রংপুরে ১০ দিনে ৬ খুনে বাড়ছে আতস্ক

রংপুর ব্যুরো
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

মাদকের ছোবল আর একের পর এক হত্যাকাণ্ড। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতস্কিত হয়ে পড়েছে নগরীর মানুষ। রিকসা গ্যারেজ, রাস্তা এমন কী মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিজ ঘরের মতো নিরাপদ স্থানে একই পরিবারের ৪ জন শ্বাসরোধ করে হত্যা করার মতো ঘটনায় আতস্কিত মানুষ। সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এ কথা বলার আর অপেক্ষা করে না। রংপুর নগরী ও এর আশপাশের এলাকায় মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তিনটি পৃথক ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছে। একই পরিবারের চার সদস্যসহ একের পর এক এই নৃশংস হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরপর কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার রাতে রংপুরের হারাগাছ থানা এলাকায়। এর আগে নগরের তাজহাটে এক ব্যক্তি এবং মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রবিবার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানা এলাকার চরচতুরা গ্রামের একটি নির্জন সড়ক থেকে আবু সিদ্দিক (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারি হকের বাজার এলাকার বাসিন্দা। নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, রবিবার সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট সদরের মিলন বাজারে গিয়েছিলেন সিদ্দিক। রাত ৯টার দিকে তাঁর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পান। হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান বলেন, নিহতের মুখ, ঘাড় ও গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে, ২২ শনিবার আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন, রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ডাকাতি বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে পুলিশ জানায়, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই তরুণ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করেন এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। ১০ দিনে ধারাবাহিক ৩টি নৃশংসতার সূচনা হয় গত ১৩ আগস্ট সকালে। রংপুর নগরীর তাজহাট আনসারি মোড় এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজের ভেতর থেকে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাইরে থেকে শাটারে তালা দেওয়া গ্যারেজের ভেতর থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তালা কেটে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তিনটি ভিন্ন স্থানে নৃশংস ঘটনায় রংপুর নগরীর সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি বিঘ্নিত হচ্ছে এবং দ্রুত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছে।
 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL