বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি মাসের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। শনিবার (৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবছর নির্ধারিত হারে ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।
পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।
এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। এখন তাদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উপস্থাপন করা হবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর করা হবে—সেদিকেই।