জেলার দশমিনা উপজেলায় ৩৩ শতাংশ জমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ-করলা চাষে সফল হয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা পাবেল হোসেন। কৃষিজমিতে বাঁশের খুঁটি আর তারের মাচায় ঝুলছে সারি সারি লাউ ও করলা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে বেড়ে ওঠা এসব সবজি এখন কৃষক মো. পাবেলের (৩৫) আয়ের উৎস।
মাত্র ১৪ হাজার টাকা উৎপাদন খরচে লাউ, করলা ও শসা চাষ করে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন তিনি। মৌসুমের বাকি সময়ে আরও ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন এ তরুণ উদ্যোক্তা।
বাণিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি এলাকার অন্য তরুণদেরও কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলছেন পাবেল। স্বল্প খরচে তুলনামূলক বেশি ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় তার এ উদ্যোগ স্থানীয় তরুণ কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
আজ শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩৩ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ, করলা ও শসা চাষ করেছেন দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা পাবেল। এর মধ্যে মার্শাল সুপার জাতের লাউ এবং টিয়া সুপার ও পার্লি প্লাস জাতের করলা রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যায় এবার ক্ষেতজুড়ে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে তার সবজিক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের খুঁটির ওপর তৈরি মাচায় ঝুলছে লাউ ও করলা। ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা সবজি ককসেটে ভরে বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি ককসেটে ১৪ থেকে ১৬টি লাউ অথবা প্রায় ৮ থেকে ৯ কেজি করলা রাখা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন তিন থেকে চার ককসেট সবজি বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন পাবেল। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও তার ক্ষেত থেকে সবজি কিনতে আসছেন।
পাবেল হোসেন বাসসকে বলেন, ‘৩৩ শতাংশ জমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, করলা ও শসা চাষ করেছি। ফলন আসা পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। আশা করছি, আরও ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারব।’
বাজারদর সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি করলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করছেন। আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৩০, ৪০ ও ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। আর প্রতি কেজি শসার দাম পাচ্ছেন ৩০ থেকে ৪৫ টাকা।
পাবেলের মতে, মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষের অন্যতম সুবিধা হলো গাছের পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহ সহজ হয়। মাটি থেকে প্রায় পাঁচ ফুট উঁচুতে বাঁশের খুঁটি দিয়ে মাচা তৈরি করা হয়। পরে তার বা সুতলি দিয়ে তা শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। একবার মাচা তৈরি করতে পারলে সেটি ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে তিন থেকে চার দফা লাউ, করলা ও অন্যান্য সবজি চাষ করা সম্ভব। ফলে বারবার মাচা তৈরির খরচও সাশ্রয় হয়।
একই গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আবু ইউসুফ (২৫) বলেন, ‘পাবেল ভাইকে দেখে আমিও সবজি চাষে উদ্যোক্তা হয়েছি। এখন আমার সবজিবাগানে মৌসুমি সবজি হচ্ছে। এতে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারেও সবজি বিক্রি করতে পারছি।’
দশমিনা উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাসসকে বলেন, এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় ভার্মিকম্পোস্ট সার ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে পাবেল মার্শাল সুপার জাতের লাউ এবং টিয়া সুপার ও পার্লি প্লাস জাতের করলা চাষ করেছেন। তার ক্ষেতে লাউ, করলা ও শসার ভালো ফলন হয়েছে।
দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বাসসকে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, করলা ও শসা চাষ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা এ পদ্ধতির প্রতি বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে লাউ ও করলার বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের লাউ চাষ, গাছের পরিচর্যা ও মাচা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।