা। মৎস বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ইলিশের উৎপাদন হ্রাসের নেপথ্যে নদীর নাব্যতা সংকট ও বর্জ্য দূষণ দায়ী। ইলিশ উৎপাদন কমায় দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভর করতে হলে তা ইলিশের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। যশোর জেলা মৎস কর্মকর্তা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি করা মাছকে দেশি ইলিশ হিসেবে বিক্রির বিষয়টি সরাসরি মৎস্য আইনের আওতায় পড়ে না। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, কাস্টমসের ছাড়পত্র ও বন্দরের শুল্ক পরিশোধের পর বাংলাদেশি ট্রাকে করে আমদানি করা ইলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশে সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস ইলিশের ভরা মৌসুম ধরা হয়, যার মধ্যে প্রধান প্রজনন সময় হিসেবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুন থেকে ইলিশের দেখা মিললেও জ্যৈষ্ঠ-বর্ষা পেরিয়ে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে নদী ও সাগরে সবচেয়ে বেশি রুপালি ইলিশ ধরা পড়ে। এর প্রজনন মৌসুম সাধারণত মা ইলিশ ডিম ছাড়ার প্রধান সময় হলো আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমা ও অমাবস্যা তথা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত।
মৎস ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে আহরিত হয় এবং ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ থেকে ৫.৭ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ বা উৎপাদন হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেমন- ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদনের কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত সরকারি হিসাব এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চলতি অর্থবছরে ইলিশের মোট উৎপাদন ৫ লাখ মেট্রিক টনের কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষকরা বলছেন, দেশের বড় নদীগুলোতে ইলিশ কমে যাওয়ার পেছনে শিল্পবর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণের কথা বেশি উল্লেখ করা হলেও পটুয়াখালী ও বরগুনায় থাকা তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ইলিশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশ জার্নাল অব ফিজিক্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ওই এলাকায় ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন, বেড়ে ওঠা ও টিকে থাকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আলম বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা আনা নেওয়ার জন্য জাহাজ চলাচল করে। এতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া পোড়া কয়লার ছাই এবং কেন্দ্র থেকে বের হওয়া তরল বর্জ্য ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় প্ল্যাঙ্কটনসমৃদ্ধ পানির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় ওই এলাকার পানির তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়েছে। অধ্যাপক খোরশেদ আলম বলেন, এই দূষণের কারণে সেখানে গত তিন বছরে ইলিশের আহরণ ৪৫ শতাংশ কমেছে।
বেসরকারি সংস্থা ক্লিনের প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদীও দীর্ঘদিন ধরে ইলিশের অভয়াশ্রমের মধ্যে থাকা তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। এগুলো হলো- পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামনাবাদ চ্যানেলের তীরে থাকা পটুয়াখালী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বিষখালী নদীর তীরে তালতলীতে থাকা বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নদীতে বর্জ্য ও গরম পানি ফেলছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর ইলিশ কমে যেতে দেখেছি। পদ্মার নাব্যতা কমে যাওয়াও ইলিশের জন্য ভালো হচ্ছে না। ইলিশ সাগর থেকে দেশের ভেতরের নদীতে আসে। এ সময় একে স্রোতের বিপরীতে সাঁতরে এগোতে হয়। কিন্তু নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের এই যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বিএফআরআইয়ের সাবেক পরিচালক আনিসুর বলেন, ইলিশ যখন দেশের ভেতরের নদীতে আসে, তখন তার জন্য স্রোত ও পানির গভীরতা দুটোই দরকার। নদীতে অন্তত ১০ মিটার গভীর পানি থাকা দরকার। কিন্তু এখন তা পাওয়া যাচ্ছে না।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বরের জেলে পূর্ণ দাস এখন আর আগের মতো ইলিশ ধরতে পারছেন না। অথচ শরীয়তপুরের পদ্মার প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ৭০ বছর বয়সী পূর্ণ দাস ৩০ বছর ধরে পদ্মায় মাছ ধরছেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতি তিনি আগে কখনো দেখেননি। একসময় পদ্মায় প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৬০টি মাছ পেতেন তিনি। তিনি বলেন, এখন তো কোনো মাছই নেই। নদীতে জাল ফেলেও মাত্র দুটো ইলিশ আর অন্য একটি মাছ ধরা পড়েছে।
জানা যায়, এদিকে দেশের নদী ও সাগরে ইলিশের উৎপাদন ব্যহত হওয়ার সুযোগে দেশের বাজারে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশ ব্যবসায়ীরা প্রতিবেশী দেশ থেকে ইলিশ আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। দেশের নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগর ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণক্ষেত্র হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে চাহিদা পূরণে বিদেশি ইলিশের ওপর নির্ভরতার চিত্র সামনে এসেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট, এই দুই মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ। এর মধ্যে জুলাইয়ে আমদানি হয়েছিল ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। পরের মাসে, আগস্টে, এক লাফে আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজিতে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের মতে, নদীতে দূষণ ও নাব্য সংকটের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইলিশের আবাসস্থল ও চলাচলে চাপ তৈরি করছে। দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারের চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভর করতে হলে তা ইলিশের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের ঘোষিত মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশের আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি মাছের ঘোষিত মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।
জুলাই ও আগস্টে মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ইলিশ এনেছে। জুলাইয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠান এই আমদানি করেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, দুই মাসে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। মাছ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমদানিকারকদের কোয়ারেন্টাইন সনদ দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, কাস্টমসের ছাড়পত্র ও বন্দরের শুল্ক পরিশোধের পর বাংলাদেশি ট্রাকে করে আমদানি করা ইলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ গেছে। হাওড়া পাইকারি ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি থাকায় এবার হাওড়া থেকেও প্রথমবারের মতো ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। সাধারণ সময়ে হাওড়া থেকে বাংলাদেশে রুই, পারসে ও ট্যাংরাসসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ পাঠানো হয়। এবার গুজরাটের ইলিশও জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের বাজারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সেখানে ইলিশের সরবরাহ ভালো থাকায় তুলনামূলক কম দামে মাছ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা থাকায় এসব মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজারে আমদানি করা কিছু ইলিশের ডিম আলাদা করে বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু মাছ নোনা ইলিশ হিসেবেও বাজারজাত করা হচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাংলাদেশে আরও ১০০ থেকে ১৫০ টন ইলিশ পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে আমদানি করা মাছের পরিচয় নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। বেনাপোল, যশোরের বড় বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ বাড়া এসব ইলিশকে সরকারি কর্মকর্তারা ভারতীয় বলে জানালেও স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী এগুলো মিয়ানমারের ইলিশ বলে দাবি করছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে আসা ইলিশকে পদ্মা, চাঁদপুর, বরিশাল বা চট্টগ্রামের ইলিশ পরিচয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দামের ব্যবধানও বেশ বড়। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশের দাম এখন কেজিতে ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। একই আকারের আমদানি করা ইলিশ মিলছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে। কম দামে বড় আকারের ইলিশ পাওয়ায় ক্রেতাদের একটি অংশ আমদানি করা মাছের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, আমদানি করা মাছকে দেশি ইলিশ হিসেবে বিক্রির বিষয়টি সরাসরি মৎস্য আইনের আওতায় পড়ে না। তাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।