০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একাধিক ঘটনায় বশেমুরবিপ্রবি ৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার এবং অর্থদন্ড

ধর্মীয় অবমাননা, বান্ধবীর সাথে আড্ডায় মত্ত হয়ে মারামারি এবং শ্রেণীকক্ষ নিজেদের দাবি করাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছে ছয় শিক্ষার্থীকে। তারা সকলেই গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(বশেমুরবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। বহিস্কৃত শিক্ষার্থীদের করা হয়েছে অর্থদন্ডও।
১৩জুন(বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: দলিলুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত তিন বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিস্কারাদেশ জারি করা হয়। এবং এই আদেশগুলো সাংবাদিকদের নিকট ১৪জুন(বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে হস্তান্তর করা হয়।
বহিস্কারাদেশে বলা হয়, গত ১০জুন(সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শৃঙ্খলা সভায় আলোচ্য সূচি ১-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাসুদ মোল্লাকে ৪সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এবং নগদ ২০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা আহত সঞ্জয় দাশের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হবে। আহত সঞ্জয় দাশ কৃষি বিভাগ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ১৪মে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিনসেড এলাকায় অভিযুক্ত মাসুদ মোল্লা কর্তৃক মারাত্মকভাবে জখমের শিকার হন। এতে তার ডান চোঁখের উপরের অংশ ফেঁটে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাসুদ মোল্লাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
শৃঙ্খলা সভার আলোচ্য সূচি-২ এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনায় বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ ২০বিএমবি০১১ পরিচয়ধারী শিক্ষার্থী উৎসব কুমার গাইনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শদাতা ড. শরাফত আলীকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আইন বিভাগের প্রভাষক এবং সহকারী প্রক্টর মো: হুমায়ূন কবীর(কমিটির সচিব), আইন সেল এর সেকশন অফিসার সাজিদুর রহমান(কমিটির সদস্য সচিব)।
এছাড়া শৃঙ্খলা সভার আলোচ্য সূচি-৪ এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ডিবেটিং সোসাইটির মধ্যে টিনসেডের একটি কক্ষকে উভয় পক্ষ নিজেদের বলে দাবি করায় সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়। ঐ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. কামরুজ্জামান-কে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সে ঘটনায় মোট ৪শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এবং অর্থ জরিমানা করা হয়।
বহিস্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান। তাকে ২সেমিস্টার বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সাথে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আইন বিভাগ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমন হোসেনকে এক হাজার টাকা জরিমানা এবং মুচলেকার আদেশ করা হয়েছে। আইন বিভাগ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে এক সেমিস্টার বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সাথে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকার কথা বলা হয়েছে। অন্য আরেক আইন বিভাগ ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ইজাজুর রহমানের সার্টিফিকেট দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ দলিলুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট মোতাবেক শৃঙ্খলা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে অর্থদন্ড কেন করা হয়েছে? কিংবা অর্থদন্ড করা কতটা যুক্তিযুক্ত বলে আপনি মনে করেন? এই প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার বলেন, অর্থদন্ডের বিষয়টি শৃঙ্খলা কমিটির। তারা যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ই-সিগারেট-ভ্যাপ ব্যবহারে ৬ মাসের জেল, ৫ লাখ টাকা জরিমানা

একাধিক ঘটনায় বশেমুরবিপ্রবি ৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার এবং অর্থদন্ড

আপডেট সময় : ০৫:৩২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪
ধর্মীয় অবমাননা, বান্ধবীর সাথে আড্ডায় মত্ত হয়ে মারামারি এবং শ্রেণীকক্ষ নিজেদের দাবি করাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছে ছয় শিক্ষার্থীকে। তারা সকলেই গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(বশেমুরবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। বহিস্কৃত শিক্ষার্থীদের করা হয়েছে অর্থদন্ডও।
১৩জুন(বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: দলিলুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত তিন বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিস্কারাদেশ জারি করা হয়। এবং এই আদেশগুলো সাংবাদিকদের নিকট ১৪জুন(বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে হস্তান্তর করা হয়।
বহিস্কারাদেশে বলা হয়, গত ১০জুন(সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শৃঙ্খলা সভায় আলোচ্য সূচি ১-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাসুদ মোল্লাকে ৪সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এবং নগদ ২০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার সম্পূর্ণ টাকা আহত সঞ্জয় দাশের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হবে। আহত সঞ্জয় দাশ কৃষি বিভাগ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ১৪মে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিনসেড এলাকায় অভিযুক্ত মাসুদ মোল্লা কর্তৃক মারাত্মকভাবে জখমের শিকার হন। এতে তার ডান চোঁখের উপরের অংশ ফেঁটে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাসুদ মোল্লাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
শৃঙ্খলা সভার আলোচ্য সূচি-২ এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনায় বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ ২০বিএমবি০১১ পরিচয়ধারী শিক্ষার্থী উৎসব কুমার গাইনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শদাতা ড. শরাফত আলীকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, আইন বিভাগের প্রভাষক এবং সহকারী প্রক্টর মো: হুমায়ূন কবীর(কমিটির সচিব), আইন সেল এর সেকশন অফিসার সাজিদুর রহমান(কমিটির সদস্য সচিব)।
এছাড়া শৃঙ্খলা সভার আলোচ্য সূচি-৪ এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ডিবেটিং সোসাইটির মধ্যে টিনসেডের একটি কক্ষকে উভয় পক্ষ নিজেদের বলে দাবি করায় সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়। ঐ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. কামরুজ্জামান-কে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সে ঘটনায় মোট ৪শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এবং অর্থ জরিমানা করা হয়।
বহিস্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান। তাকে ২সেমিস্টার বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সাথে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা প্রদান করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আইন বিভাগ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমন হোসেনকে এক হাজার টাকা জরিমানা এবং মুচলেকার আদেশ করা হয়েছে। আইন বিভাগ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে এক সেমিস্টার বহিষ্কার করা হয়েছে। এবং দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সাথে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকার কথা বলা হয়েছে। অন্য আরেক আইন বিভাগ ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ইজাজুর রহমানের সার্টিফিকেট দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ দলিলুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট মোতাবেক শৃঙ্খলা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে অর্থদন্ড কেন করা হয়েছে? কিংবা অর্থদন্ড করা কতটা যুক্তিযুক্ত বলে আপনি মনে করেন? এই প্রশ্নের জবাবে রেজিস্ট্রার বলেন, অর্থদন্ডের বিষয়টি শৃঙ্খলা কমিটির। তারা যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।