- ভরসা সেই আমদানিতেই
- স্বনির্ভরতা অর্জনে পাঁচটি কারখানা স্থাপন
- আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য এখন বিষাদে গাঁথা
- ১৪২ জনের বিদেশ প্রশিক্ষণে ব্যয় ১১ কোটি ৫৭ লাখ
- ৩০০ জনের দেশীয় প্রশিক্ষণে ব্যয় ৩২ কোটি ১৬ লাখ
- পরামর্শক ব্যয় ২৪ কোটি টাকা
দেশে সার কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লুটপাটের একটি চক্র গড়ে উঠে। বিভিন্ন ক্যাটাগরীর কাজ নিয়ন্ত্রনের জন্য একাধিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠলেও মূল সিন্ডিকেট ছিলো একটি। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত মাফিয়া সিন্ডিকেট সব সময়ই মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন। মাফিয়া সিন্ডিকেটের গডফাদাররা সব সময় পর্দার আড়ালে থাকতেন। সার কারখানার ‘সিবিএ’কে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শুরু হয় এই সার কারখানায় লুটপাটের রাম রাজত্ব।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সার পরিবহন, শ্রমিক হ্যান্ডেলিং, সার ব্যাগিং টেন্ডার ও বিভিন্ন মালামাল ক্রয়, অকেজো মালামাল বিক্রয়, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ এবং বিভিন্ন সার ডিলারদের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলনের সিরিয়াল নিয়ে চাঁদাবাজি, এ্যামোনিয়া গ্যাসের বোতল বাণিজ্য, অবৈধ পন্থায় ডিলারদের উত্তোলিত সার ক্রয়-বিক্রয় ও বরাদ্দ এলাকার বাইরে কালো বাজারে বিক্রি করাই ছিলো সিন্ডিকেটের কাজ। যেসবের নেতৃত্বে ছিলো এক গড ফাদার। দেশের কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটাতে ২০১২ সালে নেওয়া হয় শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প (এসএফপি)। ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এরপর ২০১৮ সালে সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা। তবে এই কারখানার উৎপাদন অব্যাহত আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে আরও তিনটি পুরনো কারখানা সচল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। সবমিলিয়ে বর্তমান শুধু ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্যই রাষ্ট্রায়াত্ত পাঁচটি কারখানা রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোকে ঘিরে দিনবদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের সাধারণ কৃষকরা। কিন্তু কৃষকের সে স্বপ্ন ও দেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য-দুটোই এখন বিষাদে গাঁথা। আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে সার শিল্পে নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের অন্যতম কৌশলগত শিল্প উদ্যোগ শাহজালাল সার প্রকল্পের পরতে পরতে দুর্নীতির কালো ছায়ার অন্ধকার। শুধু ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমেই এই কারখানা থেকে ৬৪ কোটি টাকার বেশি অর্থ লুট করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তা ব্যক্তিরা। দেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি। কোটি কোটি টাকার দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণেও দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা কাটেনি তাদের। কারখানাটিতে যেন সারের বদলে উৎপাদন হয়েছে কোটি টাকার দুর্নীতি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ইউরিয়া সারের ভূমিকা ব্যাপক। দেশের অভ্যন্তরীণ সারের চাহিদা মিটানো এবং সুলভমূল্যে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়োজিত রয়েছে। ইউরিয়া সারের চাহিদার বিপরীতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিআইসি’র বিদ্যমান কারখানাগুলোর ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতা কম থাকায় ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে এই প্রকল্পগুলো হাতে নেয় তৎকালীন সরকার।
দেশে সরকারের পাঁচটি কারখানা হলো-চট্টগ্রামের চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, জামালপুরের যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড, নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এবং সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা (ইনস্টল ক্যাপাসিটি) ৩১ লাখ মেট্রিক টন। ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় এগুলো থেকে প্রায় ২৪ থেকে ২৭ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব। তবে নানা সংকটে ধুঁকছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সার কোম্পানিগুলো। এসবের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ইউরিয়া সার উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনে এই প্রকল্পগুলো ছিল সরকারের বড় পদক্ষেপ। কিন্তু দুর্নীতি ও নানা সংকটে এবং গোষ্ঠী স্বার্থে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। যে কারখানা থেকে বার্ষিক ৫.৮ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকার ২৩৫ মিলিয়ন ডলার ও চীনা এক্সিম ব্যাংক থেকে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়। আর বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগ ২০.১৯ মিলিয়ন ডলার। গত দশ বছরে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৩২ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন। বছরে গড়ে তা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টনের মতো। ২০২৩-২৪ সালের পর উৎপাদনের চিত্র আরও উদ্বেগজনক হারে কমেছে। উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮১২ টন। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন মাত্র ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৩ মেট্রিক টন। যা প্রত্যাশার তুলনায় অর্ধেকও না। গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি বা যন্ত্রপাতি বিকলের মতো খোঁড়া অজুহাতে এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই কারখানা। পাঁচটি কারখানারই অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় অডিট আপত্তির ছড়াছড়ি দেখা গেছে। এরমধ্যে ২০২০ সালের পর কোনো নিরীক্ষাই হয়নি নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে। আর পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ শুধু সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের মূল্যায়ন তুলে ধরেছে। সেই মূল্যায়নে দেখা গেছে, গত প্রায় এক দশকে এই প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ ৬৪ কোটির বেশি। কাজ না করেই ভুয়া বিল বানিয়ে অর্থ উত্তোলন, আসবাবপত্র ও গাড়ি ভাড়ার নামে মিথ্যা ভাউচার বানিয়ে কোষাগার থেকে টাকা আত্মসাৎ, পণ্য সরবরাহ ছাড়াই বিল উত্তোলন, নির্মাণ ব্যয়ে অতিমূল্যায়ন, এমআরআর ছাড়াই চেক ইস্যু করে অজানা প্রাপকের নামে অর্থ উত্তোলন-এমন অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে প্রকল্পটিতে। এসব অডিটের অনিয়মের সঙ্গে মো. আলমগীর জলিলের নাম এসেছে বারবার। তিনি ছিলেন প্রকল্পের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক। আপ্যায়ন খরচ, ভ্রমণ ভাতা, বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গাড়ি চালানোর খরচ—যেখানেই চোখ যায়, সেখানেই মেলে তার সৃষ্ট ‘কল্পিত’ ব্যয়ের নমুনা। প্রকল্প এলাকায় কোনো সভা-সেমিনার না করেও বিল জমা করেছেন কয়েক লাখ টাকার আপ্যায়নের। অথচ খাতায় কোনো আমন্ত্রণ, ছবি, উপস্থাপনা বা আগত অতিথির তালিকাই নেই। এই চিত্র শুধু একদিনের নয়, দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনার অভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সর্বোপরি জবাবদিহির সম্পূর্ণ অনুপস্থিতিই গড়ে তুলেছে এই ‘সিস্টেমেটিক’ লুটপাটের সংস্কৃতি। এই প্রকল্পের অডিট রিপোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অনিয়মকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি সিন্ডিকেট। যারা বছরের পর বছর ধরে একই ধারায় অনিয়ম চালিয়ে গেছে। দুর্নীতির তালিকায় নাম উঠে এসেছে উপ-ব্যবস্থাপক সোহেল রানা, সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা অর্জুন রায় এবং অতিরিক্ত প্রধান হিসাবরক্ষক মিজানুর রহমানের নাম। দেখা গেছে, প্রকল্পের বেশির ভাগ আর্থিক নথিতেই নেই প্রাপকের পূর্ণ তথ্য, নেই স্বাক্ষর, নেই যথাযথ রসিদ বা পণ্য গ্রহণের প্রমাণ। শুধু আছে চেক নম্বর, বিলের রেফারেন্স ও অনুমোদনের ছাপ। অনেক ক্ষেত্রেই পণ্য সরবরাহকারীর অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারি মালামাল ট্রাকভর্তি হয়ে ‘চুরি’ হয়ে গেছে বলে উল্লেখ থাকলেও তার কোনো থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়নি, হয়নি তদন্ত, নেই কোনো পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাও। তথ্য বলছে, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত শাহজালাল সার প্রকল্পে ২৬৪টি অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১২৪টি আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকিগুলো বছরের পর বছর ফাইলের স্তূপে জমে আছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরেই ৯৩টি আপত্তি ওঠে, যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২৬টি। তথ্যমতে, ২০১১-১২ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পে মোট ৬৩টি অডিট আপত্তি উঠলেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৩টি। অর্থাৎ অনিয়ম শুধু অভ্যন্তরীণ নয় বরং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভয়াবহ। সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের এই প্রকল্পে ১৪২ জনের বিদেশ প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হয়েছে ১১ কোটি ৫৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ৩০০ জনের দেশীয় প্রশিক্ষণে ব্যয় হয়েছে ৩২ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা, পরামর্শক ব্যয় ২৪ কোটি টাকা, ভ্রমণ ভাতায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা আর আপ্যয়নে ব্যয় করেছে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা যখন বছরের পর বছর সার আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করি, তখন ভাবি না দেশের সার প্রকল্প কেন ব্যর্থ হলো? আমরা যখন কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাই, তখন মনে রাখি না যে, রাষ্ট্র নিজেই কীভাবে ভুয়া বিলের ফাঁদে পড়ে কৃষিকে ঠেলে দেয় চাপে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে শুধু সুপারিশ নয়, কার্যকর পদক্ষেপও জরুরি। প্রয়োজন অডিট আপত্তির দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রকাশ্য তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এখন সময় এসেছে দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর। না হলে প্রতিটি বাজেট বরাদ্দ হয়ে উঠবে লুণ্ঠনের নতুন সুযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, দশ বছরের মধ্যে একটি অর্থবছরেও ডিজাইন ক্যাপাসিটিতে পৌঁছাতে না পারা মূলত উৎপাদন পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঘাটতির প্রতিফলন। যদি গ্যাস সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং প্রযুক্তি হালনাগাদ না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘দেশীয় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির শক্তিশালী উৎস হলো আমাদের কৃষি। কিন্তু এটি অবহেলিতই হয়ে আসছে। সার উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সক্ষমতা থাকার পরও আমদানি করা হচ্ছে, এটা সত্যিই দুঃখজনক। এটি যদি হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে তিনটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, সক্ষমতা ও সদিচ্ছার যে গল্প বলা হচ্ছে, তা বানিয়ে বলা গল্প কি না? জনগণকে আশা দেখানোর মিথ্যা আশ্বাস কি না? দ্বিতীয়ত, সহজলভ্যতা। আমাদের দেশে প্রকল্প নেওয়া হয়, কিন্তু সেই প্রকল্প সচল রাখতে কাঁচামালসহ অন্যান্য উপকরণ আছে কি না- সেটা মূল্যায়ন হয় না। দেখা যায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে কিন্তু উৎপাদন আর সচল রাখতে পারছে না। তৃতীয়ত, এখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো গোষ্ঠী উৎপাদন ব্যাহত করে গোষ্ঠীস্বার্থ হাসিল করছে কি না- সেটাও তদন্ত করে দেখতে হবে। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রয়েছে। সুতরাং এটা সঠিক সময়, এই বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক কারণ চিহ্নত করার। যদি এই দুর্নীতির চক্র ভাঙা না যায়, তবে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারও হয়ে উঠবে শোষণের উৎস। এদিকে, যখন দেশীয় উৎপাদন মুখ থুবড়ে পড়েছে তখন আবারও বাড়ছে আমদানির পরিমাণ। ২০২৪ সালে সার আমদানি বেড়েছে ১৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে দেশে ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) মিলিয়ে মোট ৪৭ লাখ টন সার আমদানি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ২৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬ লাখ ২৩ হাজার টন ইউরিয়া আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ১১ লাখ ৯৭ হাজার টন ইউরিয়া আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। আর ২০২৩ সালে সার আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৮ লাখ টন। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে সারের আমদানি বেড়েছে ১৯ শতাংশ।
























