8:45 am, Friday, 1 May 2026

আমীর খসরুর আসন পরিবর্তন, চট্টগ্রাম-১০-এ বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাঈদ আল নোমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দলীয়ভাবে এ মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়।

এর আগে এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে তার আসন পরিবর্তন করা হয়। এখন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান।

সাঈদ আল নোমান বর্তমানে জাতীয়তাবাদী পাটশ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ইতোমধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রাম-১১ ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসন এতদিন ফাঁকা ছিল। চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ায় এখন কেবল চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি ফাঁকা রয়েছে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরুর ছেলে এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরীও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

প্রার্থী ঘোষণার পর চট্টগ্রামের সাতটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন, মশাল মিছিল ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন উল্লেখযোগ্য। প্রথমে সেখানে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মো. সালাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে তাকে বাদ দিয়ে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলায় মোট ১৫টি উপজেলা ও ৩৪টি থানা নিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে নগরে ৪টি, উত্তরে ৭টি এবং দক্ষিণে ৫টি আসন। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয় এবং প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১৫০টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছে।

তবে দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির নাম ব্যবহার করে বা স্বতন্ত্র হিসেবে মোট ৫৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী মাত্র ১৩ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের বাইরে রয়েছেন। কোনো কোনো আসনে সর্বোচ্চ আটজন পর্যন্ত বিএনপি নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান বলেন, “আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আসন পরিবর্তন করা হয়েছে। তার আগের আসনে সাঈদ আল নোমানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীকেও চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”

এমআর/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fourteen − 12 =

About Author Information

M Rahman

Popular Post

নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন- ডা.তাহের

আমীর খসরুর আসন পরিবর্তন, চট্টগ্রাম-১০-এ বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান

Update Time : ০৭:২৬:০৫ pm, Saturday, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দলীয়ভাবে এ মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়।

এর আগে এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে তার আসন পরিবর্তন করা হয়। এখন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান।

সাঈদ আল নোমান বর্তমানে জাতীয়তাবাদী পাটশ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ইতোমধ্যে ১৪টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রাম-১১ ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসন এতদিন ফাঁকা ছিল। চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ায় এখন কেবল চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি ফাঁকা রয়েছে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরুর ছেলে এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরীও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

প্রার্থী ঘোষণার পর চট্টগ্রামের সাতটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন, মশাল মিছিল ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন উল্লেখযোগ্য। প্রথমে সেখানে উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মো. সালাউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে তাকে বাদ দিয়ে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলায় মোট ১৫টি উপজেলা ও ৩৪টি থানা নিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে নগরে ৪টি, উত্তরে ৭টি এবং দক্ষিণে ৫টি আসন। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয় এবং প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১৫০টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছে।

তবে দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির নাম ব্যবহার করে বা স্বতন্ত্র হিসেবে মোট ৫৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী মাত্র ১৩ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রার্থী দলীয় মনোনয়নের বাইরে রয়েছেন। কোনো কোনো আসনে সর্বোচ্চ আটজন পর্যন্ত বিএনপি নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান বলেন, “আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আসন পরিবর্তন করা হয়েছে। তার আগের আসনে সাঈদ আল নোমানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীকেও চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”

এমআর/সবা