০৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক কাঁঠালিয়ায় মাঠ জুড়ে হলুদের সমারোহ

সকালে ঘুম থেকে উঠেই যেমন দেখা যায় সূর্য পূর্ব আকাশে জ্বলজ্বল করে উঁকি দিচ্ছে। ঠিক তখনই মনে হয় যেন সূর্যের দিকে তাকিয়ে উঁকি দিচ্ছে হাজার হাজার অন্য এক সূর্য। এ আর কিছুই নয়, এ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। এমনই অপরূপ চোখ ধাঁধানো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে কাঁঠালিয়ার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এ যেন সবুজের মাঝে সূর্যমুখী ফুলের অপরূপ দৃশ্যে যেন হলুদ বরণ সাজে সেজেছে প্রকৃতি। যতদূর চোখ যায়, সূর্যের দিকে মুখ করে হাসছে সূর্যমুখী। আর এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। মাঠের পর মাঠ ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সঙ্গে কৃষকের চোখে-মুখে স্বপ্ন পূরণের আশা দেখা যাচ্ছে। কাঁঠালিয়া একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। প্রায় সারাটি বছরজুড়ে এখানকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে থাকে কোনো না কোনো ফসল। আর তাই বর্তমানে এখানে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়ার মাঠ জুড়ে হলুদের সমারোহ। যেদিকে তাকাই সেদিকেই শুধু হলুদ গালিচার মতো সুর্যমুখী খেত। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে ঝুকছে এ এলাকার কৃষকরা। নিরাপদ ভোজ্যতেল ও অধিক লাভের আশায় দিনদিন এর চাষ বাড়াচ্ছে কৃষকেরা । আজ সোমবার (১ এপ্রিল ) দুপুরে উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া মাঠে গিয়ে দেখা যায় সূর্যমুখী ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক-কৃষানীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, এ বছর উপজেলায় ১৩৩ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাঁশবুনিয়া ব্লকেই ৩০ একর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ভালো ফলন পাওয়ার আশায় প্রচন্ড রোদেও পরিচর্যার কোন কমতি নেই তাদের। কৃষকরা হাইসান-৩৩ জাতের ফুল চাষ করেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুন জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছে কৃষকরা।
সূর্যমুখী ফুলের বাগানের মালিকরা বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের অনুপ্রেরণা থেকেই এই এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু। কৃষকরা আরও জানান, সরকারিভাবে কৃষকদের মাঝে সূর্যমুখী ফুলের বীজ, সার ও ওষুধ দিয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করছি। ফলনের ন্যায্যমূল্য পেলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে এবং আমাদের মতো আরও কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হবেন।
কাঁঠালিয়া উপজেলায় সরকারি প্রণোদনায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করার জন্য কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। এ বছরে উপজেলায় ব্যাপক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করা হয়েছে। আগামী বছর আরও ব্যাপক আকারে সূর্যমুখী ফুলের চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে এবং কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পায়, সে দিকটি নিশ্চিত করা হবে।
তারা আরও জানান, আমাদের ভোজ্যতেল বেশিরভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, দেশে যদি এই সূর্যমুখী প্রকল্প সফলতা পায় তা হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই তেল বিদেশে রপ্তানি করতে পারব বলে আশা করছি।
বাঁশবুনিয়া এলাকার কৃষক নিতাই শীল জানান, বর্তমানে ক্ষেতের ফলন খুই ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরামর্শ ও নিয়মিত তদারকি করায় ফসলের কোন ক্ষতি হয়নি। ওই এলাকার কৃষক সন্তোষ ও ধীরেন্দ্র দুয়ারী জানান, ৫ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছরে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশানুরুপ ফলন ঘরে তোলা যাবে।
লিড ফার্মার সাজ্জাদ হোসেন জসিম জানান, এ অঞ্চলে সূর্যমুখীর ফলন ভালো হওয়ায় দিনদিন এর আবাদ বাড়ছে।
সূর্যমুখী ক্ষেত ঘুরে দেখতে এসে মো. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখী হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে তাই বন্ধুদের সঙ্গে একটু দেখতে ও ছবি তুলতে আসলাম। এখানে এসে সূর্যমুখী ক্ষেত ঘুরে দেখতে ও ছবি তুলতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে।
বাঁশবুনিয়া ব্লকের উপসহকারি কৃষি অফিসার মো.হাছিবুর রহমান বলেন, এ এলাকায় স্থানীয় আমন ফসল তেলার পর, অনেক জমি পতিত থাকে। এ জমি দুই ফসলি করার জন্য সূর্যমুখী উপযুক্ত ফসল। তাই কৃষকদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় সার-বীজ সহায়তা দিয়ে উদ্ভুদ্ধ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ ইমরান বিন ইসলাম বলেন, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এক একর জমিতে উৎপাদন খরচ বাদে কৃষকের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হবে। ধানের চেয়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছে। এছাড়া নিরাপদ ভোজ্য তেল পাওয়া যায়।
জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক কাঁঠালিয়ায় মাঠ জুড়ে হলুদের সমারোহ

আপডেট সময় : ১২:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ এপ্রিল ২০২৪
সকালে ঘুম থেকে উঠেই যেমন দেখা যায় সূর্য পূর্ব আকাশে জ্বলজ্বল করে উঁকি দিচ্ছে। ঠিক তখনই মনে হয় যেন সূর্যের দিকে তাকিয়ে উঁকি দিচ্ছে হাজার হাজার অন্য এক সূর্য। এ আর কিছুই নয়, এ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। এমনই অপরূপ চোখ ধাঁধানো দৃশ্য দেখা যাচ্ছে কাঁঠালিয়ার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এ যেন সবুজের মাঝে সূর্যমুখী ফুলের অপরূপ দৃশ্যে যেন হলুদ বরণ সাজে সেজেছে প্রকৃতি। যতদূর চোখ যায়, সূর্যের দিকে মুখ করে হাসছে সূর্যমুখী। আর এমন মনোরম দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। মাঠের পর মাঠ ফুটে থাকা সূর্যমুখী ফুলের সঙ্গে কৃষকের চোখে-মুখে স্বপ্ন পূরণের আশা দেখা যাচ্ছে। কাঁঠালিয়া একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। প্রায় সারাটি বছরজুড়ে এখানকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে থাকে কোনো না কোনো ফসল। আর তাই বর্তমানে এখানে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়ার মাঠ জুড়ে হলুদের সমারোহ। যেদিকে তাকাই সেদিকেই শুধু হলুদ গালিচার মতো সুর্যমুখী খেত। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে ঝুকছে এ এলাকার কৃষকরা। নিরাপদ ভোজ্যতেল ও অধিক লাভের আশায় দিনদিন এর চাষ বাড়াচ্ছে কৃষকেরা । আজ সোমবার (১ এপ্রিল ) দুপুরে উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া মাঠে গিয়ে দেখা যায় সূর্যমুখী ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক-কৃষানীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, এ বছর উপজেলায় ১৩৩ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাঁশবুনিয়া ব্লকেই ৩০ একর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ভালো ফলন পাওয়ার আশায় প্রচন্ড রোদেও পরিচর্যার কোন কমতি নেই তাদের। কৃষকরা হাইসান-৩৩ জাতের ফুল চাষ করেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুন জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছে কৃষকরা।
সূর্যমুখী ফুলের বাগানের মালিকরা বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের অনুপ্রেরণা থেকেই এই এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু। কৃষকরা আরও জানান, সরকারিভাবে কৃষকদের মাঝে সূর্যমুখী ফুলের বীজ, সার ও ওষুধ দিয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ার প্রত্যাশা করছি। ফলনের ন্যায্যমূল্য পেলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে এবং আমাদের মতো আরও কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হবেন।
কাঁঠালিয়া উপজেলায় সরকারি প্রণোদনায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করার জন্য কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। এ বছরে উপজেলায় ব্যাপক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করা হয়েছে। আগামী বছর আরও ব্যাপক আকারে সূর্যমুখী ফুলের চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে এবং কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পায়, সে দিকটি নিশ্চিত করা হবে।
তারা আরও জানান, আমাদের ভোজ্যতেল বেশিরভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, দেশে যদি এই সূর্যমুখী প্রকল্প সফলতা পায় তা হলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই তেল বিদেশে রপ্তানি করতে পারব বলে আশা করছি।
বাঁশবুনিয়া এলাকার কৃষক নিতাই শীল জানান, বর্তমানে ক্ষেতের ফলন খুই ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে সঠিক পরামর্শ ও নিয়মিত তদারকি করায় ফসলের কোন ক্ষতি হয়নি। ওই এলাকার কৃষক সন্তোষ ও ধীরেন্দ্র দুয়ারী জানান, ৫ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছরে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশানুরুপ ফলন ঘরে তোলা যাবে।
লিড ফার্মার সাজ্জাদ হোসেন জসিম জানান, এ অঞ্চলে সূর্যমুখীর ফলন ভালো হওয়ায় দিনদিন এর আবাদ বাড়ছে।
সূর্যমুখী ক্ষেত ঘুরে দেখতে এসে মো. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখী হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে তাই বন্ধুদের সঙ্গে একটু দেখতে ও ছবি তুলতে আসলাম। এখানে এসে সূর্যমুখী ক্ষেত ঘুরে দেখতে ও ছবি তুলতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে।
বাঁশবুনিয়া ব্লকের উপসহকারি কৃষি অফিসার মো.হাছিবুর রহমান বলেন, এ এলাকায় স্থানীয় আমন ফসল তেলার পর, অনেক জমি পতিত থাকে। এ জমি দুই ফসলি করার জন্য সূর্যমুখী উপযুক্ত ফসল। তাই কৃষকদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় সার-বীজ সহায়তা দিয়ে উদ্ভুদ্ধ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ ইমরান বিন ইসলাম বলেন, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এক একর জমিতে উৎপাদন খরচ বাদে কৃষকের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হবে। ধানের চেয়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হচ্ছে। এছাড়া নিরাপদ ভোজ্য তেল পাওয়া যায়।