০৮:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে এমভি আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে মুক্ত নাবিকদের বরণের অপেক্ষায় মালিকপক্ষ ও স্বজনরা

দীর্ঘ দুই মাস পর অপেক্ষার প্রহর ফুরিয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়া এমভি আবদুল্লাহ’র ২৩ নাবিক আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন। তাদের বরণ করে নিতে মুখিয়ে রয়েছেন স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ যাত্রা শেষে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে জাহাজটি। এর আগে গতকাল বিকালে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে এমভি আবদুল্লাহ। সুস্থ রয়েছেন জাহাজে থাকা ২৩ নাবিক। গতকাল সোমবার রাতে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ।

তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবেন জাহাজের নাবিকরা। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে এমভি আবদুল্লাহ’র দায়িত্ব নিয়েছেন ২৩ জন নাবিকের অপর একটি দল। গতকাল সোমবার বিকালে নতুন নাবিকদের নিয়ে নগরের সদরঘাট কেএসআরএম জেটি ছাড়ে লাইটার জাহাজ এমভি জাহান মনি-৩। ওই জাহাজে করেই আজ মঙ্গলবার সকালে এমভি আবদুল্লাহ’র ২৩ নাবিক কুতুবদিয়া থেকে রওনা হয়েছেন। আজ দুপুরের পর সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিকদের নগরের সদরঘাট কেএসআরএম জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জাহাজের মালিকপক্ষ এবং নাবিকদের স্বজনরা তাদের বরণ করে নেবেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে এমভি আবদুল্লাহ কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে। সেখানে তাদের অপর একটি লাইটার জাহাজে করে রাতেই এমভি আবদুল্লাহ’র দায়িত্ব নেন নাবিকদের ২৩ সদস্যের অপর একটি দল। ওই রাইটার জাহাজযোগে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া ২৩ নাবিক আজ দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট কেএসআরএম জেটিতে পৌঁছাবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকপক্ষ ও তাদের স্বজনেরা মুক্তি পাওয়া নাবিকদের বরণ করে নিবে। ইতোমধ্যেই বরণে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া এমভি আবদুল্লাহতে থাকা চুনাপাথরের কিছু মালামাল কুতুবদিয়ায় খালাস শেষে আগামীকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। সেখানে বাকি মালামাল খালাস হবে। এর আগে ৫৬ হাজার টন চুনাপাথর বোঝাই করে গত ২৯ এপ্রিল জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর ত্যাগ করে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে পৌঁছালে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ সোমালিয়া জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এরপর অস্ত্রের মুখে দস্যুরা নাবিকদের জিম্মির মাধ্যমে জাহাজটিকে ছিনতাই করে সোমালিয়া উপকূলে নিজেদের ডেরায় নিয়ে যায়। ৩১ দিনের জিম্মি জীবন পার করার পর গত ১৩ এপ্রিল মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে জিম্মি জাহাজসহ ছাড়া পান ওই ২৩ নাবিক। মুক্ত হওয়ার পরপরই ১ হাজার ৪৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা আরব আমিরাতের আল-হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় এমভি আবদুল্লাহ।

 

কড়া নিরাপত্তা দিয়ে জাহাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা পার করে দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুইটি যুদ্ধজাহাজ ও তিনটি টহল জাহাজ। ২১ এপ্রিল এমভি আবদুল্লাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে কার্গো খালাস করে জাহাজটি মিনা সাকার বন্দরে নোঙর করে। এরপর সেখান থেকে কার্গো লোড করে অবশেষে দেশের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। সব শঙ্কা কাটিয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কুতুবদিয়ায় নোঙর করে জাহাজটি।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহযোগীতার আহ্বান এডিসি তৌহিদুল ইসলামের

কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে এমভি আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে মুক্ত নাবিকদের বরণের অপেক্ষায় মালিকপক্ষ ও স্বজনরা

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪

দীর্ঘ দুই মাস পর অপেক্ষার প্রহর ফুরিয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়া এমভি আবদুল্লাহ’র ২৩ নাবিক আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন। তাদের বরণ করে নিতে মুখিয়ে রয়েছেন স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ যাত্রা শেষে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে জাহাজটি। এর আগে গতকাল বিকালে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে এমভি আবদুল্লাহ। সুস্থ রয়েছেন জাহাজে থাকা ২৩ নাবিক। গতকাল সোমবার রাতে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ।

তিনি জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবেন জাহাজের নাবিকরা। এরইমধ্যে চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে এমভি আবদুল্লাহ’র দায়িত্ব নিয়েছেন ২৩ জন নাবিকের অপর একটি দল। গতকাল সোমবার বিকালে নতুন নাবিকদের নিয়ে নগরের সদরঘাট কেএসআরএম জেটি ছাড়ে লাইটার জাহাজ এমভি জাহান মনি-৩। ওই জাহাজে করেই আজ মঙ্গলবার সকালে এমভি আবদুল্লাহ’র ২৩ নাবিক কুতুবদিয়া থেকে রওনা হয়েছেন। আজ দুপুরের পর সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিকদের নগরের সদরঘাট কেএসআরএম জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জাহাজের মালিকপক্ষ এবং নাবিকদের স্বজনরা তাদের বরণ করে নেবেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে জানান, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে এমভি আবদুল্লাহ কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে। সেখানে তাদের অপর একটি লাইটার জাহাজে করে রাতেই এমভি আবদুল্লাহ’র দায়িত্ব নেন নাবিকদের ২৩ সদস্যের অপর একটি দল। ওই রাইটার জাহাজযোগে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া ২৩ নাবিক আজ দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট কেএসআরএম জেটিতে পৌঁছাবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকপক্ষ ও তাদের স্বজনেরা মুক্তি পাওয়া নাবিকদের বরণ করে নিবে। ইতোমধ্যেই বরণে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া এমভি আবদুল্লাহতে থাকা চুনাপাথরের কিছু মালামাল কুতুবদিয়ায় খালাস শেষে আগামীকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। সেখানে বাকি মালামাল খালাস হবে। এর আগে ৫৬ হাজার টন চুনাপাথর বোঝাই করে গত ২৯ এপ্রিল জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর ত্যাগ করে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে পৌঁছালে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ সোমালিয়া জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এরপর অস্ত্রের মুখে দস্যুরা নাবিকদের জিম্মির মাধ্যমে জাহাজটিকে ছিনতাই করে সোমালিয়া উপকূলে নিজেদের ডেরায় নিয়ে যায়। ৩১ দিনের জিম্মি জীবন পার করার পর গত ১৩ এপ্রিল মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে জিম্মি জাহাজসহ ছাড়া পান ওই ২৩ নাবিক। মুক্ত হওয়ার পরপরই ১ হাজার ৪৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা আরব আমিরাতের আল-হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় এমভি আবদুল্লাহ।

 

কড়া নিরাপত্তা দিয়ে জাহাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা পার করে দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুইটি যুদ্ধজাহাজ ও তিনটি টহল জাহাজ। ২১ এপ্রিল এমভি আবদুল্লাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছায়। সেখানে কার্গো খালাস করে জাহাজটি মিনা সাকার বন্দরে নোঙর করে। এরপর সেখান থেকে কার্গো লোড করে অবশেষে দেশের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। সব শঙ্কা কাটিয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কুতুবদিয়ায় নোঙর করে জাহাজটি।