⚫মার্কিন কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর ভাষণ, ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ
⚫মিথ্যায় ভরা নেতানিয়াহুর ভাষণ, তিনি যুদ্ধবিরতি চান না : হামাস
⚫ইসরায়েলি সেটলারদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা
নির্বিচার বোমা হামলার সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী একটি দিনের সাক্ষী হলো গাজার খান ইউনিসের বাসিন্দারা। শহরটির পূর্বা লে উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অ লটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিমান হামলা থেকে বাঁচতে যারা এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছেন, ইসরায়েলি স্নাইপাররা তাদের গুলি করছে। হামলায় অন্তত ১২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। মৃতের এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটিকে ইসরায়েলের নৃশংস গণহত্যা আখ্যায়িত করে একটি মানবাধিকার সংগঠন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান থেকে লিফলেট ফেলে শহরটির পূর্বা ল থেকে সরে যেতে বলেছিল বাসিন্দাদের। এরপর নিরাপদ মানবিক অ ল হিসেবে পরিচিত এই শহর থেকে এক দিনে দেড় লাখ মানুষকে চলে যেতে বাধ্য করে। তারপরও খাবার ও পানি ছাড়া সেখানে আটকা পড়েন হাজার হাজার মানুষ। কেউ তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি, সরে যাওয়ার মতো সময়ও পায়নি তারা। বাধ্য হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটতে হলেও গাজার সর্বত্রই বোমা হামলা চলছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি ক্যাম্পের দিকে সরে যেতে বলা হলেও সেখানে পা ফেলার মতো জায়গা অবশিষ্ট নেই। খান ইউনিসের পূর্বা লে ভয়াবহ হামলার পর ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের গণহত্যার অপরাধ অব্যাহতভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। যখনই একটি যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই ইসরায়েলি বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালায়। তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সব ধরনের রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ প্রধানের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হুমকিতে সোমবার এক দিনে খান ইউনিস থেকে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পালিয়ে গেছে। এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ও অভিযানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সময় নিয়ে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এই ব্যবধান ছিল মাত্র এক ঘণ্টা।
মার্কিন কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর ভাষণ, ওয়াশিংটনে বিক্ষোভ
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত বুধবার যখন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন, তখন শত শত ফিলিস্তিনপন্থী, যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারী ক্যাপিটল ভবনের কাছে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এর আগে, নজিরবিহীন কড়া নিরাপত্তায় নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ক্যাপিটল হিলের চারপাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এদিন সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা ‘বিশ্বব্যাপী ইহুদিরা ইসরায়েলি রক্তাক্ত বর্বরতার নিন্দা জানায়’ এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় বিক্ষোভকারীদের অনেকে ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিয়ে প্ল্যাকার্ড বহন করে যেখানে লেখা ছিল ‘নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার কর’ এবং ‘ইসরায়েলের জন্য সকল সাহায্য বন্ধ কর।’
ক্যাপিটল যাবার সড়ক পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ধরে নিয়ে যায়, যারা নেতানিয়াহুর গাড়িবহর আটকানোর আশায় রাস্তায় বসেছিলেন। ক্যাপিটল ঘিরে স্টিলের তৈরি উঁচু বেড়া স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপকসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নেতানিয়াহুর একটি কুশপুত্তলিকা নিয়ে আসে, যার মাথায় শিং এবং মুখ থেকে কৃত্রিম রক্ত ঝরতে দেখা যাচ্ছিল। এর আগে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র আগমনে ওয়াশিংটনে বিক্ষোভের ঝড় ওঠে। কংগ্রেসের একটি অফিস ভবনে অবস্থান ধর্মঘট হলে সেখান থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
মিথ্যায় ভরা নেতানিয়াহুর ভাষণ, তিনি যুদ্ধবিরতি চান না : হামাস
গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা সামি আবু জুহরি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মার্কিন কংগ্রেসে যে ভাষণ দিয়েছেন, তাতে তিনি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হতে চান না বলে মনে হয়েছে। নেতানিয়াহুর ভাষণ ছিল মিথ্যায় ভরা। প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থতা ও পরাজয় ঢাকতে তার সেনাবাহিনী গাজার জনগণের বিরুদ্ধে যে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ করেছে, তার ওই ভাষণ সেগুলো ঢাকতে সফল হবে না। যেকোনো পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট ‘শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করা হবে। গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। যে ভাষণে তিনি ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে নতুন একটি জোট গড়ার আহ্বান জানান। গাজা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইসরায়েল ফিলিস্তিনি এই উপত্যকাটির পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিতে চায় না। বরং নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজার পরিচালনার দায়িত্ব ওই সব ফিলিস্তিনিদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত, যারা ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চায় না। নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের জবাবে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণ…একমাত্র তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন কে তাদের শাসন করবেন। (এ অ লে) নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র পথ হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করা, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম এবং আমরা আমাদের এই অবস্থানে অটল আছি।
ইসরায়েলি সেটলারদের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা
অস্ট্রেলিয়া পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলি সেটলারদের (অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী) ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং সাতজন ইসরায়েলি বসতকারী এবং একটি কঠোরপন্থী বসতকারী গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছেন। এই গ্রুপটি নতুন অবৈধ উপনিবেশ স্থাপনের জন্য পরিচিত। এক বিবৃতিতে ওয়ং বলেন, ‘হিলটপ ইউথ’ নামক এই গ্রুপটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয় এবং সহিংসতা সংঘটিত করে। আর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বসতকারীরা মারধর, যৌন নির্যাতন এবং অত্যাচারের অপরাধে অভিযুক্ত। আমরা ইসরায়েলকে সেটলারদের বিচার করার আহ্বান জানাই এবং তাদের চলমান বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করতে বলি। এটা উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে এবং দুই রাষ্ট্রের সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে তোলে। অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ তার মিত্র যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং জাপানের অনুরূপ কর্মসূচির অংশ। গত ১১ জুন, ইসরায়েলের প্রধান সমর্থক যুক্তরাষ্ট্র কয়েকজন ইসরায়েলি বসতকারী এবং একটি চরমপন্থী ইসরায়েলি জাতীয়তাবাদী গ্রুপ ‘লেহাভা’র বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

























