যুক্তরাষ্ট্রে সিকদার গ্রুপের ৮শ মিলিয়ন ডলার সম্পদের সন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
  • অর্থ ফেরাতে মামলার প্রস্তুতি সরকারের

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করতে যাচ্ছে সরকার। দেশটিতে সিকদার গ্রুপের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদের সন্ধান মিলেছে। এসব সম্পদ ফিরিয়ে আনতে এবার চূড়ান্ত আইনি লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। দেশের ব্যাংক খাতের আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির অন্যতম নাম একসময়কার মহাপরাক্রমশালী সিকদার গ্রুপ। ন্যাশনাল ব্যাংকসহ দেশের অন্তত দুই হালি ব্যাংক থেকে ঋণের নামে আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে গ্রুপটির বিরুদ্ধে।
অর্থ পাচারের শীর্ষ ১১ শিল্প গ্রুপের তালিকায় থাকা সিকদার গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারকৃত প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার বা ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এসব অর্থ উদ্ধারে দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সিভিল মামলা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ১১টি বড় শিল্প গ্রুপের মধ্যে একটি গ্রুপের অর্থ আদায়ের বিষয়ে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিএফআইইউ এবং অর্থ উদ্ধারে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটির যৌথ উদ্যোগেই এই সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান আর-ওয়ান। সব প্রস্তুতি শেষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা অক্টোবরেই বাংলাদেশে আসছেন। ন্যাশনাল ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, পুরো উদ্যোগটি হবে ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে। অর্থাৎ, অর্থ উদ্ধার না হলে মামলার খরচ দিতে হবে না সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মামুনুর রশিদ বলেন, রিকভারি এজেন্টরা অর্থ উদ্ধারের পর লেন্ডারদের অর্থ ফেরত দেবে। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার উদ্ধার হওয়া অর্থের একটি অংশ রিকভারি এজেন্টকে দেবে এবং রিকভারি এজেন্ট সেই অর্থ লেন্ডারদের ফেরত দেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পাচার হওয়া অর্থ আর কখনো ফেরত আনা যাবে না, এমন হতাশা অনেকের মধ্যে রয়েছে। একটি উদাহরণ তৈরি করা গেলে তা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে এবং যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের নিরুৎসাহিত করবে। এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ ব্যাংক। লুট হওয়া আমানতের কতটা ফেরানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে শুরু হতে যাওয়া এই আইনি লড়াইয়ের ফলের ওপর।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL