ভালুকা হাসপাতালের বেহাল রাস্তার  কারণে বাড়ছে জনমনে তীব্র ক্ষোভ

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:


মাত্র এক থেকে দেড়শো মিটার রাস্তার বেহালদশার কারণে যেমনি চলাচলে বেড়েছে ভোগান্তি তেমনি জনমনেও বেড়েছে তীব্র ক্ষোভ। বলছিলাম ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার পাঁচরাস্তার মোড় থেকে বের হওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাস্তাটির কথা। 
দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তাটির বেহালদশা তৈরি হয়েছে। খানাখন্দ, পিচ ওঠে যাওয়া, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অভাবে বৃষ্টির পানি জমে থাকা, রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সেখানে পানি জমে কাঁদায় পরিণত হওয়া, রাস্তা ঘেঁষে দোকানপাট তৈরি হওয়াসহ চলাচলে মারাত্মক অসুবিধায় পড়ছেন মানুষজন। 
ওই রাস্তাটি দিয়ে শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরাই যাতায়াত করে থাকেন না বরং পৌরসভার হাসপাতাল মহল্লাসহ উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নের ভান্ডাব, ধাইরাপাড়া, ভয়টাপাড়া, সাতেঙ্গা, কুচখালি, মেদুয়ারী ইউনিয়নের শান্তিরবাজার, সোয়াইল, জগৎবেড়, পানিভান্ডা, বান্দিয়া, নিঝুরী, বগাজান, বনকূয়া, ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও, কাতলামারী, উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী, মরচীসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ ওই রাস্তাটি দিয়ে ভালুকা সদরে চলাচল করে থাকেন। 
ধাইরাপাড়া গ্রামের যুবক হৃদয় মিয়া বলেন, এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন আমাকে বাড়ি থেকে ভালুকা সদরে আসা যাওয়া করতে হয়। আমাদের আশপাশের বহু মানুষজনের চলাচলের এটিই একমাত্র রাস্তা। মোটরসাইকেল দিয়ে আসা যাওয়ার সময় প্রায়ই চাকা স্লিপ খেতে হয়েছে। অনেক সময় নোংরা পানিতে জুতা প্যান্ট নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়াতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদেরকে। 
হাসপাতাল মহল্লার বাসিন্দা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমি বেশ কয়েকবার আসা যাওয়া করি এই রাস্তা দিয়ে। হেঁটে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। অনেক সময় অটো চলাচলের সময় রাস্তা পানি ছিটকে এসে জামা কাপড় নোংরা হয়েছে। 
পথচারি আলী হোসেন জানান, ভালুকা সদরের পাঁচরাস্তা এবং হাসপাতাল রোড এটি একটি ব্যস্ততম রাস্তা। এখানে প্রতিদিন শত শত রোগীসহ হাজারো মানুষ চলাচল করে। রাস্তার বেহালদশা এটি একদিনের নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেখছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কি দেখেন না এই রাস্তার এমন করুন অবস্থা। রাস্তার কারণে প্রতিদিনই ছোটখাটো দূর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। বাসস্ট্যান্ড থেকে কোনো অটোরিক্সা এই রাস্তায় আসতে চায় না। অনেক সময় দ্বিগুন টাকা ভাড়া দিয়ে হাসপাতালে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে তাদেরকে।  
ভয়টাপাড়ার বাবুল মন্ডল জানান, হেঁটেই তো চলা যায় না, রোগীর কি অবস্থা আপনি বুঝেন। গর্ভবর্তী মহিলাসহ মুমূর্ষ রোগীদেরকে মারাত্মক ঝুঁকিতে রাস্তা পারি দিতে হচ্ছে। আমরা অটো নিয়ে গেলে হেলে দুলে যাত্রীরা অনেক সময় গর্তে পড়ে যায়। অটোতে বসা থাকলেও ঝাকুনিতে মাথায় ও শরীরে আঘাত প্রাপ্ত হয়। 
পৌর বিএনপি নেতা জহির রায়হান বলেন, এই রাস্তাটির কথা বলবো কি, এটা তো দেখাই যাচ্ছে। আমরা সবাই দেখছি পৌর প্রশাসক কি দেখেন না? ছোটবড় গাড়িগুলো যখন রাস্তাটি দিয়ে চলে তখন মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রাণহানির আগে আমাদের দাবী প্রশাসন যাতে এই রাস্তাটি নতুন ভাবে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। 
এ ব্যাপারে মন্তব্য জানার জন্য ভালুকা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL