০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধূমপান ও তামাক সেবনে বাড়ছে ক্যান্সার

◉ দেশে প্রতি লাখে ক্যান্সারে আক্রান্ত ১১৪ জন
◉ ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ২ লক্ষাধিক
◉ পুরুষদের স্বরনালী ও নারীর স্তন ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি
◉ ধূমপান বন্ধে সরকারের কঠোর আইন করা উচিত : ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
◉ ক্যান্সার মোকাবিলায় নীতিমালা তৈরি করতে হবে : ডা. মো. খালেকুজ্জামান

দেশে ধূমপান ও নানাভাবে তামাক সেবনকারীদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গবেষণা তথ্যে দেখা গেছে, ক্যান্সার আক্রান্ত ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষের মধ্যে নিয়মিত ধূমপান করে ৪১ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ। ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ নারীর ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের ইতিহাস রয়েছে। ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ ও ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর মধ্যে নিয়মিত পানসুপারি খাওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে ধূমপান বন্ধে আইন প্রণয়ন ও ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রধান গবেষক ডা. মো. খালেকুজ্জামান পিএইচডির নেতৃতে ক্যান্সার বিষয়ে গবেষণায় উপরের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিনি বলেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলোÑ বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্যান্সার পরিস্থিতি নির্ণয় করা। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদি, শাহেদল, আড়াইবাড়িয়া এবং গোবিন্দপুর ইউনিয়নে এ গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৩ থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত সময়কালে পরিচালিত মোট ২৭ হাজার ৭৮৭টি বাড়িতে থাকা সর্বমোট ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৪৭৫ জনকে রেজিস্ট্রির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রেজিস্ট্রিকৃতদের মধ্যে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১৩৩ জন। হার হিসেবে তা প্রতি লাখে ১১৪ জন। সে অনুসারে বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা হিসেবে দেশে ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা ২ লক্ষাধিক।

তিনি বলেন, ক্যান্সার নির্ণয় কেন্দ্রগুলো একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে। ক্যান্সার রোগ সংক্রান্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। রোগীদের রেজিস্ট্রি সঠিকভাবে রাখা, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমান বিশ্বে মৃত্যুর একটি কারণ হচ্ছে ক্যান্সার। গ্লোবোক্যান এর রিপোর্টে ২০২২ সালে বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ ও মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন উল্লেখ করা হলেও জনংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রির অভাবে বাংলাদেশে ক্যান্সারের সঠিক পরিস্থিতি জানার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

গবেষণার ফলাফল হিসেবে ডা. খালেকুজ্জামান বলেন, ২৭ হাজার ৭৮৭টি বাড়িতে থাকা সর্বমোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৫ জনকে রেজিস্ট্রির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ ও নারী ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। রেজিস্ট্রিকৃতদের মধ্যে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১৩৩ জন। হার হিসেবে তা প্রতি লাখে ১১৪ জন (পুরুষের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১২০ জন ও নারীর ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১০৮ জন)। ৫১ থেকে ৬০ বৎসর বয়সি নারী ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষের ১৮ শতাংশর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে ক্যান্সার রোগী পাওয়া গেছে। পুরুষদের মধ্যে স্বরনালীর ক্যান্সারের হার সবচেয়ে বেশি যা ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, আধিক্যের দিক থেকে শীর্ষ অন্যান্য ক্যান্সার হচ্ছে পাকস্থলির ক্যান্সার ১০ দশমিক ২ শতাংশ, ঠোট ও মুখগহ্বরে ক্যান্সার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, ফুসফুসের ক্যান্সার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং খাদ্যনালীর ক্যান্সার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের হার সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ। শীর্ষ অন্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জরায়ুমুখ ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, ঠোঁট ও মুখগহ্বর ১০ দশমিক ৮ শতাংশ, থাইরয়েড ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ওভারির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ উচ্চরক্তচাপ, ১১ দশমিক ৩ শতাংশ ডায়াবেটিস, ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হৃদ রোগ, এবং ৩ শতাংশ হারে কিডনি জটিলতা এবং স্ট্রোক বিদ্যমান।

ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ শুধু কেমোথেরাপি, ১১ দশমিক ৩ শতাংশ শুধু সার্জারি, ২ দশমিক ৩ শতাংশ শুধু রেডিওথেরাপি, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ শুধু প্যালিয়েটিভ সেবা, এবং ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ উল্লিখিত সবগুলোর একের অধিক সেবা গ্রহণ করেছেন। রেজিস্ট্রিকৃত ক্যান্সার রোগীর ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো প্রকার চিকিৎসেবা গ্রহণ করেননি।

তিনি বাংলাদেশে ক্যান্সার মোকাবিলার জন্য নীতিমালা তৈরি করার উপর জোর দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহের ক্যান্সার রোগীদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম সহায়তা প্রদানের জন্য যথাযথ রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্যালিয়েটিভ সেবা দিয়ে সজ্জিত করার কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবার সব ধাপে ক্যান্সার সেবা জোরদার করলে তা ক্যান্সার রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে উপকৃত করবে।
ক্যান্সার চিকিৎসার সুপারিশ হিসেবে বলেন, এই জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি সক্রিয় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ক্যান্সার রোগীদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। এই রেজিস্ট্রি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ক্যান্সার গবেষণা পরিচালনা করতে গবেষকদের উৎসাহিত করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, তামাকজাত পণ্য গ্রহণকারী ধূমপায়ী ও পরোক্ষ ধূমপায়ী উভয়েই ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। তামাক শুধু সিগারেট না পান, বিড়ি, জর্দা, গুল, তামাক পাতা সবই এর সঙ্গে যুক্ত। মাথা থেকে পা পর্যন্ত যেকোনো ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে এই ধূমপান ও তামাক। পৃথিবীর কোনো দেশেই এখনো সেভাবে ধূমপানকে নিষিদ্ধ করতে পারেনি। সব দেশেই মানুষ ধূমপান করে। আমি যেসব দেশে গেছি সবখানেই প্রচুর ধূমপায়ী দেখেছি। মেয়েরাও ধূমপান করে। সরকারের উচিত ধূমপান বন্ধে আইন করা। যেসব কোম্পানি সিগারেট উৎপাদন করে, তারা সরকারকে ট্যাক্স দেয়। তারা এটাকে উদাহরণ হিসেবে দেখে। আসলে তারা যে ট্যাক্স দেয় তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করে। যে ট্যাক্স দেয় সেই টাকা দিয়ে এর কারণে রোগে আক্রান্তের চিকিৎসায় সরকারের বেশি ব্যয় হয়। শুধু ক্যান্সার না, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থায় সন্তান ও মায়ের ক্ষতি হয়। সবদিক দিয়েই ধূমপান ক্ষতিকর। ধূমপান বন্ধে দেশে কঠোর আইন করা দরকার এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে কথা বলা দরকার। প্রয়োজনে স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়েও এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। যেন তারা ছোটবেলা থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

ধূমপান ও তামাক সেবনে বাড়ছে ক্যান্সার

আপডেট সময় : ০৮:০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪

◉ দেশে প্রতি লাখে ক্যান্সারে আক্রান্ত ১১৪ জন
◉ ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ২ লক্ষাধিক
◉ পুরুষদের স্বরনালী ও নারীর স্তন ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি
◉ ধূমপান বন্ধে সরকারের কঠোর আইন করা উচিত : ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
◉ ক্যান্সার মোকাবিলায় নীতিমালা তৈরি করতে হবে : ডা. মো. খালেকুজ্জামান

দেশে ধূমপান ও নানাভাবে তামাক সেবনকারীদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গবেষণা তথ্যে দেখা গেছে, ক্যান্সার আক্রান্ত ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষের মধ্যে নিয়মিত ধূমপান করে ৪১ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ। ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ নারীর ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের ইতিহাস রয়েছে। ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ ও ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারীর মধ্যে নিয়মিত পানসুপারি খাওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে ধূমপান বন্ধে আইন প্রণয়ন ও ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রধান গবেষক ডা. মো. খালেকুজ্জামান পিএইচডির নেতৃতে ক্যান্সার বিষয়ে গবেষণায় উপরের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিনি বলেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য হলোÑ বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্যান্সার পরিস্থিতি নির্ণয় করা। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদি, শাহেদল, আড়াইবাড়িয়া এবং গোবিন্দপুর ইউনিয়নে এ গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৩ থেকে ৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত সময়কালে পরিচালিত মোট ২৭ হাজার ৭৮৭টি বাড়িতে থাকা সর্বমোট ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৪৭৫ জনকে রেজিস্ট্রির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রেজিস্ট্রিকৃতদের মধ্যে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১৩৩ জন। হার হিসেবে তা প্রতি লাখে ১১৪ জন। সে অনুসারে বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা হিসেবে দেশে ক্যান্সারের রোগীর সংখ্যা ২ লক্ষাধিক।

তিনি বলেন, ক্যান্সার নির্ণয় কেন্দ্রগুলো একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে। ক্যান্সার রোগ সংক্রান্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। রোগীদের রেজিস্ট্রি সঠিকভাবে রাখা, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমান বিশ্বে মৃত্যুর একটি কারণ হচ্ছে ক্যান্সার। গ্লোবোক্যান এর রিপোর্টে ২০২২ সালে বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ ও মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন উল্লেখ করা হলেও জনংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রির অভাবে বাংলাদেশে ক্যান্সারের সঠিক পরিস্থিতি জানার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

গবেষণার ফলাফল হিসেবে ডা. খালেকুজ্জামান বলেন, ২৭ হাজার ৭৮৭টি বাড়িতে থাকা সর্বমোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৫ জনকে রেজিস্ট্রির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ ও নারী ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। রেজিস্ট্রিকৃতদের মধ্যে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা ১৩৩ জন। হার হিসেবে তা প্রতি লাখে ১১৪ জন (পুরুষের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১২০ জন ও নারীর ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১০৮ জন)। ৫১ থেকে ৬০ বৎসর বয়সি নারী ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পুরুষের ১৮ শতাংশর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে ক্যান্সার রোগী পাওয়া গেছে। পুরুষদের মধ্যে স্বরনালীর ক্যান্সারের হার সবচেয়ে বেশি যা ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, আধিক্যের দিক থেকে শীর্ষ অন্যান্য ক্যান্সার হচ্ছে পাকস্থলির ক্যান্সার ১০ দশমিক ২ শতাংশ, ঠোট ও মুখগহ্বরে ক্যান্সার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, ফুসফুসের ক্যান্সার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং খাদ্যনালীর ক্যান্সার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের হার সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ। শীর্ষ অন্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জরায়ুমুখ ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, ঠোঁট ও মুখগহ্বর ১০ দশমিক ৮ শতাংশ, থাইরয়েড ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ওভারির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ উচ্চরক্তচাপ, ১১ দশমিক ৩ শতাংশ ডায়াবেটিস, ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হৃদ রোগ, এবং ৩ শতাংশ হারে কিডনি জটিলতা এবং স্ট্রোক বিদ্যমান।

ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে ১৩ শতাংশ শুধু কেমোথেরাপি, ১১ দশমিক ৩ শতাংশ শুধু সার্জারি, ২ দশমিক ৩ শতাংশ শুধু রেডিওথেরাপি, ৯ দশমিক ৭ শতাংশ শুধু প্যালিয়েটিভ সেবা, এবং ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ উল্লিখিত সবগুলোর একের অধিক সেবা গ্রহণ করেছেন। রেজিস্ট্রিকৃত ক্যান্সার রোগীর ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো প্রকার চিকিৎসেবা গ্রহণ করেননি।

তিনি বাংলাদেশে ক্যান্সার মোকাবিলার জন্য নীতিমালা তৈরি করার উপর জোর দেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহের ক্যান্সার রোগীদের সম্ভাব্য সর্বোত্তম সহায়তা প্রদানের জন্য যথাযথ রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্যালিয়েটিভ সেবা দিয়ে সজ্জিত করার কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবার সব ধাপে ক্যান্সার সেবা জোরদার করলে তা ক্যান্সার রোগীদের সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে উপকৃত করবে।
ক্যান্সার চিকিৎসার সুপারিশ হিসেবে বলেন, এই জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি সক্রিয় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ক্যান্সার রোগীদের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। এই রেজিস্ট্রি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ক্যান্সার গবেষণা পরিচালনা করতে গবেষকদের উৎসাহিত করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, তামাকজাত পণ্য গ্রহণকারী ধূমপায়ী ও পরোক্ষ ধূমপায়ী উভয়েই ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। তামাক শুধু সিগারেট না পান, বিড়ি, জর্দা, গুল, তামাক পাতা সবই এর সঙ্গে যুক্ত। মাথা থেকে পা পর্যন্ত যেকোনো ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে এই ধূমপান ও তামাক। পৃথিবীর কোনো দেশেই এখনো সেভাবে ধূমপানকে নিষিদ্ধ করতে পারেনি। সব দেশেই মানুষ ধূমপান করে। আমি যেসব দেশে গেছি সবখানেই প্রচুর ধূমপায়ী দেখেছি। মেয়েরাও ধূমপান করে। সরকারের উচিত ধূমপান বন্ধে আইন করা। যেসব কোম্পানি সিগারেট উৎপাদন করে, তারা সরকারকে ট্যাক্স দেয়। তারা এটাকে উদাহরণ হিসেবে দেখে। আসলে তারা যে ট্যাক্স দেয় তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করে। যে ট্যাক্স দেয় সেই টাকা দিয়ে এর কারণে রোগে আক্রান্তের চিকিৎসায় সরকারের বেশি ব্যয় হয়। শুধু ক্যান্সার না, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থায় সন্তান ও মায়ের ক্ষতি হয়। সবদিক দিয়েই ধূমপান ক্ষতিকর। ধূমপান বন্ধে দেশে কঠোর আইন করা দরকার এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে কথা বলা দরকার। প্রয়োজনে স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়েও এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। যেন তারা ছোটবেলা থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন হতে পারে।