০৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পার্লামেন্টে জুতা চুরি, খালি পায়ে ফিরলেন এমপিরা

পার্লামেন্টকে যেকোনো দেশে সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গাগুলোর মধ্যে একটি ধরা হয়। সেখানে মন্ত্রী-এমপিদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকে ডজন ডজন নিরাপত্তাকর্মী। কিন্তু সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে মোড়া সেই পার্লামেন্ট চত্বর থেকেই কি না চুরি হয়ে গেল ২০ জোড়া জুতা! আর তার কারণে খালি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হলো এমপিদের! সম্প্রতি এমন ঘটনাই ঘটেছে পাকিস্তানে। আর তার জেরে বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে। প্রশ্ন উঠেছে, পার্লামেন্টে চত্বরের আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা টপকে জুতাচোর ঢুকল কীভাবে? এ ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও।

 

 

 

জানা যায়, গত শুক্রবার পাকিস্তানের পার্লামেন্ট চত্বরে থাকা একটি মসজিদ থেকে ঘটেছে এই জুতা চুরির ঘটনা। সেদিন দুপুরে জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকেছিলেন সংসদ সদস্য, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু নামাজ শেষে বের হতেই চোখ ছানাবড়া সবার। কারণ, কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা পার্লামেন্ট চত্বরের মসজিদ থেকে অন্তত ২০ জোড়া জুতা গায়েব! কীভাবে কী হলো কিছুই বুঝতে পারছিলেন না তারা। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও নিজেদের জুতা না পেয়ে বিকল্পের সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। শেষমেশ খালি পায়েই ঘরে ফিরতে হয় অনেককে।

 

 

 

এই ঘটনা জানতে পেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। পার্লামেন্ট চত্বরে নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি অনুসন্ধানে সূক্ষ্ম তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, জুতা চুরির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা স্পষ্টতই অনুপস্থিত ছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। স্পিকারের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে যুগ্ম সচিব অ্যাডমিন এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসকে ঘটনার তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

 

 

এদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন না পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কেননা এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদের একটি আদালত। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধাচরণে নিষেধ করা হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর করা ‘রাজনৈতিক বা উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’ মন্তব্য গুরুত্ব দিয়ে প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন আদালত।

 

 

 

আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় সুষ্ঠু বিচারের অনুরোধ জানিয়ে করা এক আবেদনের নিষ্পত্তিকালে আদালতের বিচারক রানা নাসির জাভেদ পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান ও তার স্ত্রীর ওপর ‘প্রতিষ্ঠানের’ বিরুদ্ধে কথা বলার বিষয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালত আদেশে বলেন, ইমরান খান সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক বিবৃতি দিয়েছেন। এটি বিচার বিভাগের মর্যাদাকেই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত করেনি বরং ন্যায়বিচার প্রদানের মতো বিচারিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত করেছে।

উন্নয়নের অভিজ্ঞতা নিতে রাসিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরগণ

পার্লামেন্টে জুতা চুরি, খালি পায়ে ফিরলেন এমপিরা

আপডেট সময় : ০৭:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

পার্লামেন্টকে যেকোনো দেশে সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গাগুলোর মধ্যে একটি ধরা হয়। সেখানে মন্ত্রী-এমপিদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকে ডজন ডজন নিরাপত্তাকর্মী। কিন্তু সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে মোড়া সেই পার্লামেন্ট চত্বর থেকেই কি না চুরি হয়ে গেল ২০ জোড়া জুতা! আর তার কারণে খালি পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হলো এমপিদের! সম্প্রতি এমন ঘটনাই ঘটেছে পাকিস্তানে। আর তার জেরে বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে। প্রশ্ন উঠেছে, পার্লামেন্টে চত্বরের আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা টপকে জুতাচোর ঢুকল কীভাবে? এ ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও।

 

 

 

জানা যায়, গত শুক্রবার পাকিস্তানের পার্লামেন্ট চত্বরে থাকা একটি মসজিদ থেকে ঘটেছে এই জুতা চুরির ঘটনা। সেদিন দুপুরে জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকেছিলেন সংসদ সদস্য, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু নামাজ শেষে বের হতেই চোখ ছানাবড়া সবার। কারণ, কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা পার্লামেন্ট চত্বরের মসজিদ থেকে অন্তত ২০ জোড়া জুতা গায়েব! কীভাবে কী হলো কিছুই বুঝতে পারছিলেন না তারা। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও নিজেদের জুতা না পেয়ে বিকল্পের সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। শেষমেশ খালি পায়েই ঘরে ফিরতে হয় অনেককে।

 

 

 

এই ঘটনা জানতে পেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। পার্লামেন্ট চত্বরে নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি অনুসন্ধানে সূক্ষ্ম তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, জুতা চুরির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা স্পষ্টতই অনুপস্থিত ছিলেন, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। স্পিকারের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে যুগ্ম সচিব অ্যাডমিন এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসকে ঘটনার তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

 

 

এদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন না পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কেননা এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদের একটি আদালত। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধাচরণে নিষেধ করা হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর করা ‘রাজনৈতিক বা উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’ মন্তব্য গুরুত্ব দিয়ে প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন আদালত।

 

 

 

আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় সুষ্ঠু বিচারের অনুরোধ জানিয়ে করা এক আবেদনের নিষ্পত্তিকালে আদালতের বিচারক রানা নাসির জাভেদ পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান ও তার স্ত্রীর ওপর ‘প্রতিষ্ঠানের’ বিরুদ্ধে কথা বলার বিষয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালত আদেশে বলেন, ইমরান খান সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক বিবৃতি দিয়েছেন। এটি বিচার বিভাগের মর্যাদাকেই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত করেনি বরং ন্যায়বিচার প্রদানের মতো বিচারিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত করেছে।