০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

❖ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নে কমেছে বরাদ্দ
❖ আগের তুলনায় দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমেছে
❖ মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় জোর বাজেটে

 

 

➢ প্রান্তিক বাজেট কমে যাওয়া আশাপ্রদ না -ড. আদিল মুহাম্মদ খান, নগরপরিকল্পনাবিদ
➢ বরাদ্দ কমানোয় গ্রামীণ উন্নয়নে প্রভাব পড়তে পারে -ড. আইনুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ

 

 

‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। বাজেটে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে ৪৬ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। যা গত অর্থ বছর থেকে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছরে সরকারের এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। গুরত্বপূর্ণ এ খাতে বাজেট কমানোতে গ্রামীণ পর্যায়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা চ্যালেঞ্জের হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজেট প্রস্তাবকালে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহামুদ আলী বলেন, ‘শেখ হাসিনার মূলনীতি, গ্রাম শহরের উন্নতি’- এই প্রত্যয়ে আমাদের সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধাদির অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রাম ও শহরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি, সংস্কার ও সংরক্ষণ করছে। দেশব্যাপী যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, সুপেয় পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ইত্যাদির মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বিগত ১৫ বছরের ফিরিস্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, সারা দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধাদির সম্প্রসারণে বিগত ১৫ বছরে পল্লি সেক্টরে মোট ৭৮ হাজার ২১৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ, ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৩ কিলোমিটার পাকা পল্লি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৭ মিটার নতুন ব্রিজ নির্মাণ, ১ হাজার ৭৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং ৪১৮টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯১৯টি গ্রোথ সেন্টার ও হাট-বাজার উন্নয়ন এবং ১ হাজার ৫১৬টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকাবাসীর দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ঢাকা ওয়াসা দৈনিক প্রায় ২৭৫ কোটি লিটার সরবরাহ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী ওয়াসাও নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ করছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় আগামী তিন বছরে পল্লি সেক্টরে ১৬ হাজার ১৬০ কিলোমিটার নতুন সড়ক, ৬৯ হাজার মিটার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, ২৭ হাজার ১০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং ১৩ হাজার মিটার ব্রিজ-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ, ৪১৫টি গ্রোথ সেন্টার বা হাট বাজার উন্নয়ন, ১৮৪টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, ১৬০টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নগর অঞ্চলে ৪৯৭ কিলোমিটার রাস্তা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং ২৮২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নগর এলাকায় সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় উন্নয়ন, আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ও প্রাথমিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সেবা অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা শহরের ২৬টি খালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা হতে দুই সিটি করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। খালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে আমাদের উদ্যোগ চলমান থাকবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে বাজেট কমিয়ে আনাকে গ্রামীণ পর্যায়ের উন্নয়নে ধারাবাহিকতা ধরে রাখায় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বরাদ্দ পুরোপরি ব্যবহার করা না গেলে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে।

নগরপরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এবছর এ খাতে বরাদ্দ কমেছে এটা ভালো কিছু না। আমাদের প্রত্যাশা থাকে প্রতিবছর খাত অনুযায়ী বাজেট বাড়বে। পৌরসভা বা ইউনিয়নে অর্থাৎ প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নয়নে বাজেট বাড়ানো দরকার। কারণ আমরা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলছি। বিকেন্দ্রকরণের জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে আরও বাজটে দরকার, সেখানে বরাদ্দ কমে যাওয়া আশাপ্রদ কোনো কথা না। স্থানীয় সরকারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। বাজেট কমানো হলে স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব আয়ে শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশে বাস্তব অর্থে স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব অর্থে শক্তিশালী হতে বলা তাত্বিক কথা। স্থানীয় সরকারের অবস্থা ভালো না, অনেক ইউনিয়ন কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না। স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব অর্থে শক্তিশালী করতে হলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বাড়াতে হবে। এটা সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, বৈশি^ক অর্থনীতিতে অস্থিরতার কারণে বাজেটে অনেক খাতে প্রধান্য এবার কমানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে বরাদ্দ কমানোয় গ্রামীণ উন্নয়নে প্রভাব পড়বে। গ্রামীণ পযার্য়ে কর্মস্থানে ও উন্নয়নে নেতিবেচক প্রভাব পড়বে। তবে যেটা বরাদ্দ করা হয়েছে সুশাসনের মাধ্যমে ব্যয় করা গেলে, গুণগত ব্যয় নিশ্চিত করা গেলে নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা যাবে। নিশ্চিত করতে হবে মেয়াদের মধ্যেই যেন ব্যয় সম্পন্ন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

গ্রামীণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

❖ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়নে কমেছে বরাদ্দ
❖ আগের তুলনায় দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমেছে
❖ মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় জোর বাজেটে

 

 

➢ প্রান্তিক বাজেট কমে যাওয়া আশাপ্রদ না -ড. আদিল মুহাম্মদ খান, নগরপরিকল্পনাবিদ
➢ বরাদ্দ কমানোয় গ্রামীণ উন্নয়নে প্রভাব পড়তে পারে -ড. আইনুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ

 

 

‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। বাজেটে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে ৪৬ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। যা গত অর্থ বছর থেকে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছরে সরকারের এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। গুরত্বপূর্ণ এ খাতে বাজেট কমানোতে গ্রামীণ পর্যায়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা চ্যালেঞ্জের হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাজেট প্রস্তাবকালে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহামুদ আলী বলেন, ‘শেখ হাসিনার মূলনীতি, গ্রাম শহরের উন্নতি’- এই প্রত্যয়ে আমাদের সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধাদির অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রাম ও শহরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি, সংস্কার ও সংরক্ষণ করছে। দেশব্যাপী যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, সুপেয় পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ইত্যাদির মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বিগত ১৫ বছরের ফিরিস্তি দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, সারা দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধাদির সম্প্রসারণে বিগত ১৫ বছরে পল্লি সেক্টরে মোট ৭৮ হাজার ২১৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ, ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৩ কিলোমিটার পাকা পল্লি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৭ মিটার নতুন ব্রিজ নির্মাণ, ১ হাজার ৭৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ এবং ৪১৮টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৯১৯টি গ্রোথ সেন্টার ও হাট-বাজার উন্নয়ন এবং ১ হাজার ৫১৬টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকাবাসীর দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ঢাকা ওয়াসা দৈনিক প্রায় ২৭৫ কোটি লিটার সরবরাহ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী ওয়াসাও নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ করছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় আগামী তিন বছরে পল্লি সেক্টরে ১৬ হাজার ১৬০ কিলোমিটার নতুন সড়ক, ৬৯ হাজার মিটার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, ২৭ হাজার ১০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং ১৩ হাজার মিটার ব্রিজ-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ, ৪১৫টি গ্রোথ সেন্টার বা হাট বাজার উন্নয়ন, ১৮৪টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, ১৬০টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নগর অঞ্চলে ৪৯৭ কিলোমিটার রাস্তা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং ২৮২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নগর এলাকায় সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় উন্নয়ন, আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ও প্রাথমিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সেবা অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা শহরের ২৬টি খালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা হতে দুই সিটি করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। খালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে আমাদের উদ্যোগ চলমান থাকবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে বাজেট কমিয়ে আনাকে গ্রামীণ পর্যায়ের উন্নয়নে ধারাবাহিকতা ধরে রাখায় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বরাদ্দ পুরোপরি ব্যবহার করা না গেলে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে।

নগরপরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের (বিআইপি) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এবছর এ খাতে বরাদ্দ কমেছে এটা ভালো কিছু না। আমাদের প্রত্যাশা থাকে প্রতিবছর খাত অনুযায়ী বাজেট বাড়বে। পৌরসভা বা ইউনিয়নে অর্থাৎ প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নয়নে বাজেট বাড়ানো দরকার। কারণ আমরা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলছি। বিকেন্দ্রকরণের জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে আরও বাজটে দরকার, সেখানে বরাদ্দ কমে যাওয়া আশাপ্রদ কোনো কথা না। স্থানীয় সরকারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। বাজেট কমানো হলে স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব আয়ে শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশে বাস্তব অর্থে স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব অর্থে শক্তিশালী হতে বলা তাত্বিক কথা। স্থানীয় সরকারের অবস্থা ভালো না, অনেক ইউনিয়ন কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না। স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব অর্থে শক্তিশালী করতে হলে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বাড়াতে হবে। এটা সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, বৈশি^ক অর্থনীতিতে অস্থিরতার কারণে বাজেটে অনেক খাতে প্রধান্য এবার কমানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে বরাদ্দ কমানোয় গ্রামীণ উন্নয়নে প্রভাব পড়বে। গ্রামীণ পযার্য়ে কর্মস্থানে ও উন্নয়নে নেতিবেচক প্রভাব পড়বে। তবে যেটা বরাদ্দ করা হয়েছে সুশাসনের মাধ্যমে ব্যয় করা গেলে, গুণগত ব্যয় নিশ্চিত করা গেলে নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনা যাবে। নিশ্চিত করতে হবে মেয়াদের মধ্যেই যেন ব্যয় সম্পন্ন করা হয়।