স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, যেসব জঙ্গি-সন্ত্রাসী ছিল ৫ আগস্টের পর তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে গেছে। তাদের যারা সমর্থক ছিল, সন্ত্রাসী ছিল তারাও এখন নেই। তাদের সাহস নেই বলেই পালিয়ে নানা কথা বলছে। নির্বাচন অস্থিতিশীল করার কোনো আশঙ্কা নেই।
তিনি বলেন, আমরা অনুরোধ করবো এসব জঙ্গি ও ফ্যাসিস্টদের অন্যান্য দেশগুলো যেন আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়। তাদের সাহস থাকলে দেশে এসে আইনের আশ্রয় নিয়ে কথা বলুক।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে ৬৩তম ব্যাচ নারী কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কোনো সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না।
সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। কোনো কারা সদস্য স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়, এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। জনকল্যাণই একমাত্র তার ব্রত।
নবীন কারারক্ষীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আপনারা যে পথে পা রাখতে যাচ্ছেন, তা সম্মানজনক, কিন্তু একইসঙ্গে কঠিন ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ।
দীর্ঘ সময় কঠোর শারীরিক, মানসিক ও একাডেমিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের প্রস্তুত করেছেন মহান দায়িত্ব পালনের জন্য। এই অর্জন আপনাদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও জনগণের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, কারাগার অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কারা বন্দিদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করে, অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং সামাজিক পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় কারা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬৩তম ব্যাচের নারী কারারক্ষীদের মধ্যে ড্রিলে প্রথম স্থান অধিকার করেন লিজা খাতুন, পিটিতে মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, ফায়ারিংয়ে মানসুরা, আন আর্মড কম্ব্যট জুথি পারভীন ও লিখিত পরিক্ষায় মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা প্রথম স্থান অধিকার করেন।
এ ছাড়া সব বিষয়ে প্রথম হন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্না। অনুষ্ঠানে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহার হোসেন, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল মো. তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম, মো. জাহাঙ্গীর কবির ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতান উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/সবা




















