রানা প্লাজার ১৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ ও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ শ্রমিকদের » দৈনিক সবুজ বাংলা
০৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রানা প্লাজার ১৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ ও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ শ্রমিকদের

সাভারের রানা প্লাজা ধসে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা ১৩ বছর পরও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১,১৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং প্রায় দুই হাজার শ্রমিক আহত হন। সেই ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তি সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রানা প্লাজার সামনে নির্মিত শহীদ বেদীতে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়।

দুর্ঘটনায় বাম পা হারানো শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, এখন আর কাজ করতে পারেন না এবং এখনও যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাননি। তিনি চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।

একইভাবে, দুই সন্তান হারানো রুবি বেগম জানান, এখন তার জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় নেই। স্বামীও আগে মারা গেছেন, ফলে তিনি ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, তার এক সন্তানের লাশও উদ্ধার হয়নি।

আহত শ্রমিক পারুল আক্তার বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি আর কাজ করতে পারেন না এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। জেসমিন আক্তার জানান, দুর্ঘটনার পর তার ফুসফুস ও মেরুদণ্ডে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও ভুক্তভোগীরা প্রকৃত ক্ষতিপূরণ পাননি এবং বিচার প্রক্রিয়াও সন্তোষজনক নয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র-এর আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল আলম মিন্টু বলেন, এখন পর্যন্ত শ্রমিকরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার পাননি।

এছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন-এর সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রতি বছর একই দাবিগুলো জানানো হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।

কর্মসূচি থেকে শ্রমিকরা রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

১৩ বছর পরও এই ট্র্যাজেডি দেশের শ্রম খাতের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও শ্রমিক অধিকারের প্রশ্নে বড় এক প্রতীক হয়ে রয়েছে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জঁ-পল সার্ত্রের ‘ম সঁ স্কাপটুর’’ অবলম্বনে ‘চেম্বার অব বিয়িং’ উৎসবে বধ্যভূমি’র বিশেষ প্রদর্শনী

রানা প্লাজার ১৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ ও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ শ্রমিকদের

আপডেট সময় : ০১:৪৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সাভারের রানা প্লাজা ধসে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা ১৩ বছর পরও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১,১৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং প্রায় দুই হাজার শ্রমিক আহত হন। সেই ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তি সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রানা প্লাজার সামনে নির্মিত শহীদ বেদীতে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে নিহতদের স্মরণ করা হয়।

দুর্ঘটনায় বাম পা হারানো শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, এখন আর কাজ করতে পারেন না এবং এখনও যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাননি। তিনি চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও দোষীদের বিচার দাবি করেন।

একইভাবে, দুই সন্তান হারানো রুবি বেগম জানান, এখন তার জীবিকা নির্বাহের কোনো উপায় নেই। স্বামীও আগে মারা গেছেন, ফলে তিনি ভিক্ষা করে জীবন চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, তার এক সন্তানের লাশও উদ্ধার হয়নি।

আহত শ্রমিক পারুল আক্তার বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি আর কাজ করতে পারেন না এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। জেসমিন আক্তার জানান, দুর্ঘটনার পর তার ফুসফুস ও মেরুদণ্ডে জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও ভুক্তভোগীরা প্রকৃত ক্ষতিপূরণ পাননি এবং বিচার প্রক্রিয়াও সন্তোষজনক নয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র-এর আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল আলম মিন্টু বলেন, এখন পর্যন্ত শ্রমিকরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার পাননি।

এছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন-এর সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রতি বছর একই দাবিগুলো জানানো হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।

কর্মসূচি থেকে শ্রমিকরা রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ভবন মালিক সোহেল রানাসহ দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

১৩ বছর পরও এই ট্র্যাজেডি দেশের শ্রম খাতের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও শ্রমিক অধিকারের প্রশ্নে বড় এক প্রতীক হয়ে রয়েছে।

শু/সবা