০৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন বছরে নতুন আশা: তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের চোখে ২০২৬

নতুন বছরের আগমন সবসময়ই মানুষের জীবনে এক বিশেষ পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে। এটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতা বদল নয়; বরং নতুন সম্ভাবনা, স্বপ্ন ও আশা নিয়ে পথচলার এক নতুন অধ্যায়। নতুন বছরের প্রত্যাশায় আমরা দেশটাকে এক অন্যরকম রূপে দেখতে চাই—যেখানে থাকবে অসাম্প্রায়িকতা, শান্তি ও পারস্পরিক সহনশীলতা। আমাদের সম্মিলিত সুপ্রচেষ্টা ও সৎকর্মের মাধ্যমেই দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। একটি সুন্দর ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে সবাই একতাবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনাও জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও দৃঢ় অঙ্গীকার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার প্রধান শক্তি। রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে নতুন বছর ঘিরে তাদের ব্যক্তিগত ভাবনা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্রকেন্দ্রিক স্বপ্নের কথা।

শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, নৈতিকতা ও ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলাকে নতুন বছরের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন তিতুমীরস্থ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের নেতারা।

এ বিষয়ে তিতুমীরস্থ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি রাজিব হোসেন নীরব বলেন,
“নতুন বছর আমাদের সামনে নিয়ে আসে নতুন সম্ভাবনা, নতুন প্রত্যয় ও দায়িত্বশীলতার ডাক। সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই বছরে আমাদের লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং তিতুমীর ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। পিছিয়ে পড়া ও অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই আমাদের অঙ্গীকার।” নিজের প্রতি যত্ন, মানবিকতা ও আত্মোন্নয়নকে নতুন বছরের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে (২৩–২৪) সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাবীহা তাসনীম লাবণ্য বলেন,
“নতুন বছর শুরু হতেই নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিজেকে ভালোবাসা আমার প্রধান অগ্রাধিকার। বন্ধুদের সঙ্গে সহানুভূতি ও মমতা বজায় রেখে পরস্পরের পাশে থাকাটাই এ বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষায় ধৈর্য ও সততার সঙ্গে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে চাই। নীরবে সাহায্য করার মধ্য দিয়েই সত্যিকারের মানবতা প্রকাশ করতে চাই। নতুন বছর মানে পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি না করা এবং আত্মবিশ্বাসের নতুন দিগন্ত স্পর্শ করা।”

নতুন বছরকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অনুপ্রেরণা ও অপূর্ণতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন আরেকদল শিক্ষার্থী। (২৩–২৪) সেশনের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আফ্রিদি বলেন,
“নতুন বছর মানে শুধু তারিখের পরিবর্তন নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। পুরনো অপূর্ণতাগুলো পেছনে রেখে নতুন আশায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই নতুন বছর। নিজের জন্য, পরিবার ও দেশের জন্য ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখি। ২০২৬ হোক শান্তি ও সফলতার বছর।”দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশাও উঠে এসেছে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে।

এ বিষয়ে (২১–২২) সেশনের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস চন্দ্র রায় বলেন,
“নতুন বছরে দেশকে নিয়ে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি। আশা করি, এ বছর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সবাই দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। বিগত সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আবারও ফিরে আসুক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”নতুন বছরকে আত্মশুদ্ধি ও নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

(২০২৩–২০২৪) সেশনের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অনুপমা দাস বন্যা বলেন, “নতুন বছর মানে ক্যালেন্ডারের বদল নয়, জীবন নামের ডায়েরিতে নতুন করে ৩৬৫টি পৃষ্ঠার সংযোজন। পুরনো ভুলগুলো ঝরাপাতার মতো ঝরে গিয়ে জীবনে আসে নতুন সজীবতা। সূর্যের প্রথম কিরণ যেন শুধু আলো নয়, বরং শান্তি, সম্ভাবনা ও নতুন শুরুর প্রতীক।”

জুনিয়রদের জন্য সাহস, মুক্তচিন্তা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। (২১–২২) সেশনের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান মোল্লা বলেন, “নতুন বছর আমার জুনিয়রদের জন্য হোক ভয় ভাঙার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং মুক্তচিন্তাকে ধারণ করার বছর। আপস নয়—সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানই হোক তাদের পরিচয়। জ্ঞান, মানবিকতা ও নৈতিক সাহসে বলীয়ান হয়ে তারাই ক্যাম্পাসে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে—এটাই নতুন বছরের প্রত্যাশা।”

নতুন বছরে ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন অনেকে।(২৩–২৪) সেশনের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু হানিফা বলেন, “নতুন বছরে লেখাপড়া, রাজনীতি ও ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চাই। রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। সভ্যতা, শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে একটি সুন্দর ও মানবিক জীবনই আমার লক্ষ্য। ”নতুন বছরকে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র নির্মাণের সূচনা হিসেবে দেখছেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরাও।

(২৩–২৪) সেশনের বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী জেভিয়া চাকমা বলেন, “নতুন বছর মানেই নতুন আশা ও নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ। পুরনো গ্লানি মুছে সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনা করতে চাই। নতুন বছরে নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দেশের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। দেশের ভেতরে যেন সর্বদা শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে। ২০২৬ শুধু একটি সাল নয়, এটি এক সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রের সূচনা। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

লিটন দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

নতুন বছরে নতুন আশা: তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের চোখে ২০২৬

আপডেট সময় : ০৬:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের আগমন সবসময়ই মানুষের জীবনে এক বিশেষ পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে। এটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতা বদল নয়; বরং নতুন সম্ভাবনা, স্বপ্ন ও আশা নিয়ে পথচলার এক নতুন অধ্যায়। নতুন বছরের প্রত্যাশায় আমরা দেশটাকে এক অন্যরকম রূপে দেখতে চাই—যেখানে থাকবে অসাম্প্রায়িকতা, শান্তি ও পারস্পরিক সহনশীলতা। আমাদের সম্মিলিত সুপ্রচেষ্টা ও সৎকর্মের মাধ্যমেই দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। একটি সুন্দর ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে সবাই একতাবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনাও জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও দৃঢ় অঙ্গীকার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার প্রধান শক্তি। রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে নতুন বছর ঘিরে তাদের ব্যক্তিগত ভাবনা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্রকেন্দ্রিক স্বপ্নের কথা।

শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, নৈতিকতা ও ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলাকে নতুন বছরের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন তিতুমীরস্থ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের নেতারা।

এ বিষয়ে তিতুমীরস্থ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি রাজিব হোসেন নীরব বলেন,
“নতুন বছর আমাদের সামনে নিয়ে আসে নতুন সম্ভাবনা, নতুন প্রত্যয় ও দায়িত্বশীলতার ডাক। সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই বছরে আমাদের লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং তিতুমীর ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। পিছিয়ে পড়া ও অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই আমাদের অঙ্গীকার।” নিজের প্রতি যত্ন, মানবিকতা ও আত্মোন্নয়নকে নতুন বছরের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে (২৩–২৪) সেশনের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাবীহা তাসনীম লাবণ্য বলেন,
“নতুন বছর শুরু হতেই নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া ও নিজেকে ভালোবাসা আমার প্রধান অগ্রাধিকার। বন্ধুদের সঙ্গে সহানুভূতি ও মমতা বজায় রেখে পরস্পরের পাশে থাকাটাই এ বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষায় ধৈর্য ও সততার সঙ্গে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে চাই। নীরবে সাহায্য করার মধ্য দিয়েই সত্যিকারের মানবতা প্রকাশ করতে চাই। নতুন বছর মানে পুরনো ভুলের পুনরাবৃত্তি না করা এবং আত্মবিশ্বাসের নতুন দিগন্ত স্পর্শ করা।”

নতুন বছরকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অনুপ্রেরণা ও অপূর্ণতা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন আরেকদল শিক্ষার্থী। (২৩–২৪) সেশনের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আফ্রিদি বলেন,
“নতুন বছর মানে শুধু তারিখের পরিবর্তন নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। পুরনো অপূর্ণতাগুলো পেছনে রেখে নতুন আশায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই নতুন বছর। নিজের জন্য, পরিবার ও দেশের জন্য ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখি। ২০২৬ হোক শান্তি ও সফলতার বছর।”দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশাও উঠে এসেছে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে।

এ বিষয়ে (২১–২২) সেশনের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস চন্দ্র রায় বলেন,
“নতুন বছরে দেশকে নিয়ে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি। আশা করি, এ বছর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং দল-মত নির্বিশেষে সবাই দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। বিগত সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আবারও ফিরে আসুক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”নতুন বছরকে আত্মশুদ্ধি ও নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

(২০২৩–২০২৪) সেশনের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী অনুপমা দাস বন্যা বলেন, “নতুন বছর মানে ক্যালেন্ডারের বদল নয়, জীবন নামের ডায়েরিতে নতুন করে ৩৬৫টি পৃষ্ঠার সংযোজন। পুরনো ভুলগুলো ঝরাপাতার মতো ঝরে গিয়ে জীবনে আসে নতুন সজীবতা। সূর্যের প্রথম কিরণ যেন শুধু আলো নয়, বরং শান্তি, সম্ভাবনা ও নতুন শুরুর প্রতীক।”

জুনিয়রদের জন্য সাহস, মুক্তচিন্তা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। (২১–২২) সেশনের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান মোল্লা বলেন, “নতুন বছর আমার জুনিয়রদের জন্য হোক ভয় ভাঙার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং মুক্তচিন্তাকে ধারণ করার বছর। আপস নয়—সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানই হোক তাদের পরিচয়। জ্ঞান, মানবিকতা ও নৈতিক সাহসে বলীয়ান হয়ে তারাই ক্যাম্পাসে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে—এটাই নতুন বছরের প্রত্যাশা।”

নতুন বছরে ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন অনেকে।(২৩–২৪) সেশনের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু হানিফা বলেন, “নতুন বছরে লেখাপড়া, রাজনীতি ও ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চাই। রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। সভ্যতা, শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে একটি সুন্দর ও মানবিক জীবনই আমার লক্ষ্য। ”নতুন বছরকে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র নির্মাণের সূচনা হিসেবে দেখছেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরাও।

(২৩–২৪) সেশনের বোটানি বিভাগের শিক্ষার্থী জেভিয়া চাকমা বলেন, “নতুন বছর মানেই নতুন আশা ও নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ। পুরনো গ্লানি মুছে সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনা করতে চাই। নতুন বছরে নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দেশের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। দেশের ভেতরে যেন সর্বদা শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে। ২০২৬ শুধু একটি সাল নয়, এটি এক সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রের সূচনা। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”

শু/সবা