১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রতিকূল অর্থনীতিতেও প্রাধান্য ১০ খাতে

বাজেট ২০২৪-২৫

আগামী বাজেটে সরকার খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঘাটতি রোধ, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও কৃষকদের জন্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সকলের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে। তবে নানা সংকটের আবহে ঘুরপাক খাচ্ছে অর্থনীতি। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রয়েছে সংশয়। ধীরগতি কাটেনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এদিকে এক দশকে ডলারের রিজার্ভের অঙ্ক সর্বনিম্ন। নানা সংকটের মধ্যেও বড় বাজেটের চিন্তা সরকারের।

 

সূত্রমতে, আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটে ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। ‘সবার জন্য খাদ্য’, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি অর্জন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, প্রতিটি গ্রামকে আধুনিকায়নকরণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ফাস্ট ট্র্যাক অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্ব দেওয়া, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ। দেশি-বিদেশি ঋণ ও সুদ পরিশোধে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে অর্থনীতি। এমন সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি হচ্ছে আগামী (২০২৪-২৫) অর্থবছরের বাজেট।

এছাড়া কৃষি, কৃষক, কিষানি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তার প্রথম বাজেট দিতে যাচ্ছেন ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকার। এটি চলতি বাজেটের তুলনায় চার দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি, টাকার অঙ্কে বাড়ছে ৩৫ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি (অনুদান ছাড়া) হবে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতি খাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আমদানি, রপ্তানি পরিস্থিতি, পণ্যের মূল্য, জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের অগ্রগতি, এডিপিসহ চলতি বাজেট বাস্তবায়ন হার নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ভর্তুকি পরিস্থিতি, সুদহার, ব্যাংক ঋণ পরিস্থিতি, পুঁজিবাজার, রাজস্ব খাত, সঞ্চয়পত্র, মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

 

দেশে বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তুরস্কে মূল্যস্ফীতি এখন ৬২ শতাংশ। বাংলাদেশে এখনো ১০ শতাংশে রয়েছে। তবে বাজেটের অর্থব্যয় গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মুহূর্তে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ হিসাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকেই ধরে নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি না কমাতে পারলে প্রবৃদ্ধি অর্জনে কোনো ধরনের লাভ হবে না। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেশি নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

 

বাজেট নিয়ে বিশেষ প্রত্যাশা নেই: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি সম্প্রতি আগামী বাজেট নিয়ে অনলাইনে করা একটি জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে তাদের কোনও প্রত্যাশা নেই বাজেট ঘিরে। ‘বাজেটে মানুষের প্রত্যাশা’ নিয়ে সিপিডি ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এটি প্রচার করা হয়। এতে আট হাজারের বেশি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। যারা মন্তব্য করেছেন, তাদের ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী বাজেট থেকে তাঁদের কোনো প্রত্যাশা নেই।

 

যেমন হচ্ছে আগামী বাজেট : চলতি বাজেটের তুলনায় মাত্র ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেটের একটি রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাড়িয়ে বাজেট দেওয়া হয়েছিল। আগামী বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। পরিচালন বাজেটে ব্যয় বেশ কিছুটা বাড়লেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ বাড়ছে খুব সামান্য। নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

 

এদিকে আগামী বাজেটে কোন পণ্যের দাম বাড়তে পারে কিংবা কমতে পারে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে চাইছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পণ্যের দাম যেমন ছিলো তেমন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে বলপয়েন্ট কলম, সফটওয়্যার, পলিপ্রপাইলিং ফিল্ম, এলপিজি সিলিন্ডার, মোবাইল ফোন, প্লাস্টিকের সব ধরনের গৃহস্থালি পণ্য, টিস্যু পেপার, অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র, সানগ্লাস, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, খেজুর, বাদাম, স্বর্ণের বার, সিমেন্ট, সিগারেটসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে বিস্কুট, কনটেইনার, ক্যান্সারের ওষুধ, হট রোল, কোল্ড রোল, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, টার্বো ইঞ্জিন, ১৫ আসনের কম মাইক্রোবাস, কেক, হোমমেড বিস্কুট, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, মিষ্টি, কৃষি যন্ত্রপাতি, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও এসব পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আসন্ন বাজেটের বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাজেট সংকোচনমূলক করা দরকার। এরপরও যে প্রাক্কলন করা হচ্ছে, সেটি কতটুকু বাস্তবায়ন হয়, সেটি দেখার বিষয়। বর্তমানে বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেসিরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কম। এক্ষেত্রে ৭ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে নতুন বাজেটে পদক্ষেপ থাকতে হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ মনে করেন, চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার কার্যকর পদক্ষেপ বাজেটে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করেন তিনি। মূল্যস্ফীতি একটি জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সমস্যা, যা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। আর ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। তবে সঠিকভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিকূল অর্থনীতিতেও প্রাধান্য ১০ খাতে

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

আগামী বাজেটে সরকার খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঘাটতি রোধ, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও কৃষকদের জন্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সকলের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে। তবে নানা সংকটের আবহে ঘুরপাক খাচ্ছে অর্থনীতি। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রয়েছে সংশয়। ধীরগতি কাটেনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এদিকে এক দশকে ডলারের রিজার্ভের অঙ্ক সর্বনিম্ন। নানা সংকটের মধ্যেও বড় বাজেটের চিন্তা সরকারের।

 

সূত্রমতে, আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটে ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। ‘সবার জন্য খাদ্য’, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি অর্জন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, প্রতিটি গ্রামকে আধুনিকায়নকরণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ফাস্ট ট্র্যাক অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্ব দেওয়া, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ। দেশি-বিদেশি ঋণ ও সুদ পরিশোধে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে অর্থনীতি। এমন সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি হচ্ছে আগামী (২০২৪-২৫) অর্থবছরের বাজেট।

এছাড়া কৃষি, কৃষক, কিষানি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তার প্রথম বাজেট দিতে যাচ্ছেন ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকার। এটি চলতি বাজেটের তুলনায় চার দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি, টাকার অঙ্কে বাড়ছে ৩৫ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। আসন্ন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি (অনুদান ছাড়া) হবে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতি খাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আমদানি, রপ্তানি পরিস্থিতি, পণ্যের মূল্য, জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের অগ্রগতি, এডিপিসহ চলতি বাজেট বাস্তবায়ন হার নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া ভর্তুকি পরিস্থিতি, সুদহার, ব্যাংক ঋণ পরিস্থিতি, পুঁজিবাজার, রাজস্ব খাত, সঞ্চয়পত্র, মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধির বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

 

দেশে বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তুরস্কে মূল্যস্ফীতি এখন ৬২ শতাংশ। বাংলাদেশে এখনো ১০ শতাংশে রয়েছে। তবে বাজেটের অর্থব্যয় গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ মুহূর্তে অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ হিসাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকেই ধরে নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি না কমাতে পারলে প্রবৃদ্ধি অর্জনে কোনো ধরনের লাভ হবে না। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেশি নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

 

বাজেট নিয়ে বিশেষ প্রত্যাশা নেই: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি সম্প্রতি আগামী বাজেট নিয়ে অনলাইনে করা একটি জরিপের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে তাদের কোনও প্রত্যাশা নেই বাজেট ঘিরে। ‘বাজেটে মানুষের প্রত্যাশা’ নিয়ে সিপিডি ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এটি প্রচার করা হয়। এতে আট হাজারের বেশি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। যারা মন্তব্য করেছেন, তাদের ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন, আগামী বাজেট থেকে তাঁদের কোনো প্রত্যাশা নেই।

 

যেমন হচ্ছে আগামী বাজেট : চলতি বাজেটের তুলনায় মাত্র ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেটের একটি রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাড়িয়ে বাজেট দেওয়া হয়েছিল। আগামী বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। পরিচালন বাজেটে ব্যয় বেশ কিছুটা বাড়লেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ বাড়ছে খুব সামান্য। নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা।

 

এদিকে আগামী বাজেটে কোন পণ্যের দাম বাড়তে পারে কিংবা কমতে পারে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে চাইছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পণ্যের দাম যেমন ছিলো তেমন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে বলপয়েন্ট কলম, সফটওয়্যার, পলিপ্রপাইলিং ফিল্ম, এলপিজি সিলিন্ডার, মোবাইল ফোন, প্লাস্টিকের সব ধরনের গৃহস্থালি পণ্য, টিস্যু পেপার, অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র, সানগ্লাস, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, খেজুর, বাদাম, স্বর্ণের বার, সিমেন্ট, সিগারেটসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

অন্যদিকে বিস্কুট, কনটেইনার, ক্যান্সারের ওষুধ, হট রোল, কোল্ড রোল, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন, টার্বো ইঞ্জিন, ১৫ আসনের কম মাইক্রোবাস, কেক, হোমমেড বিস্কুট, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, মিষ্টি, কৃষি যন্ত্রপাতি, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও এসব পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আসন্ন বাজেটের বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাজেট সংকোচনমূলক করা দরকার। এরপরও যে প্রাক্কলন করা হচ্ছে, সেটি কতটুকু বাস্তবায়ন হয়, সেটি দেখার বিষয়। বর্তমানে বিনিয়োগ হচ্ছে না। বেসিরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কম। এক্ষেত্রে ৭ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে নতুন বাজেটে পদক্ষেপ থাকতে হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ মনে করেন, চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার কার্যকর পদক্ষেপ বাজেটে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করেন তিনি। মূল্যস্ফীতি একটি জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সমস্যা, যা নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। আর ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। তবে সঠিকভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।