পাঁচ সন্তানের মা না খেয়ে আশ্রয় নেয় বুদ্ধাশ্রমে

রংপুর ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

জমি, বাড়ি-ঘর ও তিন ছেলে আর আর দুই মেয়ে থেকেও বৃদ্ধ মায়ের পেটে এক বেলা ভাত জোটেনি গাইবান্ধার আকলিমা বেগম। না খেয়ে পেটের ক্ষুধায় অবশেষে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে চলে আসেন বৃদ্ধাশ্রমেম। এখন এই প্রবীণ বয়সে আকলিমা বেগম আর নতুন করে কষ্ট পেতে চান না। তাই সবাইকে ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন বৃদ্ধশ্রমের একটি কক্ষে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাইয়াগঞ্জ গ্রামের আকলিমা বেগম। স্বামী আব্দুস সোবাহান মিয়া ছিলেন গৃহস্থ। জমিজমা যা আছে তাতে ঘরের ভাত খেয়ে ভালোই চলে যাচ্ছিল আকলিমা বেগমের সংসার। সংসারের টাকা পয়সা ও চাল ডাল খেয়ে বড় করেছেন ছেলে ময়না, চুন্নু ,ফারুক এবং মেয়ে ফেরেজা ও বেগমসহ ৫ জন সন্তানকে। ছেলে-মেয়ে সবাইকে বিয়ে দিয়েছে। পড়ালেখা শিখিয়েছেন। 
২০০০ সালে স্বামী আব্দুস সোবাহানের মৃত্যুর পর ছেলে মেয়েদের আসল চেহারা ফুটে ওঠে বৃদ্ধ মায়ের কাছে। ছেলে মেয়েরা সবাই আলাদা সংসার গড়ে তোলেন। তাদের সংসারে আয় রোজগারও অনেক ভালো। কিন্তু মায়ের ঘরের প্রতি লোভ হয় তাদের। কথায় কথায় নিজের ছেলে-মেয়েরা ও ছেলের বউ মা আকলিমাকে নিয়ে নানা কটূকথা বলেন। কেউ বলে কামাই করে খাও। আমরা আর টানতে পারছি না। বসে থাকলে কি আর ভাত পাওয়া যায়। কোথায় থেকে আসে খাবার আর কাপড়-চোপড়।
এসব মুখ বুজে সহ্য করেও কিছুদিন মরার মতো খেয়ে না খেয়ে স্বামীর স্মৃতি আকড়ে ধরে পড়ে থাকে তার ঘরে। কিন্তু ছেলের বউদের নজর ছিল ওই ঘরের দিকে। একদিন শাশুড়ির খাবার বন্ধ করে দেন। সকাল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত অনাহারে থেকেও তার ঘরে এক থালা ভাত দেয়নি ৫ ছেলে-মেয়ের একজনও। বাধ্য হয়ে অনাহারেই ঘুমিয়ে পড়ে আকলিমা। সকালে উঠে ছেলে-মেয়েদের জিজ্ঞেস করতেই তারা জবাব দেয় আমাদের নিজেদের খাবার জোগার করাইতো কঠিন। সে জন্য হয়তো ভাতের থালাটা তোমাকে দেয়নি।
ছেলের মুখে এমন জবাব শুনে রাগে ক্ষোভে বৃদ্ধ মাতা আকলিমা বেগম ঘরবাড়ি ছেড়ে দুই মাস আগে পাশের একজনের সহযোগিতায় চলে আসেন ছোট সোহাগী গ্রামের মেহেরুন্নেছা বৃদ্ধাশ্রমে। বৃদ্ধ আকলিমা কেঁদে কেঁদে বলেন বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা আপেল মাহমুদের কাছে। ঘটনা শুনে তিনি বৃদ্ধাশ্রমের টিনশেট একটি ঘরের বিছানা দেখিয়ে বলেন, এখন থেকে আপনি অন্যদের মতো আমাদের মা। আপনার ঘর এটা। সেই থেকে তিনি আছেন বৃদ্ধাশ্রমে। দুই মাস থেকে বৃদ্ধাশ্রমে থাকলেও তার খবর পৌঁছে যায় তার ছেলে-মেয়েদের কাছে। মায়ের খবর পেয়েও তারা দেখতেও আসেনি কোনোদিন। 
এখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তার চিকিৎসা চলছে বৃদ্ধাশ্রমে। এমন সংবাদ পেয়েও তার ৫ সন্তানের একজনও তার মাকে দেখতে যায়নি। তাতে তার আফসোস নেই। এখানে তিনি ভালোই আছেন। খেতে পারছেন, ঘুমাতে পারছেন, অন্যদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটলেও ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের কথা মনে পড়লে বৃদ্ধ বয়সে তিনি শুয়ে শুয়ে কাঁদেন। কথা বলতেই তিনি বলে ওঠেন আমার কাছে কোনো দিবস বলতে কিছু নাই। ওইসব বুঝি না শুধু বুঝি ছিল তার কপালে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL