০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা নিয়ে জটিলতা

❖সময় এসেছে দরকষাকষি বন্ধের : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
❖মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল জটিলতা বাড়াচ্ছেন : হামাস
❖ইসরায়েলকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি হিজবুল্লাহর

গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন ও গাজার শাসক গোষ্ঠী হামাস। এ বিষয়ে হামাসের উদ্দেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, দরকষাকষি বন্ধের সময় এসেছে, কিছু পরিবর্তন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করা গেলেও অন্যগুলো নিয়ে কাজের সুযোগ নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং আলোচনার মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিশর এই চুক্তিটির জন্য চেষ্টা করে যাবে।

গত মঙ্গলবার হামাস বলেছে, তারা এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক তবে তারা গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়েছে। তবে ইসরায়েল সরকার এ নিয়ে মন্তব্য করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন, হামাসের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যানের মতোই। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে প্রস্তাবনা ১২ দিন আগেই দেওয়ার কথা বলেছেন তা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনো অনুমোদন করেননি। ব্লিঙ্কেন অবশ্য বলেছেন, সোমবার জেরুজালেমে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও ওই প্রস্তাবের সমর্থনে একটি প্রস্তাবনা পাস করেছে। উপসাগরীয় দেশটিতে কূটনৈতিক এই সফরের মাধ্যমে ব্লিঙ্কেন আঞ্চলিক সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেন। তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন আব্দুর রহমান আল থানির সঙ্গে হাসিমুখেই সাক্ষাৎ করেছেন। দেশটি এ সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হামাসের রাজনৈতিক শাখার কার্যালয় আছে সেখানে। আবার ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনারও একটি চ্যানেল আছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেনকে কিছুটা উত্তেজিতও দেখা গেছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে হামাস যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে তা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। গত ৬ মে হামাস যেসব প্রস্তাব দিয়েছিল তার সাথে এবারের প্রস্তাব প্রায় অভিন্ন। এর পেছনেই পুরো বিশ্ব আছে। ইসরায়েলও তা গ্রহণ করেছে। এখন হামাস একটিই প্রতিক্রিয়া দিতে পারে এবং তা হলো ‘ইয়েস’। এর পরিবর্তে হামাস দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করলো এবং তারপর অনেকগুলো পরিবর্তনের প্রস্তাব করলো এবং এর কয়েকটি তারা আগেও গ্রহণ করেছে। এর ফলে হামাস যে যুদ্ধ শুরু করেছে তা চলছে এবং আরও মানুষ দুর্ভোগ পোহাবে। ফিলিস্তিনিরা দুর্ভোগে পড়বে আরও ইসরায়েলিরাও দুর্ভোগে পড়বে।

বিঙ্কেন অবশ্য হামাসের পরিবর্তনের দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত বলেননি। হামাস মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে গাজায় আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ এবং ইসরায়েলি সেনাদের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হামাস প্রধান তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়গুলো পরিবর্তন করেছেন এবং জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যেটা প্রেসিডেন্ট বাইডেন উপস্থাপন করেছিলেন।

গত বুধবার দেওয়া আরেক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, সমঝোতায় পৌঁছাতে তারা পুরোপুরি ইতিবাচক। তারা ইসরায়েলকে চাপ দেওয়ার জন্য ব্লিঙ্কেনকে অনুরোধ করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটেও তিনি বলেছেন, কাতার ও মিশরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। আমি বিশ্বাস করি দূরত্ব ঘুচিয়ে আনা সম্ভব। তবে হামাসকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

যুদ্ধবিরতির পথে অন্তরায় ইসরায়েলই :
গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হামাস। আক্ষেপ প্রকাশ করে জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় কেবল জটিলতা বাড়াচ্ছেন, সমাধানের চেষ্টা করছেন না। গত মঙ্গলবার গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার ব্যাপারে হামাসের দেওয়া প্রস্তাব ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করার পর সংগঠনটি এ প্রতিক্রিয়া জানাল। গত বুধবার এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেবাননে হামাসের সিনিয়র প্রতিনিধি ওসামা হামদান বলেন, দখলদার ইসরায়েল-ই গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায়। আমরা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছি, যে পক্ষটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের উত্থাপিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে, সেটি ইসরায়েল। এছাড়া মার্কিন প্রশাসন গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো শক্ত প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে যেতে ইসরায়েলকে সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো বলেন, ব্লিঙ্কেন আসলে কোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন না, বরং তিনি নিজেই সমস্যাকে জটিল করছেন। তিনি মূলত সমস্যার একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট তুলে ধরেছেন এবং যেটি প্রস্তাব আকারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে, সেটির ব্যাপারে ওয়াশিংটন দাবি করছে যে, ইসরায়েল তা মেনে নিয়েছে। কিন্তু আমরা তেল আবিবের পক্ষ থেকে তেমন কোনো বক্তব্য শুনিনি। বরং ইসরায়েল বারবার স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এড়িয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল মূলত সামান্য যুদ্ধবিরতি দিয়ে নিজের পণবন্দিদের মুক্ত করে আবার গণহত্যা শুরু করতে চায়। কিন্তু হামাস তা হতে দেবে না।

 

ইসরায়েলকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি হিজবুল্লাহর :
দক্ষিণ লেবাননে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র কমান্ডার শহিদ হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলবিরোধী হামলার ‘পরিমাণ ও গুণগতমান’ ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করার হুমকি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। গত বুধবার এই হুঁশিয়ারি দিয়ে হিজবুল্লাহর নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হাশেম সাফিউদ্দিন বলেন, ইসরায়েল যেন কান্নার প্রস্ততি নেয়। তাদের সেনাবাহিনীকে শিগগিরই ভয়ঙ্করভাবে জবাব দেওয়া হবে। কারা নিহত আবু তালিবের ভাই ও সন্তান ইহুদিবাদী শত্রু তার প্রমাণ দেখতে পাবে। ইসরায়েল কমান্ডারদের হত্যা করে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে পারবে না। উল্টো ইসরায়েল যেন এখন থেকে আরও কঠিন জবাবের অপেক্ষায় থাকে। ইহুদিবাদী শত্রু এখনো নির্বোধই রয়ে গেছে এবং সে অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি।

সে এখনো ভাবছে, নেতাদের হত্যা করলে প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু অভিজ্ঞতা বারবার একথা প্রমাণ করেছে, কোনো নেতা শহিদ হলে প্রতিরোধ আরও তীব্র ও ক্ষুরধার হয়। উত্তর ইসরায়েলে তাদের ওপর যা ঘটেছে তার জন্য শত্রু যদি চিৎকার করে ও হাহাকার করে, তাহলে তাদেরকে কাঁদতে ও বিলাপ করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে দিন। এদিকে হিজবুল্লাহর শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারের শাহাদাতের ঘটনায় আলাদা আলাদা বিৃবতিতে হিজবুল্লাহ নেতাদের সমবেদনা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইসলামি জিহাদ আন্দোলন।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মাসেও উদ্ধার হয়নি পুলিশের সেই ‘হ্যান্ডকাফ’

যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা নিয়ে জটিলতা

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

❖সময় এসেছে দরকষাকষি বন্ধের : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
❖মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল জটিলতা বাড়াচ্ছেন : হামাস
❖ইসরায়েলকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি হিজবুল্লাহর

গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন ও গাজার শাসক গোষ্ঠী হামাস। এ বিষয়ে হামাসের উদ্দেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, দরকষাকষি বন্ধের সময় এসেছে, কিছু পরিবর্তন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করা গেলেও অন্যগুলো নিয়ে কাজের সুযোগ নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং আলোচনার মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিশর এই চুক্তিটির জন্য চেষ্টা করে যাবে।

গত মঙ্গলবার হামাস বলেছে, তারা এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক তবে তারা গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়েছে। তবে ইসরায়েল সরকার এ নিয়ে মন্তব্য করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন, হামাসের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যানের মতোই। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে প্রস্তাবনা ১২ দিন আগেই দেওয়ার কথা বলেছেন তা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনো অনুমোদন করেননি। ব্লিঙ্কেন অবশ্য বলেছেন, সোমবার জেরুজালেমে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও ওই প্রস্তাবের সমর্থনে একটি প্রস্তাবনা পাস করেছে। উপসাগরীয় দেশটিতে কূটনৈতিক এই সফরের মাধ্যমে ব্লিঙ্কেন আঞ্চলিক সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেন। তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন আব্দুর রহমান আল থানির সঙ্গে হাসিমুখেই সাক্ষাৎ করেছেন। দেশটি এ সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হামাসের রাজনৈতিক শাখার কার্যালয় আছে সেখানে। আবার ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনারও একটি চ্যানেল আছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেনকে কিছুটা উত্তেজিতও দেখা গেছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে হামাস যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে তা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। গত ৬ মে হামাস যেসব প্রস্তাব দিয়েছিল তার সাথে এবারের প্রস্তাব প্রায় অভিন্ন। এর পেছনেই পুরো বিশ্ব আছে। ইসরায়েলও তা গ্রহণ করেছে। এখন হামাস একটিই প্রতিক্রিয়া দিতে পারে এবং তা হলো ‘ইয়েস’। এর পরিবর্তে হামাস দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করলো এবং তারপর অনেকগুলো পরিবর্তনের প্রস্তাব করলো এবং এর কয়েকটি তারা আগেও গ্রহণ করেছে। এর ফলে হামাস যে যুদ্ধ শুরু করেছে তা চলছে এবং আরও মানুষ দুর্ভোগ পোহাবে। ফিলিস্তিনিরা দুর্ভোগে পড়বে আরও ইসরায়েলিরাও দুর্ভোগে পড়বে।

বিঙ্কেন অবশ্য হামাসের পরিবর্তনের দাবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত বলেননি। হামাস মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে গাজায় আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ এবং ইসরায়েলি সেনাদের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হামাস প্রধান তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়গুলো পরিবর্তন করেছেন এবং জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যেটা প্রেসিডেন্ট বাইডেন উপস্থাপন করেছিলেন।

গত বুধবার দেওয়া আরেক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, সমঝোতায় পৌঁছাতে তারা পুরোপুরি ইতিবাচক। তারা ইসরায়েলকে চাপ দেওয়ার জন্য ব্লিঙ্কেনকে অনুরোধ করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটেও তিনি বলেছেন, কাতার ও মিশরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। আমি বিশ্বাস করি দূরত্ব ঘুচিয়ে আনা সম্ভব। তবে হামাসকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

যুদ্ধবিরতির পথে অন্তরায় ইসরায়েলই :
গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হামাস। আক্ষেপ প্রকাশ করে জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় কেবল জটিলতা বাড়াচ্ছেন, সমাধানের চেষ্টা করছেন না। গত মঙ্গলবার গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার ব্যাপারে হামাসের দেওয়া প্রস্তাব ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করার পর সংগঠনটি এ প্রতিক্রিয়া জানাল। গত বুধবার এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেবাননে হামাসের সিনিয়র প্রতিনিধি ওসামা হামদান বলেন, দখলদার ইসরায়েল-ই গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায়। আমরা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছি, যে পক্ষটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের উত্থাপিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে, সেটি ইসরায়েল। এছাড়া মার্কিন প্রশাসন গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য যেকোনো শক্ত প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে যেতে ইসরায়েলকে সহযোগিতা করছে।

তিনি আরো বলেন, ব্লিঙ্কেন আসলে কোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন না, বরং তিনি নিজেই সমস্যাকে জটিল করছেন। তিনি মূলত সমস্যার একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট তুলে ধরেছেন এবং যেটি প্রস্তাব আকারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে, সেটির ব্যাপারে ওয়াশিংটন দাবি করছে যে, ইসরায়েল তা মেনে নিয়েছে। কিন্তু আমরা তেল আবিবের পক্ষ থেকে তেমন কোনো বক্তব্য শুনিনি। বরং ইসরায়েল বারবার স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এড়িয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েল মূলত সামান্য যুদ্ধবিরতি দিয়ে নিজের পণবন্দিদের মুক্ত করে আবার গণহত্যা শুরু করতে চায়। কিন্তু হামাস তা হতে দেবে না।

 

ইসরায়েলকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি হিজবুল্লাহর :
দক্ষিণ লেবাননে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র কমান্ডার শহিদ হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলবিরোধী হামলার ‘পরিমাণ ও গুণগতমান’ ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করার হুমকি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। গত বুধবার এই হুঁশিয়ারি দিয়ে হিজবুল্লাহর নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হাশেম সাফিউদ্দিন বলেন, ইসরায়েল যেন কান্নার প্রস্ততি নেয়। তাদের সেনাবাহিনীকে শিগগিরই ভয়ঙ্করভাবে জবাব দেওয়া হবে। কারা নিহত আবু তালিবের ভাই ও সন্তান ইহুদিবাদী শত্রু তার প্রমাণ দেখতে পাবে। ইসরায়েল কমান্ডারদের হত্যা করে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করতে পারবে না। উল্টো ইসরায়েল যেন এখন থেকে আরও কঠিন জবাবের অপেক্ষায় থাকে। ইহুদিবাদী শত্রু এখনো নির্বোধই রয়ে গেছে এবং সে অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি।

সে এখনো ভাবছে, নেতাদের হত্যা করলে প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু অভিজ্ঞতা বারবার একথা প্রমাণ করেছে, কোনো নেতা শহিদ হলে প্রতিরোধ আরও তীব্র ও ক্ষুরধার হয়। উত্তর ইসরায়েলে তাদের ওপর যা ঘটেছে তার জন্য শত্রু যদি চিৎকার করে ও হাহাকার করে, তাহলে তাদেরকে কাঁদতে ও বিলাপ করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে দিন। এদিকে হিজবুল্লাহর শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারের শাহাদাতের ঘটনায় আলাদা আলাদা বিৃবতিতে হিজবুল্লাহ নেতাদের সমবেদনা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইসলামি জিহাদ আন্দোলন।