০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে ভূয়া এনজিওর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুরে পবিত্র রমজান মাসে  রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ভূয়া এনজিওর মালিক দিলিপ কুমার দেবনাথ এর ভূয়ামির শিকার হয়েছেন উপজেলার পলবান্দা ইউনিয়নের ৩ সহস্রাধিক দরিদ্র পরিবার।

ভুক্তভোগী শত শত দরিদ্র মানুষ জানান, রমজানের শেষদিকে ১৪টি পণ্যের ঈদ প্যাকেজ দেওয়ার কথা ভূয়া এনজিও সোনার তরী সমাজসেবা সংঘের কথিত নির্বাহী পরিচালক দিলিপ কুমার দেবনাথ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ডিহিদার (কমল) ও ইউপি সদস্যদের সহযোগিতায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় তিন সহস্রাধিক পরিবারকে প্রাথমিক সদস্য পদ প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) পলবান্দা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ডিহিদার কমলের গোদামে আরো ৬৬০ টাকা নিয়ে পণ্য বিতরণ শুরু করা হয়। এ সময় ১৪ পণ্যের স্থলে ৫টি নিম্নমানের পণ্য বিতরণ শুরু করা হলে প্রতিবাদ করেন একজন ভুক্তভোগী । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দরিদ্র ওই ভুক্তভোগীকে লাঞ্ছিত করেন এনজিওর ডিলার ফুলু নামের এক ব্যক্তি। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন উপস্থিত ভুক্তভোগীরা। খবরটি চার দিকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ইসলামপুর থানার এসআই আক্রাম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। এছাড়া বিভিন্ন গনমাধ্যমের কর্মীও সেখানে আসেন। এ সময় পণ্য বিতরণ বন্ধ করে গুদামে তালা লাগিয়ে স্থান ত্যাগ করেন ভূয়া এনজিওর লোকজন।

এ ব্যাপারে পলবান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভূয়া এনজিও সোনার তীর পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরে সাংবাদিকদের বুঝানোর চেষ্টা করেন এবং ভুক্তভোগীদের উপর ক্ষিপ্ত হন তিনি।
পরে ইসলামপুর পৌর সভার দুই কাউন্সিলকে নিয়ে  ঘটনাস্থলে হাজির হন সোনার তরীর কথিত নির্বাহী পরিচালক দিলিপ কুমার দেবনাথ। এসময় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। জানতে চাওয়া হয় এনজিও সোনার তরীর কোন সরকারি অনুমোদন আছে কিনা। এর কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি দিলীপ কুমার দেবনাথ।

তবে তিনি বলেন, অনুমোদনের জন্য উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে । একপর্যায়ে তিনি স্থানীয় এমপি ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল এর ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোর্শেদুল ইসলাম খান মাসুমের কথা বলে কেটে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ইসলামপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো: রুহুল আমীন বলেন, এই উপজেলায় সোনার তরী সমাজসেবা সংঘ নামের কোন এনজিওর অনুমোদন নেই। তবে নাম সিলেকশনের জন্য একটি আবেদন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ও ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের ছোট ভাই ও ইসলামপুর  উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোর্শেদুল ইসলাম খান মাসুমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমের জন্য আমার নিকট এসে ছিলো। তাই আমি সমাজসেবামূলক কাজের জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে ফোন করেছি।

তিনি আরও বলেন, পলবান্দা আমার নিজের ইউনিয়ন এখানেই যদি প্রতারণা হয় সেটা মেনে নেওয়ায় হবে না। তিনি আরও বলেন  শুধু পলবান্দা কেন উপজেলার কোথাও কোন অন্যায়, প্রতারণা ও অনিয়ম-দূর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ভূয়া এনজিওর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

জামালপুরের ইসলামপুরে পবিত্র রমজান মাসে  রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ভূয়া এনজিওর মালিক দিলিপ কুমার দেবনাথ এর ভূয়ামির শিকার হয়েছেন উপজেলার পলবান্দা ইউনিয়নের ৩ সহস্রাধিক দরিদ্র পরিবার।

ভুক্তভোগী শত শত দরিদ্র মানুষ জানান, রমজানের শেষদিকে ১৪টি পণ্যের ঈদ প্যাকেজ দেওয়ার কথা ভূয়া এনজিও সোনার তরী সমাজসেবা সংঘের কথিত নির্বাহী পরিচালক দিলিপ কুমার দেবনাথ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ডিহিদার (কমল) ও ইউপি সদস্যদের সহযোগিতায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় তিন সহস্রাধিক পরিবারকে প্রাথমিক সদস্য পদ প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) পলবান্দা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ডিহিদার কমলের গোদামে আরো ৬৬০ টাকা নিয়ে পণ্য বিতরণ শুরু করা হয়। এ সময় ১৪ পণ্যের স্থলে ৫টি নিম্নমানের পণ্য বিতরণ শুরু করা হলে প্রতিবাদ করেন একজন ভুক্তভোগী । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দরিদ্র ওই ভুক্তভোগীকে লাঞ্ছিত করেন এনজিওর ডিলার ফুলু নামের এক ব্যক্তি। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন উপস্থিত ভুক্তভোগীরা। খবরটি চার দিকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ইসলামপুর থানার এসআই আক্রাম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। এছাড়া বিভিন্ন গনমাধ্যমের কর্মীও সেখানে আসেন। এ সময় পণ্য বিতরণ বন্ধ করে গুদামে তালা লাগিয়ে স্থান ত্যাগ করেন ভূয়া এনজিওর লোকজন।

এ ব্যাপারে পলবান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভূয়া এনজিও সোনার তীর পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরে সাংবাদিকদের বুঝানোর চেষ্টা করেন এবং ভুক্তভোগীদের উপর ক্ষিপ্ত হন তিনি।
পরে ইসলামপুর পৌর সভার দুই কাউন্সিলকে নিয়ে  ঘটনাস্থলে হাজির হন সোনার তরীর কথিত নির্বাহী পরিচালক দিলিপ কুমার দেবনাথ। এসময় সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। জানতে চাওয়া হয় এনজিও সোনার তরীর কোন সরকারি অনুমোদন আছে কিনা। এর কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি দিলীপ কুমার দেবনাথ।

তবে তিনি বলেন, অনুমোদনের জন্য উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে । একপর্যায়ে তিনি স্থানীয় এমপি ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল এর ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোর্শেদুল ইসলাম খান মাসুমের কথা বলে কেটে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ইসলামপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো: রুহুল আমীন বলেন, এই উপজেলায় সোনার তরী সমাজসেবা সংঘ নামের কোন এনজিওর অনুমোদন নেই। তবে নাম সিলেকশনের জন্য একটি আবেদন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ও ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের ছোট ভাই ও ইসলামপুর  উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোর্শেদুল ইসলাম খান মাসুমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমের জন্য আমার নিকট এসে ছিলো। তাই আমি সমাজসেবামূলক কাজের জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে ফোন করেছি।

তিনি আরও বলেন, পলবান্দা আমার নিজের ইউনিয়ন এখানেই যদি প্রতারণা হয় সেটা মেনে নেওয়ায় হবে না। তিনি আরও বলেন  শুধু পলবান্দা কেন উপজেলার কোথাও কোন অন্যায়, প্রতারণা ও অনিয়ম-দূর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।