০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভেস্তে গেল রাজধানীর ট্রাফিক ডিজিটালাইজ’র প্রকল্প

➤ ৯ বছরে চার দফা বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ
➤ ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৫২ কোটি টাকা
➤ বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে অত্যাধুনিক যন্ত্র
➤ পরিকল্পনা না থাকায় প্রকল্পের বেহাল দশা

অবশেষে ভেস্তে গেছে রাজধানীর ট্রাফিক সংকেতব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করার প্রকল্প। প্রকল্পের শুরু থেকে ৫২ কোটি টাকা খরচ করা হলেও সুফল ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প। ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবে এটি কার্যকর হয়নি বলে দাবি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ডিটিসিএ’র। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প নেওয়ার কারণে এমন ব্যর্থতা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর অভিজাত গুলশান-১ নম্বর চত্বরের চারপাশে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেমের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, অত্যাধুনিক শব্দধারণ যন্ত্র, বাতি, বিশেষায়িত তার ও খুঁটি বসানো। এমন আয়োজন দেখে মনে হতেই পারে উন্নত বিশ্বের কোনো ব্যস্ততম রাস্তার মোড়। অথচ এর পুরোটাই উল্টো চিত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি ও শব্দের ভিত্তিতে যানবাহনের চাপ নির্ধারণই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। অথচ পাঁচ বছরের বেশি সময় অলস পড়ে আছে অত্যাধুনিক এসব মূল্যবান সব যন্ত্রাংশ।

 

 

 

সড়কের মোড়ে মোড়ে থাকা ট্রাফিক সংকেতবাতি বন্ধ, খুঁটিতে ঝুলছে অলস ক্যামেরা। কোনো ক্যামেরাই সচল নেই। বাস্তবতা হচ্ছে আধুনিক এসব সড়ক বাতির নিচে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায়ই যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন ট্রাফিক সদস্যরা। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরই মধ্যে এআই পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে গুলশান-২ সার্কেলে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক এসব যন্ত্রপাতি। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। ট্রাফিক আইন ভাঙলে তার বিরুদ্ধে হবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক আইনে মামলা।

 

 

অপরদিকে, রাজধানীর ব্যবস্ততম গুলিস্তান মোড়ে ডিজিটাল সিস্টেমের অবস্থা পুরটাই নাজুক। এখানে কয়েকটি বাতি ছাড়া পাওয়া যায়নি কিছুই। বাকি দুটি মোড় মহাখালী ও পল্টনের অবস্থাও অনেকটা একই। বেশিরভাগ যন্ত্র পাওয়া যায়নি এসব মোড়েও। অথচ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, সবকিছুই বসানো হয়েছিল। ঢাকায় এই পদ্ধতির সংকেতবাতি আদৌ চালু করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে রাজধানীর গুলশান-১, মহাখালী, পল্টন ও গুলিস্তান মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ট্রাফিক সংকেতব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ‘ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ৯ বছরে চার দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ কোটির প্রকল্পে ৫২ কোটি টাকা খরচ করেও কোনো সুখবর দিতে পারেনি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, অযান্ত্রিক যানবাহন যদি সিগনালে থাকে এবং যখন সবুজ সংকেত পায় তখন তাদের গতি কিন্তু কাছাকাছি থাকতে হবে। রিকশার গতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার আর মোটরসাইকেলে গতি যদি ৬০ কিলোমিটার হয়, তাহলে এই সিগনাল কোনোভাবেই কাজ করার সুযোগ নেই।

 

একেবারে অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বুয়েটের এই অধ্যাপক।

ভেস্তে গেল রাজধানীর ট্রাফিক ডিজিটালাইজ’র প্রকল্প

আপডেট সময় : ১১:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

➤ ৯ বছরে চার দফা বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ
➤ ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৫২ কোটি টাকা
➤ বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে অত্যাধুনিক যন্ত্র
➤ পরিকল্পনা না থাকায় প্রকল্পের বেহাল দশা

অবশেষে ভেস্তে গেছে রাজধানীর ট্রাফিক সংকেতব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করার প্রকল্প। প্রকল্পের শুরু থেকে ৫২ কোটি টাকা খরচ করা হলেও সুফল ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প। ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবে এটি কার্যকর হয়নি বলে দাবি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ডিটিসিএ’র। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই প্রকল্প নেওয়ার কারণে এমন ব্যর্থতা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর অভিজাত গুলশান-১ নম্বর চত্বরের চারপাশে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেমের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, অত্যাধুনিক শব্দধারণ যন্ত্র, বাতি, বিশেষায়িত তার ও খুঁটি বসানো। এমন আয়োজন দেখে মনে হতেই পারে উন্নত বিশ্বের কোনো ব্যস্ততম রাস্তার মোড়। অথচ এর পুরোটাই উল্টো চিত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি ও শব্দের ভিত্তিতে যানবাহনের চাপ নির্ধারণই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। অথচ পাঁচ বছরের বেশি সময় অলস পড়ে আছে অত্যাধুনিক এসব মূল্যবান সব যন্ত্রাংশ।

 

 

 

সড়কের মোড়ে মোড়ে থাকা ট্রাফিক সংকেতবাতি বন্ধ, খুঁটিতে ঝুলছে অলস ক্যামেরা। কোনো ক্যামেরাই সচল নেই। বাস্তবতা হচ্ছে আধুনিক এসব সড়ক বাতির নিচে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায়ই যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন ট্রাফিক সদস্যরা। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরই মধ্যে এআই পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে গুলশান-২ সার্কেলে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক এসব যন্ত্রপাতি। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। ট্রাফিক আইন ভাঙলে তার বিরুদ্ধে হবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক আইনে মামলা।

 

 

অপরদিকে, রাজধানীর ব্যবস্ততম গুলিস্তান মোড়ে ডিজিটাল সিস্টেমের অবস্থা পুরটাই নাজুক। এখানে কয়েকটি বাতি ছাড়া পাওয়া যায়নি কিছুই। বাকি দুটি মোড় মহাখালী ও পল্টনের অবস্থাও অনেকটা একই। বেশিরভাগ যন্ত্র পাওয়া যায়নি এসব মোড়েও। অথচ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, সবকিছুই বসানো হয়েছিল। ঢাকায় এই পদ্ধতির সংকেতবাতি আদৌ চালু করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে রাজধানীর গুলশান-১, মহাখালী, পল্টন ও গুলিস্তান মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ট্রাফিক সংকেতব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ‘ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। ৯ বছরে চার দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ কোটির প্রকল্পে ৫২ কোটি টাকা খরচ করেও কোনো সুখবর দিতে পারেনি ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ।

 

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, অযান্ত্রিক যানবাহন যদি সিগনালে থাকে এবং যখন সবুজ সংকেত পায় তখন তাদের গতি কিন্তু কাছাকাছি থাকতে হবে। রিকশার গতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার আর মোটরসাইকেলে গতি যদি ৬০ কিলোমিটার হয়, তাহলে এই সিগনাল কোনোভাবেই কাজ করার সুযোগ নেই।

 

একেবারে অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বুয়েটের এই অধ্যাপক।