০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে পানির সংকট সমাধানে ৩৯২১ কোটি টাকার প্রকল্প বসানো হবে ৬০টি গভীর নলকূপ

চট্টগ্রাম মহানগরীতে দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্প (CWSIP)’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন উঁচু ও সংকটাপন্ন এলাকায় বসানো হবে ৬০টি গভীর নলকূপ। একই সঙ্গে প্রতিস্থাপন করা হবে ৩০০ কিলোমিটার পুরনো ও জরাজীর্ণ পাইপলাইন এবং ১ লাখ গ্রাহককে স্মার্ট মিটারের আওতায় আনা হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ১০, ১১, ১৮ এবং ৩৭ থেকে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি সংকট সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে এখনও ওয়াসার সংযোগ পৌঁছায়নি, আবার যেগুলোতে আছে সেগুলোর অনেকেই পানির চাপ না থাকায় সঠিকভাবে পানি পাচ্ছেন না। ফলে স্থানীয়রা কিনে পানি খাওয়া, পুকুর বা গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করে থাকেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করছে ওয়াসা।

প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), ৫৭৮ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার এবং ৭৪ কোটি টাকা ওয়াসার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। ১২ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি গ্রেস পিরিয়ডসহ বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের জন্য ১০ মে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মধ্যে ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং ২০ এপ্রিল একনেক সভায় এটি অনুমোদন পেয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের আওতায় শুধু পাইপ প্রতিস্থাপনই নয়, নগরবাসীকে আধুনিক ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য স্মার্ট মিটার ও ‘ডিএমএ’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে পানির অপচয় রোধ, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত ও রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি জানান, অতীতে কর্ণফুলী সার্ভিস এরিয়ায় এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওয়াসার ১০ শতাংশ সিস্টেম লস কমানো সম্ভব হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা বাকি পাঁচটি হাইড্রোলিক জোনে কাজে লাগানো হবে।

ইতোমধ্যে বিদেশি কনসালটেন্ট নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং ডিসেম্বর নাগাদ মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে ওয়াসা সূত্র জানিয়েছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে পানির সংকট সমাধানে ৩৯২১ কোটি টাকার প্রকল্প বসানো হবে ৬০টি গভীর নলকূপ

আপডেট সময় : ০১:১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

চট্টগ্রাম মহানগরীতে দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্প (CWSIP)’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন উঁচু ও সংকটাপন্ন এলাকায় বসানো হবে ৬০টি গভীর নলকূপ। একই সঙ্গে প্রতিস্থাপন করা হবে ৩০০ কিলোমিটার পুরনো ও জরাজীর্ণ পাইপলাইন এবং ১ লাখ গ্রাহককে স্মার্ট মিটারের আওতায় আনা হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ১০, ১১, ১৮ এবং ৩৭ থেকে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি সংকট সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে এখনও ওয়াসার সংযোগ পৌঁছায়নি, আবার যেগুলোতে আছে সেগুলোর অনেকেই পানির চাপ না থাকায় সঠিকভাবে পানি পাচ্ছেন না। ফলে স্থানীয়রা কিনে পানি খাওয়া, পুকুর বা গভীর নলকূপের ওপর নির্ভর করে থাকেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করছে ওয়াসা।

প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), ৫৭৮ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার এবং ৭৪ কোটি টাকা ওয়াসার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। ১২ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি গ্রেস পিরিয়ডসহ বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের জন্য ১০ মে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের মধ্যে ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং ২০ এপ্রিল একনেক সভায় এটি অনুমোদন পেয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের আওতায় শুধু পাইপ প্রতিস্থাপনই নয়, নগরবাসীকে আধুনিক ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য স্মার্ট মিটার ও ‘ডিএমএ’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে পানির অপচয় রোধ, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত ও রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি জানান, অতীতে কর্ণফুলী সার্ভিস এরিয়ায় এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওয়াসার ১০ শতাংশ সিস্টেম লস কমানো সম্ভব হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা বাকি পাঁচটি হাইড্রোলিক জোনে কাজে লাগানো হবে।

ইতোমধ্যে বিদেশি কনসালটেন্ট নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং ডিসেম্বর নাগাদ মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে বলে ওয়াসা সূত্র জানিয়েছে।

এমআর/সবা