০৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলার নঢালচরে উদ্বোধন হলো নতুন লঞ্চঘাট, স্বস্তির নিশ্বাস প্রান্তিক মানুষের

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যাতায়াত ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর (আনন্দ বাজার) লঞ্চঘাট। শনিবার সকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) স্থাপিত এই লঞ্চঘাটের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

ঢালচর (আনন্দ বাজার) চরফ্যাশন উপজেলার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে, মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত একটি দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল। ভৌগোলিকভাবে এটি দেশের শেষ সীমান্তবর্তী একটি জনপদ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও নিয়মিত নৌযোগাযোগের অভাবে এখানকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। জোয়ার-ভাটা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অনিরাপদ ঘাটের কারণে যাতায়াত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “ঢালচর তথা আনন্দবাজারের মানুষ যুগের পর যুগ অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার ছিল। আজ এই লঞ্চঘাট উদ্বোধনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটল। এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ যাতায়াত ও সার্বিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।”

তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশাসনিক সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ত। নতুন লঞ্চঘাট চালু হওয়ায় এসব সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।”

নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানান, সরকার প্রান্তিক ও দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের জনগণকে মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নৌযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই লঞ্চঘাট চালু হওয়ায় ঢালচরের মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার নতুন আলো জ্বলে উঠেছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরসরাইয়ে ১ লাখ টাকার অবৈধ বেহুন্দি জাল জব্দ ও ধ্বংস

ভোলার নঢালচরে উদ্বোধন হলো নতুন লঞ্চঘাট, স্বস্তির নিশ্বাস প্রান্তিক মানুষের

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যাতায়াত ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর (আনন্দ বাজার) লঞ্চঘাট। শনিবার সকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) স্থাপিত এই লঞ্চঘাটের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

ঢালচর (আনন্দ বাজার) চরফ্যাশন উপজেলার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে, মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার কাছাকাছি অবস্থিত একটি দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল। ভৌগোলিকভাবে এটি দেশের শেষ সীমান্তবর্তী একটি জনপদ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও নিয়মিত নৌযোগাযোগের অভাবে এখানকার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। জোয়ার-ভাটা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অনিরাপদ ঘাটের কারণে যাতায়াত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “ঢালচর তথা আনন্দবাজারের মানুষ যুগের পর যুগ অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার ছিল। আজ এই লঞ্চঘাট উদ্বোধনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটল। এটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়, বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ যাতায়াত ও সার্বিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।”

তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশাসনিক সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ত। নতুন লঞ্চঘাট চালু হওয়ায় এসব সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।”

নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানান, সরকার প্রান্তিক ও দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের জনগণকে মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নৌযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফাসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই লঞ্চঘাট চালু হওয়ায় ঢালচরের মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার নতুন আলো জ্বলে উঠেছে।

এমআর/সবা