নির্মাণ কাজ শেষ হবার চার বছরেও চলাচল শুরু হয়নি

সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় ৮ গ্রামের মানুষকে ৩ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বালাটারী গ্রামে মরা তিস্তা খালের ওপর ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু চার বছরেও মানুষের চলাচলের কাজে আসেনি। ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কার্যত অচল হয়ে আছে।

এর ফলে চাকিরপশার ও নাজিমখান ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন বিকল্প পথে প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময়, শ্রম ও যাতায়াত ব্যয়—সবই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৯–২০ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৭৮ লাখ টাকা। কুড়িগ্রামের মেসার্স শীতল কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোকছেদুল হকের সঙ্গে নির্মাণ চুক্তি হয়।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর এবং পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের পারাপার দুর্ভোগ দূর হবে—এই প্রত্যাশায় তারা সেতু নির্মাণকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাস্তা না থাকায় সেই সেতু এখন শুধু দাঁড়িয়ে আছে, ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের সময় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও সে সময় প্রভাবশালী মহলের কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

ঠিকাদার মোকছেদুল হক বলেন, “উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। খুব দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা হবে।” তিনি আরও জানান, কাজের দায়িত্বে থাকা সাব-ঠিকাদার রাকিবুজ্জামান রাকিব বর্তমানে পলাতক।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ঠিকাদারকে এখনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। চলতি মাসের মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হলে চুক্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়েছে।”

দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL