1:56 pm, Tuesday, 28 April 2026

কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকার শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের নিকট পাওনা প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা, যা মওকুফের আওতায় আসবে।

মওকুফ কার্যক্রমে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। ঋণের বোঝা কমে যাওয়ায় কৃষকরা উন্নত মানের বীজ ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এছাড়াও, ঋণমুক্ত হওয়ায় তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা স্থানীয় উচ্চ সুদের মহাজন ঋণের চাপ কমাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ঋণ মওকুফের ফলে শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন, জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের (১৯৯১-১৯৯৬) সময়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষককে অর্থনৈতিক মুক্তি এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

16 − seven =

Popular Post

বিমানবন্দরে জোরদার নিরাপত্তা, শাহজালালে বাড়তি নজরদারি

কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত

Update Time : ০৪:১৭:০৭ pm, Thursday, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকার শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের নিকট পাওনা প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা, যা মওকুফের আওতায় আসবে।

মওকুফ কার্যক্রমে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। ঋণের বোঝা কমে যাওয়ায় কৃষকরা উন্নত মানের বীজ ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এছাড়াও, ঋণমুক্ত হওয়ায় তারা ব্যাংক থেকে পুনরায় স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন, যা স্থানীয় উচ্চ সুদের মহাজন ঋণের চাপ কমাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ঋণ মওকুফের ফলে শস্য, মৎস্য ও পশুপালন খাতে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন, জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের (১৯৯১-১৯৯৬) সময়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষককে অর্থনৈতিক মুক্তি এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছিল।

শু/সবা