০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অর্থ আত্মসাৎ মামলা বাতিল চেয়ে  ঈদের পর হাইকোর্টে আবেদন করবেন ড. ইউনূস

শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে ঈদের পর হাইকোর্টে আবেদন করা হবে। বৃহস্পতিবার  ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন  এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতে আদেশের কপি পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে আমরা আবেদন করব। সেটা রিট আবেদন হতে পারে বা নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

এরআগে বুধবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত। একই সাথে আগামী ১৫ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

আদেশের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনারা দোষী না নির্দোষ। জবাবে ড. ইউনূসসহ ১৪ জন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চান। এর আগে আদালতের নির্দেশে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল অভিযোগগুলো পাঠ করে বলেন, আপনারা দোষী না নির্দোষ। আপনারা কি বিচার চান। তখন লোহার খাঁচার তৈরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ড. ইউনূসসহ ১৪ জনই বলেন, আমরা নির্দোষ।

আদেশের সময় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইইউ, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে বলেন, আমরা এই অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করব। তিনি আরো বলেন ড. ইউনুস মিউনিখ অলিম্পিকসহ বিদেশে বেশ কিছু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ১১ জুলাই তিনি একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যাবেন। দেশে ফিরতে ওনার সময়ের প্রয়োজন হবে। এ জন্য তিনি সাক্ষ্যগ্রহণের আগে দুই মাস সময় আবেদন করেন।

অপর দিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, উনাদের কোনো আবেদন থাকলে ধার্য তারিখে এসে আবার আবেদন করবেন। আদালত উভয়পক্ষে শুনানি শেষে আগামী ১৫ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। এ দিকে বেলা সোয়া ১১টার দিকে আদালত থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ড. ইউনূস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা- এসব শব্দের সাথে পরিচিত নই। অথচ এসব শব্দ আমার ওপর আরোপ করা হচ্ছে। আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, সারা জীবন তো আমরা মানুষের সেবায় কাটিয়েছি। আমরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে এসেছি। এটাই আমাদের ইতিহাস। কিন্তু আমাদের বুঝে আসছে না কেন এই হয়রানি করা হচ্ছে?

গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আছাদুজ্জামানের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্য দিকে গত ২৯ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়।

চার্জশিটভুক্ত ১৪ আসামি হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো: শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও পরিচালক এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো: কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক কামরুল হাসান ও প্রতিনিধি মো: মাইনুল ইসলাম। দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদি হয়ে গত বছরের ৩০ মে মামলাটি করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ।

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থ আত্মসাৎ মামলা বাতিল চেয়ে  ঈদের পর হাইকোর্টে আবেদন করবেন ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০৮:১০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে ঈদের পর হাইকোর্টে আবেদন করা হবে। বৃহস্পতিবার  ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন  এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতে আদেশের কপি পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে আমরা আবেদন করব। সেটা রিট আবেদন হতে পারে বা নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

এরআগে বুধবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত। একই সাথে আগামী ১৫ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

আদেশের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনারা দোষী না নির্দোষ। জবাবে ড. ইউনূসসহ ১৪ জন আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চান। এর আগে আদালতের নির্দেশে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল অভিযোগগুলো পাঠ করে বলেন, আপনারা দোষী না নির্দোষ। আপনারা কি বিচার চান। তখন লোহার খাঁচার তৈরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ড. ইউনূসসহ ১৪ জনই বলেন, আমরা নির্দোষ।

আদেশের সময় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইইউ, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে বলেন, আমরা এই অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করব। তিনি আরো বলেন ড. ইউনুস মিউনিখ অলিম্পিকসহ বিদেশে বেশ কিছু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ১১ জুলাই তিনি একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে যাবেন। দেশে ফিরতে ওনার সময়ের প্রয়োজন হবে। এ জন্য তিনি সাক্ষ্যগ্রহণের আগে দুই মাস সময় আবেদন করেন।

অপর দিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, উনাদের কোনো আবেদন থাকলে ধার্য তারিখে এসে আবার আবেদন করবেন। আদালত উভয়পক্ষে শুনানি শেষে আগামী ১৫ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। এ দিকে বেলা সোয়া ১১টার দিকে আদালত থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ড. ইউনূস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং, অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা- এসব শব্দের সাথে পরিচিত নই। অথচ এসব শব্দ আমার ওপর আরোপ করা হচ্ছে। আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, সারা জীবন তো আমরা মানুষের সেবায় কাটিয়েছি। আমরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে এসেছি। এটাই আমাদের ইতিহাস। কিন্তু আমাদের বুঝে আসছে না কেন এই হয়রানি করা হচ্ছে?

গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আছাদুজ্জামানের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্য দিকে গত ২৯ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়।

চার্জশিটভুক্ত ১৪ আসামি হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো: শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও পরিচালক এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো: কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক কামরুল হাসান ও প্রতিনিধি মো: মাইনুল ইসলাম। দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদি হয়ে গত বছরের ৩০ মে মামলাটি করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিরা ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ।