০৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভোলার তজুমদ্দিনে শিশু বিবাহ হ্রাসকরণে এডভোকেসি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত 

ভোলা প্রতিনিধি
তজুমদ্দিনে শিশু বিবাহ হ্রাসকরণে এডভোকেসি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ অক্টোবর) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইসিডিএস এর উদ্যোগে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা মিলনায়তনে শিশু বিবাহ হ্রাসকরণে এডভোকেসি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রমের আওতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারী মো: সোহেল ইমাম খান।
আলোচনা সভায় সভায় সভাপতিত্ব করেন আইসিডিএস এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মর্তুজা খালেদ। কর্মশালাটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: গোলাম কিবরিয়া। এসময় সেখানে আরো  বক্তব্য রাখেন,  উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: সিদ্দিকুর রহমান প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারী মো: সোহেল ইমাম খান বলেন, বাল্যবিয়েতে বাংলাদেশ আজ ৫ম অবস্থানে। দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাল্য বিয়ে হয় বাংলাদেশে,আর বাংলাদেশে ভোলা জেলায়। ভোলার চারদিক নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানে বাল্যবিয়ের হার বেশি। আমাদের সমাজে মেয়েদেরকে বোঝা মনে করা হয় যেখানে স্বয়ং নবীজি বলেছেন মেয়েরা রহমত। যে ঘরে কন্যা সন্তানের জন্ম হয় সেখানে আল্লাহ বরকত দেন, তিনি তার বান্দার উপর যখন খুশি হন তখনই কন্যা সন্তান দেন তাকে। যেখানে এ তালিকায় প্রথম দিকে আফ্রিকার সেমালিয়া সহ কয়েক দেশ যেখানে খুধা দারিদ্রতা লেগে থাকে। সেখানে বাংলাদেশের ৫ম অবস্থান আশ্চর্য্য করে পুরো বিশ্বকে। কন্যারা বোঝা নয় তারা সম্পদ। বৃদ্ধ বয়সের ভরসা জোগায় পুত্র সন্তানের থেকে বেশি।
বাল্যবিয়ে নিয়ে হাজার কথা বললেও বাল্যবিয়ে বন্ধ হবেনা যত সময় না আমরা নিজেরা সচেতন হই। এসময় তিনি নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কারো বিয়ের খবর শুনলে প্রশাসনে খবর দিতে অনুরোধ করেন। এসময় উপস্থিত কাজী,ঈমামদেরও অনুরোধ করেন বাল্য বিয়ে পড়াতে সাহায্য না করতে। এসময় তিনি শাস্তির কথা তুলে ধরে সচেতন করেন ঈমাম ও কাজীদের। বাল্য বিয়ের সাথে জড়িত সকলকে আইনের মাধ্যমে সর্ব্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের অনুরাধ করেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি।  উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ের কুফল তুলে ধরে সচেতন করেন তিনি। তাদের অনুরাধ করেন বাল্য বিয়ের কোন খবর পেলেই ৯৯৯ ,১০৯ ও ১০৯৮ টোল ফ্রি নাম্বারে ফোন করে জানাতে,যাতে ঐ বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়।
কর্মশালাটি তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কাজী-ইমাম উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি শিশু বিবাহ হ্রাসকরণে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ব্যাপারে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল

ভোলার তজুমদ্দিনে শিশু বিবাহ হ্রাসকরণে এডভোকেসি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত 

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩
ভোলা প্রতিনিধি
তজুমদ্দিনে শিশু বিবাহ হ্রাসকরণে এডভোকেসি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ অক্টোবর) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইসিডিএস এর উদ্যোগে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা মিলনায়তনে শিশু বিবাহ হ্রাসকরণে এডভোকেসি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রমের আওতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারী মো: সোহেল ইমাম খান।
আলোচনা সভায় সভায় সভাপতিত্ব করেন আইসিডিএস এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মর্তুজা খালেদ। কর্মশালাটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: গোলাম কিবরিয়া। এসময় সেখানে আরো  বক্তব্য রাখেন,  উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: সিদ্দিকুর রহমান প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারী মো: সোহেল ইমাম খান বলেন, বাল্যবিয়েতে বাংলাদেশ আজ ৫ম অবস্থানে। দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাল্য বিয়ে হয় বাংলাদেশে,আর বাংলাদেশে ভোলা জেলায়। ভোলার চারদিক নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানে বাল্যবিয়ের হার বেশি। আমাদের সমাজে মেয়েদেরকে বোঝা মনে করা হয় যেখানে স্বয়ং নবীজি বলেছেন মেয়েরা রহমত। যে ঘরে কন্যা সন্তানের জন্ম হয় সেখানে আল্লাহ বরকত দেন, তিনি তার বান্দার উপর যখন খুশি হন তখনই কন্যা সন্তান দেন তাকে। যেখানে এ তালিকায় প্রথম দিকে আফ্রিকার সেমালিয়া সহ কয়েক দেশ যেখানে খুধা দারিদ্রতা লেগে থাকে। সেখানে বাংলাদেশের ৫ম অবস্থান আশ্চর্য্য করে পুরো বিশ্বকে। কন্যারা বোঝা নয় তারা সম্পদ। বৃদ্ধ বয়সের ভরসা জোগায় পুত্র সন্তানের থেকে বেশি।
বাল্যবিয়ে নিয়ে হাজার কথা বললেও বাল্যবিয়ে বন্ধ হবেনা যত সময় না আমরা নিজেরা সচেতন হই। এসময় তিনি নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কারো বিয়ের খবর শুনলে প্রশাসনে খবর দিতে অনুরোধ করেন। এসময় উপস্থিত কাজী,ঈমামদেরও অনুরোধ করেন বাল্য বিয়ে পড়াতে সাহায্য না করতে। এসময় তিনি শাস্তির কথা তুলে ধরে সচেতন করেন ঈমাম ও কাজীদের। বাল্য বিয়ের সাথে জড়িত সকলকে আইনের মাধ্যমে সর্ব্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের অনুরাধ করেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি।  উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বাল্যবিয়ের কুফল তুলে ধরে সচেতন করেন তিনি। তাদের অনুরাধ করেন বাল্য বিয়ের কোন খবর পেলেই ৯৯৯ ,১০৯ ও ১০৯৮ টোল ফ্রি নাম্বারে ফোন করে জানাতে,যাতে ঐ বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়।
কর্মশালাটি তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কাজী-ইমাম উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি শিশু বিবাহ হ্রাসকরণে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ব্যাপারে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।