০৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

রানীক্ষেত ভাইরাস প্রতিরোধে রাবিতে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সাফল্য

মুরগির মারাত্মক সংক্রামক রোগ রানীক্ষেত (নিউক্যাসল ডিজিজ) নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো কার্যকর ও তাপমাত্রা সহনশীল (থার্মোস্টেবল) ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শশি আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় “আই-টু স্ট্রেইন” ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা হয়েছে এই ভ্যাকসিন, যা কোল্ড চেইন ছাড়াও ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সাত দিন পর্যন্ত কার্যকারিতা ধরে রাখতে সক্ষম। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন এলাকায় এটি সহজেই ব্যবহারযোগ্য হবে।

রানীক্ষেত একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুরগির উচ্চহারে মৃত্যু ঘটায়। সাধারণত প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো কোল্ড-চেইনের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনেক সময় মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা হারায়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাবির গবেষক দল উদ্ভাবন করেছে নতুন এই ভ্যাকসিন, যা খামারিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

 

গবেষণা কার্যক্রমটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে, যার মোট বাজেট ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শুরু হয়ে চলবে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা হেইফার ইন্টারন্যাশনাল (যুক্তরাষ্ট্র), কায়িমা ফাউন্ডেশন (অস্ট্রেলিয়া) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।

গবেষণা ইতোমধ্যে রাজশাহী ও নাটোর জেলার ছয়টি উপজেলার পাঁচ হাজার পরিবারে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ভ্যাকসিনটি চোখে ফোঁটা, পানিতে মিশিয়ে কিংবা খাবারের সঙ্গে প্রয়োগযোগ্য।

প্রধান গবেষক অধ্যাপক শশি আহমেদ জানান, “এই গবেষণার মূল লক্ষ্য দেশি মুরগির জন্য একটি টেকসই ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা। সফল মডেল গড়ে তুলতে পারলে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে পোলট্রি খাত যেমন লাভবান হবে, তেমনি গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার পথও সুগম হবে।”

গবেষণার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ৩১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা মূল্যায়নের ফলাফল পাওয়া যাবে। সন্তোষজনক ফল মিললে সরকারিভাবে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই ভ্যাকসিন উৎপাদনে যাবে বলেও জানান তিনি।

গবেষকদের আশা, এই উদ্ভাবন দেশের পোলট্রি শিল্পে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাদেশ জারি: পাবলিক প্লেসে ধূমপানে বাড়ল জরিমানা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

রানীক্ষেত ভাইরাস প্রতিরোধে রাবিতে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সাফল্য

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

মুরগির মারাত্মক সংক্রামক রোগ রানীক্ষেত (নিউক্যাসল ডিজিজ) নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো কার্যকর ও তাপমাত্রা সহনশীল (থার্মোস্টেবল) ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শশি আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় “আই-টু স্ট্রেইন” ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা হয়েছে এই ভ্যাকসিন, যা কোল্ড চেইন ছাড়াও ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সাত দিন পর্যন্ত কার্যকারিতা ধরে রাখতে সক্ষম। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন এলাকায় এটি সহজেই ব্যবহারযোগ্য হবে।

রানীক্ষেত একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুরগির উচ্চহারে মৃত্যু ঘটায়। সাধারণত প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো কোল্ড-চেইনের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় অনেক সময় মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা হারায়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাবির গবেষক দল উদ্ভাবন করেছে নতুন এই ভ্যাকসিন, যা খামারিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

 

গবেষণা কার্যক্রমটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে, যার মোট বাজেট ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শুরু হয়ে চলবে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা হেইফার ইন্টারন্যাশনাল (যুক্তরাষ্ট্র), কায়িমা ফাউন্ডেশন (অস্ট্রেলিয়া) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।

গবেষণা ইতোমধ্যে রাজশাহী ও নাটোর জেলার ছয়টি উপজেলার পাঁচ হাজার পরিবারে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ভ্যাকসিনটি চোখে ফোঁটা, পানিতে মিশিয়ে কিংবা খাবারের সঙ্গে প্রয়োগযোগ্য।

প্রধান গবেষক অধ্যাপক শশি আহমেদ জানান, “এই গবেষণার মূল লক্ষ্য দেশি মুরগির জন্য একটি টেকসই ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা। সফল মডেল গড়ে তুলতে পারলে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে পোলট্রি খাত যেমন লাভবান হবে, তেমনি গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার পথও সুগম হবে।”

গবেষণার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ৩১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা মূল্যায়নের ফলাফল পাওয়া যাবে। সন্তোষজনক ফল মিললে সরকারিভাবে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই ভ্যাকসিন উৎপাদনে যাবে বলেও জানান তিনি।

গবেষকদের আশা, এই উদ্ভাবন দেশের পোলট্রি শিল্পে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।