জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপে খাদ্য ও কৃষি বিজ্ঞান গ্রুপে সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মেধাবী শিক্ষার্থী রিদিমা আহমেদ রিয়া।
সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে। রিদিমা আহমেদ রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎসবিজ্ঞান অনুষদের , ফিশ হেলথ ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের , ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ।
তার গবেষণার বিষয় বস্তু ছিল তেলাপিয়া (Oreochromis niloticus) মাছে Aeromonas hydrophila এবং Streptococcus agalactiae এর বিরুদ্ধে বায়োফিল্ম-ভিত্তিক দ্বিযোজী মৌখিক টিকার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সুরক্ষামূলক কার্যকারিতা মূল্যায়ন ।
মূলত গবেষণার মৌলিকত্ব, মেধা তালিকা এবং উপস্থাপনার ভিত্তিতে প্রতিবছর এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রিদিমা তার শিক্ষা জীবনে সবসময়ই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। এবারের ফেলোশিপে তার গবেষণার বিষয়টি বিচারকদের বিশেষ নজর কেড়েছে। যার ফলে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে তিনি শীর্ষস্থান দখল করেন।
আগামীতে উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করে দেশের কৃষি বিপ্লবে সরাসরি ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ গবেষক। নিজের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রিদিমা বলেন,” জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (NST) ফেলোশিপ ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে খাদ্য ও কৃষি বিজ্ঞান শাখায় নির্বাচিত হওয়াকে আমি অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করছি। স্রষ্টার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। মেধা তালিকায় শুরুতে অবস্থান করা নিঃসন্দেহে একটি আনন্দদায়ক বিষয়, তবে এটিকে আমি কোনো চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখি না। আমি এখনো একজন শিক্ষার্থী, শেখার পর্যায়ে আছি—আমার জানার পরিধি সীমিত, এখনো অনেক কিছু শিখার বাকি আছে। বর্তমানে আমি মাছের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধে বায়োফিল্মভিত্তিক ভ্যাকসিন–সংক্রান্ত একটি প্রয়োগধর্মী গবেষণায় কাজ করছি।
তবে এই অর্জনকে আমি ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই দেখি। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশ হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ-আল মামুন স্যারের আন্তরিক দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও গবেষণাভিত্তিক চিন্তাধারা, পাশাপাশি আমার বিভাগের সকল সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের সহায়তা ও উৎসাহ আমাকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই গবেষণা ভবিষ্যতে দেশের মৎস্য খাতের কাজে লাগাতে পারব বলে আশা করি এবং এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ, সামনে যেন আরও ভালোভাবে গবেষণা করতে ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারি।
এছাড়া আমার সাথে যাঁরা NST ফেলোশিপে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের সকলের জন্যই আমি আন্তরিকভাবে আনন্দিত। আমি বিশ্বাস করি, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্য ও সম্ভাবনাময় গবেষক হবেন। মেধা তালিকা আসলে কখনোই কারো সক্ষমতার পূর্ণ প্রতিফলন নয়—যারা যারা নির্বাচন হয়েছেন সকলেই অত্যন্ত মেধাবী বলে আমি মনে করি, কেউ কম বেশি নয়। মেরিটের চেয়ে NST ফেলোশিপে নির্বাচিত হওয়াই আসলে প্রধান বিষয়।।”
রিদিমার সুপারভাইজার ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন,” রিদিমা আহমেদ রিয়ার এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। তিনি মাৎস্যবিজ্ঞান (সম্মান) পর্যায়ে তার ব্যাচে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন এবং এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ–৫ অর্জনের মাধ্যমে ধারাবাহিক একাডেমিক উৎকর্ষের স্বাক্ষর রেখেছেন। আমাদের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় দিন দিন ভালো করছে—রিয়ার এই অবস্থান তারই প্রমাণ।”
উল্লেখ্য, এ বছর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫ জন এনএসটি ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন এবং এতে ১৬৭ জন শিক্ষার্থীই এ ফেলোশিপ অর্জন করেন ।
শু/সবা
























