০৬:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান জন্মের আগেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু

কবি জসীম উদদীনের ‘একুশের গান’ কবিতায় লিখেছেন-আমার এমন মধুর বাঙলা ভাষা/ভায়ের বোনের আদর মাখা/ মায়ের বুকের ভালোবাসা।’ আবার কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতায় লিখেছেন-এখানে যাঁরা প্রাণ দিয়েছে/ রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়Ñ। মাতৃভাষা আন্দোলনের ওপর দেশ বিদেশের বহু কবি সাহিত্যিক ভাষা আন্দোলনের জানা অজানা অনেক বিষয় নিয়ে লিখেছেন। বিশ্বের ইতিহাসে ভাষার আন্দোলন শুধু এ দেশেই হয়েছে। আর কোন দেশে মায়ের মুখের ভাষা নিয়ে আন্দোলন হয়নি। পাশের দেশ ভারতে সাংবিধানিকভাবে ২২ ভাষা স্বীকৃত। এর বাইরে আরো কয়েক শ’ ভাষায় দেশটির জাতি গোষ্ঠী কথা বলেন।
মাতৃভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক স্মরণীয় ঐতিহাসিক ঘটনা। বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র তা শুরু হয়েছিল পাকিস্তান জন্মের আগেই। তদানীন্তন পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা পাকিস্তান আন্দোলন সমর্থন করেছিল এটা ঐতিহাসিক সত্য। এ সময় পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে যাদের আধিপত্য ছিল তার বেশিরভাগই ছিল হিন্দু জমিদার, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী শ্রেণীর। এ কারণে মুসলমানরা এ সময় মুসলিম জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। এটা ছিল ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। পাকিস্তান জন্মের পর এদের আশা হতাশায় পরিণত
হলো। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বাঙালীদের তেমন আধিপত্য রইল না। তারা ক্রমেই শোষণ বঞ্চনার শিকার হতে লাগল। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যেই অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে লাগল। নানা শোষণ বঞ্চনার শিকার হয়ে তারাই আবার পাকিস্তানের দিক থেকে মুখ ফিরিযে নিল। তখন বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় সঞ্চারিত হতে লাগল। এর পর এল মাতৃভাষা বাংলা ভাষার ওপর আক্রমণ। গর্জে উঠল সমগ্র বাঙালি সমাজ। ’৫২ ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম স্ফূরণ। ১৯৪৭ সালের শেষেরদিকে করাচিতে একটি শিক্ষা সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ওই সময় পাকিস্তানের ডাক টিকিট, মানি অর্ডার ফর্ম ইত্যাদি উর্দু ও ইংরেজীতে লেখা থাকত। তখন থেকেই বাংলাকে উপেক্ষা করা শুরু হলো। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়। তখন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ফজলুর রহমান এবং পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন। যদিও এরা দু’জনেই ছিলেন বাঙালি অথচ তারা উর্দুকে সমর্থন দিলেন। ওই সময়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান জন্মের আগেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু

আপডেট সময় : ১১:৫৯:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

কবি জসীম উদদীনের ‘একুশের গান’ কবিতায় লিখেছেন-আমার এমন মধুর বাঙলা ভাষা/ভায়ের বোনের আদর মাখা/ মায়ের বুকের ভালোবাসা।’ আবার কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতায় লিখেছেন-এখানে যাঁরা প্রাণ দিয়েছে/ রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়Ñ। মাতৃভাষা আন্দোলনের ওপর দেশ বিদেশের বহু কবি সাহিত্যিক ভাষা আন্দোলনের জানা অজানা অনেক বিষয় নিয়ে লিখেছেন। বিশ্বের ইতিহাসে ভাষার আন্দোলন শুধু এ দেশেই হয়েছে। আর কোন দেশে মায়ের মুখের ভাষা নিয়ে আন্দোলন হয়নি। পাশের দেশ ভারতে সাংবিধানিকভাবে ২২ ভাষা স্বীকৃত। এর বাইরে আরো কয়েক শ’ ভাষায় দেশটির জাতি গোষ্ঠী কথা বলেন।
মাতৃভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক স্মরণীয় ঐতিহাসিক ঘটনা। বাংলাভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র তা শুরু হয়েছিল পাকিস্তান জন্মের আগেই। তদানীন্তন পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা পাকিস্তান আন্দোলন সমর্থন করেছিল এটা ঐতিহাসিক সত্য। এ সময় পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে যাদের আধিপত্য ছিল তার বেশিরভাগই ছিল হিন্দু জমিদার, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী শ্রেণীর। এ কারণে মুসলমানরা এ সময় মুসলিম জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। এটা ছিল ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। পাকিস্তান জন্মের পর এদের আশা হতাশায় পরিণত
হলো। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বাঙালীদের তেমন আধিপত্য রইল না। তারা ক্রমেই শোষণ বঞ্চনার শিকার হতে লাগল। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যেই অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে লাগল। নানা শোষণ বঞ্চনার শিকার হয়ে তারাই আবার পাকিস্তানের দিক থেকে মুখ ফিরিযে নিল। তখন বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় সঞ্চারিত হতে লাগল। এর পর এল মাতৃভাষা বাংলা ভাষার ওপর আক্রমণ। গর্জে উঠল সমগ্র বাঙালি সমাজ। ’৫২ ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম স্ফূরণ। ১৯৪৭ সালের শেষেরদিকে করাচিতে একটি শিক্ষা সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। ওই সময় পাকিস্তানের ডাক টিকিট, মানি অর্ডার ফর্ম ইত্যাদি উর্দু ও ইংরেজীতে লেখা থাকত। তখন থেকেই বাংলাকে উপেক্ষা করা শুরু হলো। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়। তখন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ফজলুর রহমান এবং পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন। যদিও এরা দু’জনেই ছিলেন বাঙালি অথচ তারা উর্দুকে সমর্থন দিলেন। ওই সময়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।