‘২ লাখ টাকা নিছি’—দপ্তরি নিয়োগে ঘুসের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষককে শোকজ

রেজাউল করিম বিপ্লব ময়মনসিংহ (ঈশ্বরগঞ্জ)
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

অভিযোগ উঠেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম দপ্তরি নিয়োগের নামে অর্থ নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিওতে প্রধান শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘২ লাখ টাকা নিছি, আরও দশ লাখ টাকা নেয়াম।’ একই ভিডিওতে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার নামেও ১০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। এ অর্থ গ্রহণের বিষয়ে সরকারি চিঠি রয়েছে এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি জানেন—ভিডিওতে এমন দাবিও করতে শোনা যায় তাকে।

শোকজ, সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তাকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ জানান, নাজমুল আলম একদিনের ছুটিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
এদিকে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নাপ্তের বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তারা।
 
অভিযোগ ও শোকজের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম বলেন, ‘শোকজের বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো চিঠি হাতে পাইনি।’

অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নিয়ে এখন উপজেলা শিক্ষা বিভাগের তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা। শোকজের জবাব এবং পরবর্তী তদন্তে অভিযোগের বিষয়ে কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত

// Facebook Graph API URL