০৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্বে সুখী দেশের তালিকা শীর্ষ কুড়িতে নেই যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও বাংলাদেশ

 

 

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো তারা এই খেতাব ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের স্পন্সর করা ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে সুখী তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩ দেশের মধ্যে ১২৯তম। এছাড়া, এই তালিকায় শীর্ষ ২০ এ রয়েছে ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কোস্টারিকা, কুয়েত, অস্ট্রিয়া, কানাডা, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, চেকিয়া, লিথুয়ানিয়া, যুক্তরাজ্য।

এদিকে এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি নেই বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ২০টি দেশের ভেতরে। যথাক্রমে এ দুটি দেশের অবস্থান ২৩তম ও ২৪তম। পক্ষান্তরে শীর্ষ ২০ সুখী দেশের মধ্যে উঠে এসেছে কোস্টারিকা ও কুয়েত। তাদের অবস্থান যথাক্রমে ১২ ও ১৩।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত এই রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। ৩০ বছর বয়সিদের সুখী হওয়ার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৮তম। অন্যদিকে প্রবীণÑ যাদের বয়স ৬০ বছর বা তারও বেশি তাদের ক্যাটাগরিতে সুখী দেশের সূচকে বাংলাদেশ আছে ১২০ নম্বরে। এর একধাপ নিচে রয়েছে ভারত। মিয়ানমার ১০২ নম্বরে। পাকিস্তান ১২২ নম্বরে। নিম্ন মধ্য বয়সিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯। উচ্চ মধ্যবয়সিদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে সবচেয়ে সুখী হলো যুবশ্রেণি। সবচেয়ে কম সুখী উচ্চ মধ্যবয়সিরা। কমপক্ষে এক দশক আগে এই রিপোর্ট প্রকাশ শুরু হয়।

এদিকে এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে কুয়েত (১৩)। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে আরব আমিরাত (২২), সৌদি আরব (২৮), সিঙ্গাপুর (৩০), তাইওয়ান (৩১), জাপান (৫১), দক্ষিণ কোরিয়া (৫২), ফিলিপাইন (৫৩), থাইল্যান্ড (৫৮), মালয়েশিয়া (৫৯), চীন (৬০) ও বাহরাইন (৬২)।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মাঝে তালিকায় স্থান পেয়েছে নেপাল (৯৩), পাকিস্তান (১০৮), ভারত (১২৬), মিয়ানমার (১১৮) ও শ্রীলঙ্কা (১২৮)। তালিকায় সবচেয়ে নিচে আছে আফগানিস্তান (১৪৩)। এর এক ধাপ ওপরে লেবানন (১৪২)।

অন্যদিকে ভারতের অবস্থান ১২৬তম। আগের বছরও তাদের অবস্থান এই সূচকে একই ছিল। নরডিক দেশগুলো সবচেয়ে সুখী ১০টি দেশের মধ্যে অবস্থান ধরে রেখেছে। এর মধ্যে ফিনল্যান্ডের পর আছে ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন। ২০২০ সাল থেকে আফগানিস্তান রয়েছে তালেবানদের দখলে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই দেশটি রয়েছে সবচেয়ে নিচে। মোট ১৪৩টি দেশের ওপর এই সূচক করা হয়েছে। তার শেষ অবস্থান অর্থাৎ ১৪৩ নম্বরে অবস্থান করছে আফগানিস্তান। সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর মধ্যে এখন আর বিশ্বের কোনো বৃহৎ দেশের অবস্থান নেই। এতে বলা হয়েছে, শীর্ষ ১০ সুখী দেশের মধ্যে শুধু নেদারল্যান্ডস এবং অস্ট্রেলিয়ার আছে কমপক্ষে দেড় কোটি জনসংখ্যা। শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে শুধু কানাডা ও ব্রিটেনের জনসংখ্যা কমপক্ষে তিন কোটি।

২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল সময়কালের পর সবচেয়ে দ্রুতগতিতে সুখ কমেছে আফগানিস্তানে। সবচেয়ে দ্রুতগতিতে তা বৃদ্ধি পেয়েছে লেবানন, জর্ডান, ইউরোপিয়ান দেশ সার্বিয়া, বুলগেরিয়া ও লাতভিয়ায়। ব্যক্তিবিশেষের জীবন সম্পর্কে সন্তুষ্টির মূল্যায়ন, মাথাপিছু জাতীয় প্রবৃদ্ধি, সামাজিক সাপোর্ট, সুস্থ জীবনের প্রত্যাশা, স্বাধীনতা, উদারতা ও দুর্নীতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে এই সূচক।

ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কির সংশ্লিষ্ট গবেষক জেনিফার ডি পাওলা বলেছেন, প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কর্মজীবনে সুস্থ সমতা হলো ফিনল্যান্ডের মানুষের সুখী জীবনের মূলে। তাছাড়া দেশটির নাগরিকদের একটি সফল জীবন সম্পর্কে অধিক অর্জনযোগ্য অনুধাবন আছে। ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের মধ্যে আছে শক্তিশালী কল্যাণমূলক সমাজ, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা, কম মাত্রায় দুর্নীতি, ফ্রি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, ফিনিশ সমাজ বিশ্বাস, স্বাধীনতা ও উচ্চ মাত্রায় স্বায়ত্তশাসনের অনুভূতি দ্বারা পরিবেষ্টিত।

বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ অঞ্চলে এবার দেখা গেছে বয়স্ক সিনিয়রদের চেয়ে তরুণ প্রজন্ম বেশি সুখী। তবে তারা সবাই নয়। ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের পর নাটকীয়ভাবে ৩০ বছরের কম বয়সি উত্তর আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়ান এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের গ্রুপের মধ্যে কমে গেছে সুখ। এসব স্থানে তরুণদের চেয়ে প্রবীণ প্রজন্ম বেশি সুখী। পক্ষান্তরে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে একই সময়ে সব বয়সিদের মধ্যে সুখ বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের লোকজনের সব বয়সি একই পরিমাণ সুখী। ইউরোপ বাদে প্রতিটি অঞ্চলে সুখী হওয়ার ক্ষেত্রে অসমতা দেখা দিয়েছে। একে এই রিপোর্টের লেখকরা উদ্বেগজনক প্রবণতা বলে বর্ণনা করেছেন।
এ প্রতিবেদনে সবচেয়ে সুখী দেশ নির্ধারণের জন্য ৬টি সূচক যাচাই করা হয়। এই সূচকগুলো হলোÑ মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, বদান্যতা, দুর্নীতি নিয়ে মনোভাব ও ডিসটোপিয়া।

ডিসটোপিয়া হচ্ছে একটি কাল্পনিক দেশ, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী মানুষরা বসবাস করেনÑ অর্থাৎ, এই ৬ সূচকে ডিসটোপিয়ার চেয়ে কোনো দেশ খারাপ অবস্থায় থাকতে পারে না। এটি মূলত মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, এই ডিসটোপিয়ার চেয়ে অন্য দেশগুলো কতটুকু ভালো অবস্থায় আছে, তার সঙ্গে তুলনায় সূচক থেকে প্রাপ্ত পয়েন্ট গণনা করা হয়।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি ২০টি সুখী দেশের মধ্যে নেই। তারা যথাক্রমে ২৩তম এবং ২৪তম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে লক্ষণীয় যে, সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর তালিকায় বিশ্বের কোনো বড় দেশ নেই।

 

ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক জেনিফার ডি পাওলা বলেন, প্রকৃতির সাথে ফিনল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ সংযোগ এবং স্বাস্থ্যকর কর্ম-জীবনের ভারসাম্য তাদের জীবনের সন্তুষ্টির মূল অবদান।

ইউরোপ ব্যতীত প্রতিটি অঞ্চলে সুখের বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যাকে এই প্রতিবেদনের লেখকরা একটি ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ, সবচেয়ে দুঃখী দেশ ও এর মধ্যের সব দেশ চিহ্নিত করা হয়। এর পাশাপাশি, কোন বিষয়গুলো মানুষের জীবনে সুখ এনে দেয়, সেগুলোও খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয় এই সমীক্ষার মাধ্যমে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ২ পক্ষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থান যথাক্রমে ৭২ ও ১০৫। এদিকে ইসরায়েল ৫ম অবস্থানে থাকলেও ফিলিস্তিন আছে ১০৩ তম অবস্থানে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বে সুখী দেশের তালিকা শীর্ষ কুড়িতে নেই যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০২৪

 

 

বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো তারা এই খেতাব ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের স্পন্সর করা ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে সুখী তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩ দেশের মধ্যে ১২৯তম। এছাড়া, এই তালিকায় শীর্ষ ২০ এ রয়েছে ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন, ইসরায়েল, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কোস্টারিকা, কুয়েত, অস্ট্রিয়া, কানাডা, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, চেকিয়া, লিথুয়ানিয়া, যুক্তরাজ্য।

এদিকে এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি নেই বিশ্বের সবচেয়ে সুখী ২০টি দেশের ভেতরে। যথাক্রমে এ দুটি দেশের অবস্থান ২৩তম ও ২৪তম। পক্ষান্তরে শীর্ষ ২০ সুখী দেশের মধ্যে উঠে এসেছে কোস্টারিকা ও কুয়েত। তাদের অবস্থান যথাক্রমে ১২ ও ১৩।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত এই রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। ৩০ বছর বয়সিদের সুখী হওয়ার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৮তম। অন্যদিকে প্রবীণÑ যাদের বয়স ৬০ বছর বা তারও বেশি তাদের ক্যাটাগরিতে সুখী দেশের সূচকে বাংলাদেশ আছে ১২০ নম্বরে। এর একধাপ নিচে রয়েছে ভারত। মিয়ানমার ১০২ নম্বরে। পাকিস্তান ১২২ নম্বরে। নিম্ন মধ্য বয়সিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯। উচ্চ মধ্যবয়সিদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে সবচেয়ে সুখী হলো যুবশ্রেণি। সবচেয়ে কম সুখী উচ্চ মধ্যবয়সিরা। কমপক্ষে এক দশক আগে এই রিপোর্ট প্রকাশ শুরু হয়।

এদিকে এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে কুয়েত (১৩)। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে আরব আমিরাত (২২), সৌদি আরব (২৮), সিঙ্গাপুর (৩০), তাইওয়ান (৩১), জাপান (৫১), দক্ষিণ কোরিয়া (৫২), ফিলিপাইন (৫৩), থাইল্যান্ড (৫৮), মালয়েশিয়া (৫৯), চীন (৬০) ও বাহরাইন (৬২)।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মাঝে তালিকায় স্থান পেয়েছে নেপাল (৯৩), পাকিস্তান (১০৮), ভারত (১২৬), মিয়ানমার (১১৮) ও শ্রীলঙ্কা (১২৮)। তালিকায় সবচেয়ে নিচে আছে আফগানিস্তান (১৪৩)। এর এক ধাপ ওপরে লেবানন (১৪২)।

অন্যদিকে ভারতের অবস্থান ১২৬তম। আগের বছরও তাদের অবস্থান এই সূচকে একই ছিল। নরডিক দেশগুলো সবচেয়ে সুখী ১০টি দেশের মধ্যে অবস্থান ধরে রেখেছে। এর মধ্যে ফিনল্যান্ডের পর আছে ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন। ২০২০ সাল থেকে আফগানিস্তান রয়েছে তালেবানদের দখলে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেখানে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই দেশটি রয়েছে সবচেয়ে নিচে। মোট ১৪৩টি দেশের ওপর এই সূচক করা হয়েছে। তার শেষ অবস্থান অর্থাৎ ১৪৩ নম্বরে অবস্থান করছে আফগানিস্তান। সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর মধ্যে এখন আর বিশ্বের কোনো বৃহৎ দেশের অবস্থান নেই। এতে বলা হয়েছে, শীর্ষ ১০ সুখী দেশের মধ্যে শুধু নেদারল্যান্ডস এবং অস্ট্রেলিয়ার আছে কমপক্ষে দেড় কোটি জনসংখ্যা। শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে শুধু কানাডা ও ব্রিটেনের জনসংখ্যা কমপক্ষে তিন কোটি।

২০০৬ সাল থেকে ২০১০ সাল সময়কালের পর সবচেয়ে দ্রুতগতিতে সুখ কমেছে আফগানিস্তানে। সবচেয়ে দ্রুতগতিতে তা বৃদ্ধি পেয়েছে লেবানন, জর্ডান, ইউরোপিয়ান দেশ সার্বিয়া, বুলগেরিয়া ও লাতভিয়ায়। ব্যক্তিবিশেষের জীবন সম্পর্কে সন্তুষ্টির মূল্যায়ন, মাথাপিছু জাতীয় প্রবৃদ্ধি, সামাজিক সাপোর্ট, সুস্থ জীবনের প্রত্যাশা, স্বাধীনতা, উদারতা ও দুর্নীতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে এই সূচক।

ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কির সংশ্লিষ্ট গবেষক জেনিফার ডি পাওলা বলেছেন, প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কর্মজীবনে সুস্থ সমতা হলো ফিনল্যান্ডের মানুষের সুখী জীবনের মূলে। তাছাড়া দেশটির নাগরিকদের একটি সফল জীবন সম্পর্কে অধিক অর্জনযোগ্য অনুধাবন আছে। ফিনল্যান্ডের নাগরিকদের মধ্যে আছে শক্তিশালী কল্যাণমূলক সমাজ, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা, কম মাত্রায় দুর্নীতি, ফ্রি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, ফিনিশ সমাজ বিশ্বাস, স্বাধীনতা ও উচ্চ মাত্রায় স্বায়ত্তশাসনের অনুভূতি দ্বারা পরিবেষ্টিত।

বিশ্বজুড়ে বেশিরভাগ অঞ্চলে এবার দেখা গেছে বয়স্ক সিনিয়রদের চেয়ে তরুণ প্রজন্ম বেশি সুখী। তবে তারা সবাই নয়। ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের পর নাটকীয়ভাবে ৩০ বছরের কম বয়সি উত্তর আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়ান এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের গ্রুপের মধ্যে কমে গেছে সুখ। এসব স্থানে তরুণদের চেয়ে প্রবীণ প্রজন্ম বেশি সুখী। পক্ষান্তরে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে একই সময়ে সব বয়সিদের মধ্যে সুখ বৃদ্ধি পেয়েছে। পশ্চিম ইউরোপের লোকজনের সব বয়সি একই পরিমাণ সুখী। ইউরোপ বাদে প্রতিটি অঞ্চলে সুখী হওয়ার ক্ষেত্রে অসমতা দেখা দিয়েছে। একে এই রিপোর্টের লেখকরা উদ্বেগজনক প্রবণতা বলে বর্ণনা করেছেন।
এ প্রতিবেদনে সবচেয়ে সুখী দেশ নির্ধারণের জন্য ৬টি সূচক যাচাই করা হয়। এই সূচকগুলো হলোÑ মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), সামাজিক সহায়তা, সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা, জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা, বদান্যতা, দুর্নীতি নিয়ে মনোভাব ও ডিসটোপিয়া।

ডিসটোপিয়া হচ্ছে একটি কাল্পনিক দেশ, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী মানুষরা বসবাস করেনÑ অর্থাৎ, এই ৬ সূচকে ডিসটোপিয়ার চেয়ে কোনো দেশ খারাপ অবস্থায় থাকতে পারে না। এটি মূলত মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, এই ডিসটোপিয়ার চেয়ে অন্য দেশগুলো কতটুকু ভালো অবস্থায় আছে, তার সঙ্গে তুলনায় সূচক থেকে প্রাপ্ত পয়েন্ট গণনা করা হয়।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি ২০টি সুখী দেশের মধ্যে নেই। তারা যথাক্রমে ২৩তম এবং ২৪তম অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে লক্ষণীয় যে, সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর তালিকায় বিশ্বের কোনো বড় দেশ নেই।

 

ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক জেনিফার ডি পাওলা বলেন, প্রকৃতির সাথে ফিনল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ সংযোগ এবং স্বাস্থ্যকর কর্ম-জীবনের ভারসাম্য তাদের জীবনের সন্তুষ্টির মূল অবদান।

ইউরোপ ব্যতীত প্রতিটি অঞ্চলে সুখের বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যাকে এই প্রতিবেদনের লেখকরা একটি ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ, সবচেয়ে দুঃখী দেশ ও এর মধ্যের সব দেশ চিহ্নিত করা হয়। এর পাশাপাশি, কোন বিষয়গুলো মানুষের জীবনে সুখ এনে দেয়, সেগুলোও খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয় এই সমীক্ষার মাধ্যমে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ২ পক্ষের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থান যথাক্রমে ৭২ ও ১০৫। এদিকে ইসরায়েল ৫ম অবস্থানে থাকলেও ফিলিস্তিন আছে ১০৩ তম অবস্থানে।