সারাদেশের মতো রংপুর বিভাগেও হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ পর্যন্ত বিভাগে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আট জেলায় হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে সেখানে মাত্র ৬টি শয্যা থাকায় শয্যাসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হাম ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত কক্ষটি ছোট হওয়ায় অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে রাখা হচ্ছে।
নীলফামারীর জলঢাকা থেকে আসা এক অভিভাবক জানান, বেড না থাকায় তাদের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরে র্যাশ (লালচে দানা) না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা কঠিন। তবে অধিকাংশ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. খালিদ বলেন, গত দুই বছর নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ৫ মাস থেকে ১ বছরের শিশু।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, নমুনা পরীক্ষা করে ইতোমধ্যে কয়েকজন শিশুর শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। তিনি জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ও সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
শু/সবা






















